সংবাদদাতা, লালবাগ: বড়দিনের আগে ছুটির দিন রবিবারে মুর্শিদাবাদের হাজারদুয়ারী প্যালেস ও প্রকৃতি তীর্থ সহ দর্শনীয় স্থানগুলিতে পর্যটকদের ঠাসা ভিড় ছিল। এদিন সকাল থেকে হাজারদুয়ারি প্যালেস মিউজিয়াম ও প্রকৃতি তীর্থের টিকিট কাউন্টারের সামনে পর্যটকদের লম্বা লাইন লক্ষ্য করা যায়। একটু বেলা হতেই হাজারদুয়ারি চত্বরে সবুজ ঘাসে দুপুরের রোদ মেখে পর্যটকদের গল্পগুজব করতে দেখা যায়। সারাদিন ধরেই মুর্শিদাবাদ শহর এবং সংলগ্ন ইতিহাসিক স্থানগুলিতে পর্যটকদের টাঙা ও টোটোয় চেপে ঘুরতে দেখা যায়। বড়দিনের আগেই পর্যটকদের ঢল নামায় খুশির হাওয়া জেলার পর্যটন শিল্পের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন পেশার মানুষের মধ্যে। মুর্শিদাবাদ শহরে ঘুরতে আসা পর্যটকদের জন্য মুর্শিদাবাদ পুরসভার পক্ষ থেকে জল ও টয়লেট পরিষেবা চালু করা হয়েছে এবং পর্যটক সহায়তা কেন্দ্র খোলা হয়েছে। বড়দিন উপলক্ষ্যে রবিবার থেকেই পর্যটকদের ঢল নামায় মুর্শিদাবাদ শহর এবং শহর সংলগ্ন পার্শ্ববর্তী এলাকায় পুলিসি নজরদারী ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। হাজারদুয়ারি প্যালেস সহ তিনটি প্রধান টুরিস্ট স্পটে এদিন থেকেই অতিরিক্ত পুলিস মোতায়েন করা হয়েছে। ইতিহাসের শহর মুর্শিদাবাদ। এই শহর ও শহর সংলগ্ন এলাকাজুড়ে রয়েছে নবাবি আমলের স্থাপত্য নিদর্শন প্রাসাদ, অট্টালিকা, মন্দির, মসজিদ, স্মৃতি সৌধ, সমাধি। সারা বছর ধরে দেশ বিদেশের পর্যটকদের আনাগোনা লেগেই থাকে নবাবি তালুক মুর্শিদাবাদে। পর্যটন শিল্পের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন পেশার মানুষের বক্তব্য অনুযায়ী, সারা বছর পর্যটকদের আনাগোনা থাকলেও ২৫ ডিসেম্বর থেকে পর্যটনের ভরা মরশুম শুরু হয়ে ২৬ জানুয়ারি পর্যন্ত চলে। এদিকে ২৫ ডিসেম্বর পর্যটনের ভরা মরশুম শুরুর আগেই রবিবার থেকে পর্যটকদের ঢল নামল। জেলা ও জেলার বাইরে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকরা এসেছিলেন। কলকাতা থেকে স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে শনিবার রাতে মুর্শিদাবাদ এসে পৌঁছন ব্যাঙ্ককর্মী সৌমিত্র পাল। প্রবেশ গেটের সামনে স্ত্রী মেয়েকে নিয়ে লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। বললেন, দু’দিনের ট্যুরে নবাবের শহরে ঘুরতে এসেছি। হাজারদুয়ারি দেখে দুপুরের পর মোতিঝিলে যাব। পিছনেই দাঁড়িয়ে ছিলেন নবদ্বীপের বাসিন্দা মানস দাস। তিনি বলেন, বছর সাতেক আগে ডিসেম্বর মাসের শেষের দিকে এসেছিলাম। তখন এতটা ভিড় ছিল না। মুর্শিদাবাদের প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়ছে এবং পর্যটকের সংখ্যা বাড়ছে এটা দেখে খুব ভাল লাগছে। প্রকৃতি তীর্থে বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে এসেছিলেন মালদার বাসিন্দা হামিদ মোল্লা। তিনি বলেন, আমাদের রাজ্যে প্রকৃতির কোলে এইরকম পার্ক খুব কম আছে বলে আমার মনে হয়। তবে অনেক কিছুই অকেজো হয়ে পড়ে রয়েছে।
Advertisement
স্থানীয় এক হোটেল ব্যবসায়ী বলেন, ২৫ ডিসেম্বর থেকে মুর্শিদাবাদে পর্যটকদের ভিড় হয়। তার আগে এরকম ভিড় হয় না। পর্যটকদের ঢল দেখে মনে হচ্ছে চলতি মরশুমে পর্যটন শিল্পের সঙ্গে যুক্ত সকলের ভালো লক্ষ্মীলাভ হবে। এদিকে বড় দিনে কোনওপ্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে রবিবার থেকেই স্থানীয় পুলিস প্রশাসনের পক্ষ থেকে নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। লালবাগ মহকুমা পুলিস আধিকারিক আকুলকর রাকেশ মহাদেব বলেন, তিনটি প্রধান টুরিস্ট স্পট হাজারদুয়ারী প্যালেস, প্রকৃতি তীর্থ এবং কাঠগোলা বাগান ও প্রাসাদে এদিন থেকেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানো হয়েছে। শহরে যানজট রুখতে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। এছাড়াও যথার্থ প্রমাণপত্র দেখেই পর্যটকদের ঘর ভাড়া দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন পার্কে পিকনিকে ডিজে বাজানো নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।



