নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: বড়দিনের আগে ঝাড়গ্রাম জেলায় পিকনিকের ধুম পড়েছে। জেলার পাহাড়, জঙ্গল, নদী তীরবর্তী এলাকায় বহু মানুষ পিকনিক করতে আসছেন। বিশেষত ঝাড়গ্রাম শহর লাগোয়া শালবনে ভিড় উপচে পড়ছে। কারণ এখানে পিকনিকের আনন্দের সঙ্গে বাড়তি পাওনা জুলজিক্যাল পার্কের ভিতর চিতা, ভাল্লুক, হরিণ ও অন্য পশুপাখিদের দেখা পাওয়া। ঝাড়গ্রামের ডিএফও উমর ইমাম বলেন, প্রতিদিন হাজারের ওপর মানুষ জুলজিক্যাল পার্কে বেড়াতে আসছেন। তাঁদের একটা অংশ পিকনিক করতে আসা মানুষ।
Advertisement
রাজ্যের অন্যতম পর্যটনস্থল ঝাড়গ্রাম। জেলার ঝাড়খণ্ড সীমানার কাছে উত্তরে বাঁশপাহাড়ীর পাদদেশজুড়ে জঙ্গল ও ছোট ছোট আদিবাসী গ্ৰাম। দক্ষিণে জঙ্গল ও ছোট জনপদ ছুঁয়ে রূপনারায়ণ নদী বয়ে গিয়েছে। সমতলের বিস্তীর্ণ জঙ্গলে বন্য হাতির পাল ঘুরে বেড়ায়। আদিবাসী গ্রাম থেকে ভেসে আসে ধামসা-মাদলের আওয়াজ। দূরদূরান্ত থেকে পর্যটকরা এর টানে এখানে আসেন। শীতে পিকনিকে সেই ভিড় আরও বাড়ে।পরিস্রুত পানীয় জল, রান্নার প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র, গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা থাকায় ঝাড়গ্রাম শহর লাগোয়া শালবনের জঙ্গল পিকনিকের অন্যতম জায়গা হয়ে উঠেছে। তবে এখানে পিকনিক করতে কিছু নিয়ম মানতে হয়। পিকনিক স্পটে থার্মোকলের সামগ্রী ব্যবহার করা যায় না। মাদকদ্রব্য ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হয়। গাড়ি নিয়ে প্রবেশ নিষিদ্ধ। নিয়ম ভাঙলেই হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। ছুটির দিনে এখানে পিকনিকে সবচেয়ে বেশি ভিড় হচ্ছে। আশপাশের জেলার মানুষও এখানে পিকনিক করতে আসছেন। পশ্চিম মেদিনীপুরের দাসপুরের বাসিন্দা সুকুমার মান্না বলেন, ৮০জনের দল পিকনিক করতে এসেছি। শালবনের সামনেই জুলজিক্যাল পার্ক। পিকনিকে এসে পার্কও ঘোরা হল।শুভেন্দু রাউত বলেন, আমাদের একটি সংগঠনের তরফে এখানে পিকনিক করতে এসেছি। পানীয় জল, গাড়ি রাখার ভালো ব্যবস্থা আছে। পার্কে ঘোরা অবশ্যই বাড়তি পাওনা।পশ্চিম মেদিনীপুরের এনায়েতপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গৌতম বিশুই বলেন, প্রতিবছরই পড়ুয়াদের নিয়ে এখানে আসি। এবারও চতুর্থ শ্রেণির ২৫জন পড়ুয়াকে নিয়ে এসেছি। চিড়িয়াখানার পশুপাখিদের দেখার জন্য ওরা মুখিয়ে থাকে। পার্ক লাগোয়া খাবারের দোকানের মালিক শঙ্কর মাইতি বলেন, শীত পড়তেই পর্যটকদের আসা শুরু হয়েছে। শালবনের জঙ্গলে হইহই করে পিকনিক হচ্ছে। জুলজিক্যাল পার্ক থাকার কারণেই এখানে পিকনিকে এত ভিড় হয়। আমাদেরও দোকানে বেচাকেনা বাড়ে। ঝাড়গ্রাম হোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শিবাশিস চট্টোপাধ্যায় বলেন, ঝাড়গ্রাম জুলজিক্যাল পার্ক নতুন করে সাজিয়ে তোলা হচ্ছে। নানা প্রজাতির পাখি নিয়ে আসা হচ্ছে। কিছুদিনের মধ্যে বাঘ ও কুমির আনা হবে। পিকনিকের জন্য মানুষ এই জায়গা বেছে নেওয়ায় জেলার পর্যটনের ভালোই প্রচার হচ্ছে।



