Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বড়দিনের আগে ঝাড়গ্রাম, বেলপাহাড়িতে ৮০ শতাংশ হোটেল, রিসর্টে আগাম বুকিং

বড়দিনের আগে ঝাড়গ্রাম, বেলপাহাড়িতে ৮০ শতাংশ হোটেল, রিসর্টে আগাম বুকিং
  • ৮ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, মেদিনীপুর: খড়্গপুর পুরসভার চেয়ারপার্সনকে ধাক্কাধাক্কি, গলা টিপে ধরা সহ হেনস্তার অভিযোগ উঠল এক তৃণমূল কর্মীর বিরুদ্ধে। শুক্রবার রাতে শহরের শ্রীকৃষ্ণপুরে চেয়ারপার্সনের বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে। ওই রাতেই অভিযুক্ত মহম্মদ ইসানকে আটক করে পুলিস। চেয়ারপার্সন কল্যাণী ঘোষ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। এই ঘটনায় শহরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছেন বিরোধীরাও। পুলিস জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এদিকে এরকম একটা ঘটনায় অভিযুক্তকে এখনও পুলিস গ্রেপ্তার না করায় চর্চা শুরু হয়েছে শহরে। 
Advertisement
ওইদিন রাত প্রায় সাড়ে দশটা নাগাদ ওই তৃণমূল কর্মী চেয়ারপার্সনের বাড়িতে আসে। তখন চেয়ারপার্সন বাড়ির অফিস বন্ধ করে ঘরে ঢুকে গিয়েছেন। নীচ থেকে ওই কর্মী ফোনে তাঁকে বলে, জাতিগত শংসাপত্রে সই করাতে এসেছি। চেয়ারপার্সন তাকে পরের দিন শনিবার সকালে আসতে বলেন। অভিযোগ এরপরই ওই যুবক চেয়ারপার্সনকে উদ্দেশ্য করে অশ্রাব্য গালিগালাজ দিতে থাকে। চেয়ারপার্সন বলেন, আমি নীচে নেমে এলে ওই কর্মী আমাকে ধাক্কাধাক্কি করে, গালিগালাজ দেয়। আমরা গলা টিপে ধরে। চিৎকার চেঁচামেচি শুনে প্রতিবেশীরা বেরিয়ে আসলে ওই যুবক তাঁদের সঙ্গেও বচসা শুরু করে দেয়। তাঁদেরও মারধর করতে গেলে তাঁরা তাকে ধরে রাখেন। আমি পুলিসকে খবর দিলে খড়্গপুর টাউন থানার পুলিস এসে তাকে আটক করে নিয়ে যায়। অভিযোগ ওই যুবককেও মারধর করা হয়। চেয়ারপার্সন বলেন, ওই রাতেই আমি থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করি। তিনি বলেন, অভিযুক্ত তৃণমূল কর্মীর পাশের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের দলীয় অফিসে ওঠা বসা আছে। সে বলে তাকে কেউ পাঠিয়েছে। আমি বিষয়টা জেলা সভাপতিকে জানিয়েছি। তিনি প্রশ্ন তোলেন, শহরের প্রথম নাগরিকের বাড়িতেই যদি চড়াও হয়ে হেনস্তা করা হয়। তাহলে সাধারণ মানুষের কী অবস্থা হবে? আমার তো মনে হচ্ছে আমাকে মারতে এসেছিল। আরও কেউ ছিল কি না, বুঝতে পারছি না। প্রসঙ্গত ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার প্রাক্তন বিধায়ক প্রদীপ সরকার। তিনি চেয়ারম্যানও ছিলেন। তাঁরই অফিসের কথা উল্লেখ করেছেন চেয়ারপার্সন। এব্যাপারে অবশ্য প্রদীপবাবু কোনও মন্তব্য করতে চাননি। 
তৃণমূলের জেলা সভাপতি তথা বিধায়ক সুজয় হাজরা বলেন, একজন চেয়ারম্যান তার ওপর মহিলা। তাঁর বাড়িতে গিয়ে এভাবে চড়াও হওয়ার ঘটনা মেনে নেওয়া যায় না, খুবই অন্যায় কাজ। পুলিস বিষয়টা দেখছে। আমরা বলেছি এর পেছনে কারও যদি মদত থাকে তাহলে তাঁকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ব্যবস্থা নেওয়া হোক। 
পুরসভার বিজেপি কাউন্সিলার অনুশ্রী বেহেরা বলেন, এই ঘটনা মেনে নেওয়া যায় না। আমরা এর বিরোধিতা করছি। তিনি বলেন, প্রথম নাগরিকেরই যদি নিরাপত্তা না থাকে, তাহলে সাধারণ মানুষ কোথায় যাবেন। কংগ্রেস কাউন্সিলার মধু কামি বলেন, এই ঘটনা কোনওভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। আশা করব, আইন আইনের কাজ করবে। 
সম্পর্কিত সংবাদ