Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বিডিওর ভূমিকায় ক্ষুব্ধ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি

বিডিওর ভূমিকায় ক্ষুব্ধ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি
  • ১৫ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, হরিশ্চন্দ্রপুর: বিডিওর কাজে রুষ্ট হয়ে রতুয়া-১ ব্লক প্রশাসনিক ভবনের সামনেই তুমুল বিক্ষোভ দেখালেন তৃণমূল পরিচালিত পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি সহ অন্য সদস্যরা। চলল দিনভর অবস্থানও। বৃহস্পতিবার এই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ, পঞ্চায়েত সমিতিকে অন্ধকারে রেখে ব্লক প্রশাসন সরকারি প্রকল্পের কাজ করছে। খোদ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি ব্লক প্রশাসনের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ তুলেছেন। নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করার অভিযোগে পঞ্চায়েত সমিতি ভবন সংস্কারের কাজই এদিন বন্ধ করে দেন পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতির নেতৃত্বে সদস্যরা। তাঁরা বিডিওর অপসারণ চেয়েছেন। আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি তৃণমূলের শাহানাজ বেগম বলেন, আমরা বিডিওর অপসারণ দাবি করছি। পুরো বিষয়টি চাঁচল মহকুমা প্রশাসন খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছে। সরকারি প্রকল্পের বাস্তবায়নে ব্লক প্রশাসন পঞ্চায়েত সমিতির সঙ্গে কোনও সমন্বয় রাখছে না বলে অভিযোগ পঞ্চায়েত সমিতির। পথশ্রী, আবাস যোজনা, পঞ্চায়েত সমিতির ভবন সংস্কার সহ অন্য প্রকল্পের কাজ বিডিও নিজের খেয়াল খুশিমতো কাজ করছেন বলে অভিযোগ। সেই ক্ষোভে বিক্ষোভকারীরা ভবন সংস্কার বন্ধ করে দেন। যদিও কাজের বরাত পাওয়া ঠিকাদার সংস্থার অভিযোগ, পঞ্চায়েত সমিতিকে কাটমানি না দেওয়ায় তারা এদিন কাজ বন্ধ করেছে। এই অভিযোগ তুলতেই ঠিকাদার সংস্থার সঙ্গে পঞ্চায়েত সমিতির সদস্যদের গণ্ডগোল বেধে যায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি সামাল দেয় রতুয়া থানার পুলিস।  ঠিকাদার মহম্মদ নিজামুদ্দিন বলেন, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী আমরা কাজের বরাত পেয়েছি। বিডিও সাহেবের নির্দেশে কাজ শুরু হয়েছে। কিন্তু পঞ্চায়েত সমিতির একাংশ এবং তাঁদের আশ্রিত কিছু দুষ্কৃতী শ্রমিকদের মারধর করে কাজ বন্ধ করে দেন। আমাদের দু’জন ঠিকাদারকেও মারধর করেন। পুলিস এসে উদ্ধার করেছে। এই প্রসঙ্গে  পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ শেখ মিনু বলেন, মারধরের অভিযোগ ভিত্তিহীন। পঞ্চায়েত সমিতির ভবন সংস্কারের কাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে। তাই সেই কাজ বন্ধ করে পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতির নেতৃত্বে আমরা অবস্থান বিক্ষোভে শামিল হয়েছি। পঞ্চায়েত সমিতিকে অন্ধকারে রেখে  বিডিও মর্জিমতো কাজ করছেন। পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি শাহানাজ বেগম বলেন, ব্লক প্রশাসন পঞ্চায়েত সমিতিকে অন্ধকারে রেখে সরকারি প্রকল্পের কাজ করছেন। এই বিষয়ে জুলাই মাসে ব্লক প্রশাসনকে লিখিত জানানো হয়। আবার পঞ্চায়েত সমিতির ভবন সংস্কারের কাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে। যদিও এই বিষয়ে বিডিও রাকেশ টোপ্পোর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনও উত্তর দেননি। চাঁচল মহকুমা শাসক শৌভিক মুখোপাধ্যায় বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ