নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: ১৫আগস্ট স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে সরকারি ছুটিতে বাড়ি গিয়েছিলেন জয়েন্ট বিডিও এবং পঞ্চায়েত ডেভেলপমেন্ট অফিসার। জেলাশাসককে না জানিয়েই তাঁরা নিখোঁজ বলে থানায় ডায়েরি করেছিলেন পটাশপুর-১ বিডিও। সেই মিসিং ডায়েরি নিয়ে বিস্তর বিতর্ক হয়। অবশেষে সেই বিডিওকে বদলি করল রাজ্য। সোমবার নবান্নের জারি করা এক নির্দেশিকায় বিডিও বিধানচন্দ্র বিশ্বাসকে উপভোক্তা বিষয়ক দপ্তরের ওএসডি পদে বদলি করা হয়েছে। তাঁর জায়গায় বিডিও হিসেবে যোগ দেবেন ২০২৫সালের ডব্লুবিসিএস অফিসার শান্ত চক্রবর্তী। তিনি তমলুকে জেলা হেড কোয়ার্টারে ছিলেন। সোমবার সন্ধ্যা নাগাদ ওই বদলির অর্ডার সামনে আসতেই প্রশাসনিক মহলে শোরগোল পড়েছে। জেলাশাসক পূর্ণেন্দু মাজী বলেন, পটাশপুর-১ বিডিও বদলি হয়েছেন। আমাকে না জানিয়ে থানায় মিসিং ডায়েরি করার ঘটনা ঘটেছিল।
উল্লেখ্য, স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে সরকারি ছুটিতে বাড়ি যাওয়ায় বিডিওর সঙ্গে জয়েন্ট বিডিও এবং পঞ্চায়েত ডেভেলপমেন্ট অফিসার বা পিডিওর ঝামেলা বাধে। আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান কর্মসূচি, ভোটার তালিকার কাজের ব্যস্ততা থাকায় বিডিও তাঁদের বাড়ি যেতে নিষেধ করেন। যদিও সেই নিষেধ না মেনেই জয়েন্ট বিডিও রিমা পাত্র এবং পিডিও রামচন্দ্র মাজি ১৪আগস্ট অফিস করার পর বাড়ি রওনা দেন। তাঁর নির্দেশ না মেনে দুই অফিসারের বাড়ি যাওয়ার ঘটনা হাল্কাভাবে নেননি বিডিও। স্বাধীনতা দিবসের দিনই তিনি পটাশপুর থানায় হাজির হন। তাঁর অফিসের দুই আধিকারিক নিখোঁজ বলে জয়েন্ট বিডিও এবং পিডিওর নাম ও ঠিকানা সহ মিসিং ডায়েরি করেন। সেই কপি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়।
দুই অফিসার তখন জানিয়েছিলেন, তাঁরা ছুটিতে বাড়ি গিয়েছেন। মোবাইল চালু রয়েছে। সুতরাং নিখোঁজ ডায়েরি করার মতো কোনও ঘটনা ঘটেনি। বিডিওর এভাবে থানায় গিয়ে মিসিং ডায়েরি করার আগে জেলাশাসককে জানানো উচিত ছিল বলে জেলা প্রশাসন মনে করছে। ঘটনায় বিডিওর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এরপরই তাঁকে বদলি করার সিদ্ধান্ত হল। সোমবার তাঁকে পটাশপুর-১ ব্লক থেকে সরিয়ে দেওয়া হল।
বিডিও ঘনিষ্ঠ মহলে জানান, সরকারি ছুটিতেও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কর্মস্থল ছেড়ে বাইরে(স্টেশন লিভ) যাওয়া যায় না। সরকারি নিয়মে এমনটাই উল্লেখ আছে। তাছাড়া, জয়েন্ট বিডিও রিমাদেবী ‘আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান’ এবং দুয়ারে সরকার প্রোগ্রামের ব্লক নোডাল অফিসার। এছাড়াও তিনি পটাশপুর বিধানসভার অ্যাসিস্ট্যান্ট ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার।
পঞ্চায়েত ডেভেলপমেন্ট অফিসার রামচন্দ্রবাবু আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান এবং দুয়ারে সরকার কর্মসূচির অফিসার ইনচার্জ। তিনিও পটাশপুর বিধানসভার অ্যাসিস্ট্যান্ট ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার। তাঁদের অনুপস্থিতিতে দুই কাজই ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা ছিল। সেকারণে ছুটিতে বাড়ি যাওয়া নিয়ে ঝামেলা বাধে। তাতে এভাবে থানায় যাওয়াটা বাড়াবাড়ি হয়েছে বলে প্রশাসনের একাংশ মনে করছে। যদিও পরদিন বিডিও থানায় গিয়ে মিসিং ডায়েরি প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। কিন্তু, তারআগেই ঘটনাটি সংবাদ মাধ্যমে শিরোনামে আসে।