Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বড়দিনের আগে ঝাড়গ্রাম, বেলপাহাড়িতে ৮০ শতাংশ হোটেল, রিসর্টে আগাম বুকিং

বড়দিনের আগে ঝাড়গ্রাম, বেলপাহাড়িতে ৮০ শতাংশ হোটেল, রিসর্টে আগাম বুকিং
  • ৮ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: ঝাড়গ্রাম এখন রাজ্যের অন্যতম পর্যটনস্থল।  জঙ্গল, পাহাড়, নদী, রাজাদের ইতিহাসের টানে এখানে পর্যটকরা আসেন। বর্ষবরণ উদযাপনেও জঙ্গলমহলে পর্যটকদের ঢল নামবে। বেশিরভাগ হোটেল, রিসর্ট, হোমস্টের বুকিং হয়ে গিয়েছে। ফলে পর্যটন ব্যবসায়ীদের মুখে চওড়া হাসি ফুটেছে।
Advertisement
ঝাড়গ্রামে বড়দিন ও বর্ষবরণ উদযাপনের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। শীত পড়তেই পর্যটক আসা শুরু হয়ে গিয়েছে। অরণ্য শহর ও বেলপাহাড়ীর ৮০শতাংশ লজ, হোটেল, রিসর্ট, হোমস্টে বুকিং হয়ে গিয়েছে। এবার পুজোর মরশুমে ঘূর্ণিঝড় ও প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণে পর্যটক কম এসেছেন। বছর শেষে পর্যটকদের ঢল নামলে সেই ক্ষতি পুষিয়ে যাবে বলে পর্যটন ব্যবসায়ীরা মনে করছেন।
প্রশাসনের উদ্যোগে জেলার বিভিন্ন পর্যটনস্থল সাজিয়ে তোলা হয়েছে। নতুন রাস্তাঘাট হয়েছে। আগে রাস্তা না থাকায় অনেক পর্যটনস্থলে যাওয়া যেত না। এখন পর্যটকরা সহজে সেখানে যেতে পারছেন। ঝাড়গ্রাম হোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য বলছে, ২০১০সালে সারা বছরে জেলায় মাত্র ২৬জন পর্যটক এসেছিলেন। ২০১১সালে বর্ষশেষের সপ্তাহে ১৩৮জন পর্যটক এসেছিলেন। ২০১২ সালে বর্ষশেষের সপ্তাহে সেই সংখ্যা বেড়ে দেড়হাজার হয়। ২০১৩ সালে তা একলাফে তিনহাজারে পৌঁছয়। এখন সারাবছর প্রায় এক লক্ষের কাছাকাছি পর্যটক জঙ্গলমহলে বেড়াতে আসেন।
ঝাড়গ্রাম হোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শিবাশিস চট্টোপাধ্যায় বলেন, রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে একসময় এখানে পর্যটক আসতেন না। পর্যটন ব্যবসা প্রায় মুখ থুবড়ে পড়েছিল। ধীরে ধীরে পর্যটন ব্যবসা ঘুরে দাঁড়িয়েছে। বর্ষবরণের আগে জেলার বেশিরভাগ হোটেল, লজ, রিসর্ট, হোমস্টে বুকিং হয়ে গিয়েছে। বহু পর্যটক এবার এখানে আসছেন। আমাদের তরফেও সবরকম প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে।
ঝাড়গ্রাম শহরের হোমস্টে মালিক মধুসূদন কর্মকার বলেন, জেলায় ১০২টি হোমস্টে আছে। তার মধ্যে শহরে রয়েছে ৪৭টি। বেশিরভাগ হোমস্টে এবার বুকিং হয়ে গিয়েছে। এবছর পুজোর সময় আশানুরূপ ব্যবসা হয়নি। আশা করছি, বড়দিন ও বর্ষবরণ উপলক্ষে ভালো ব্যবসা হবে।
মানিকপাড়ার হোমস্টের মালিক সুব্রত ঘোষ বলেন, পর্যটন ব্যবসাকে কেন্দ্র করে এখানে নতুন হোটেল, রিসর্ট, হোমস্টে গড়ে উঠেছে। আমার হোমস্টের সব ঘর বুকিং হয়ে গিয়েছে। পর্যটকদের চাহিদামতো ঘর দিতে পারছি না। সরডিহা স্টেশনে স্টিল বা ইস্পাত এক্সপ্রেস থামলে এই এলাকার পর্যটন ব্যবসা আরও বাড়বে।
বেলপাহাড়ী ট্যুরিজম অ্যাসোসিয়েশনের মুখপাত্র বিধান দেবনাথ বলেন, সামনের সপ্তাহ থেকে কাঁকরাঝোর, ঢাঙ্গিকুসুম, আগুইবিল এলাকার হোটেল, রিসর্ট, হোমস্টের ৯০শতাংশ বুকিং হয়ে গিয়েছে। জঙ্গল লাগোয়া এলাকার বিভিন্ন হোমস্টে বড়দিনের সময় থেকে পুরোপুরি বুকিং হয়ে গিয়েছে। গত বছর তুলনায় এবার এখানে বেশি পর্যটক আসতে চলেছে।
সম্পর্কিত সংবাদ