Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বাঁদনা উৎসবে সেজে উঠেছে সাঁতুড়ি ও নিতুড়িয়া ব্লকের গ্রামগুলি

বাঁদনা উৎসবে সেজে উঠেছে সাঁতুড়ি ও নিতুড়িয়া ব্লকের গ্রামগুলি
  • ৯ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
সংবাদদাতা, রঘুনাথপুর: বুধবার থেকে সাঁতুড়ি ও নিতুড়িয়া ব্লকের বাসিন্দারা বাঁদনা তথা সহরায় উৎসবে মেতে উঠেছেন। উৎসব উপলক্ষ্যে ইতিমধ্যে গ্রামগুলি নতুন সাজে সেজে উঠেছে। কর্মসূত্রে গ্রাম ছেড়ে যাঁরা বাইরে রয়েছেন, তাঁরা বাড়ি ফিরেছেন। তবে প্রতিটি গ্রামে একসঙ্গে এই উৎসব শুরু হয় না। ষোলোআনার মিটিংয়ে উৎসবের দিন নির্ধারণ করা হয়।
Advertisement
বাঁদনা পরব উপলক্ষ্যে সাঁওতাল আদিবাসী গ্রামের মহিলারা ঘর নিকোনোর কাজ করেছেন। মাটির দেওয়ালে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে রংবেরঙের ছবি। দেওয়ালে আঁকা হয়েছে হাতি, গোরু ছাড়াও বিভিন্ন পশুপাখির ছবি। প্রতিটি দেওয়াল অপরূপ হয়ে উঠেছে। সাধারণত সাঁওতাল আদিবাসীরা জলজঙ্গল নিয়ে বাস করেন। তাই জঙ্গলের পশুপাখিকে তাঁরা দেবতা হিসেবে পুজো করেন। শুধু তাই নয়, সাঁওতাল আদিবাসীদের জাহের থানে থাকা গাছই হল প্রধান দেবতা। তাই গাছকেও তাঁরা দেবতা হিসেবে পুজো করেন।
বাঁদনা হল কৃষিভিত্তিক উৎসব। বইপুজোর মাধ্যমে যেমন সরস্বতীর বন্দনা করা হয়, তেমনই বাঁদনা হল কৃষিকাজে ব্যবহৃত নানা জিনিসের পুজো। কৃষিকাজে সহায়ক গোরু, মহিষ (কাড়া), লাঙল, গোরুর গাড়ি ঘিরে বাঁদনা উৎসব হয়। এই সময়ে গোরুকে সাজিয়ে তোলা হয়। গোরুর শিংয়ে তেল মাখানো হয়। নতুন ধানের মালা তৈরি করে গোরুকে পরানো হয়।
সাধারণত সাঁতুড়ির ১০৪টি গ্রামের মধ্যে ৭০টির বেশি সাঁওতাল আদিবাসী গ্রাম আছে। সেই গ্রামগুলির মধ্যে কালীপাহাড়ী, লা-পাহাড়ী, কুলাই গ্রামে কার্তিক মাসে বাঁদনা উৎসব হয়। পৌষ মাসে ইতিমধ্যে টাঁড়াবাড়ি, ভগনডির মতো গ্রামের উৎসব শেষ হয়েছে। এদিকে ব্লকের আমবাড়ি, ঢেঁকশিলা, শালবেড়িয়া, খেড়াৎ, খাড়বাড়ের মতো গ্রামে বাঁদনা উৎসব শুরু হচ্ছে।
সহরায় পাঁচদিনের উৎসব। প্রথম দিনকে বলা হয় উম মাহা, দ্বিতীয় দিন দাকা মাহা বা বঙ্গা মাহা, তৃতীয় দিন খুন্টাই, চতুর্থ দিন জালে এবং পঞ্চম দিন গাদয় হিসেবে পালন করা হয়। দিন হিসেবে উৎসব পালনের আলাদা রীতি রয়েছে। উম মাহার অর্থ হল শূচিকরণ বা পবিত্র দিন। এই দিন ঘরবাড়ি ও পোশাক পরিচ্ছন্ন করা হয়। গ্রামের বাইরে যে কোনও অস্থায়ী একটি জায়গায় পুজোর স্থান নির্ধারণ করা হয়। স্নান করে নতুন পোশাক পরে সকলে পুজোর স্থলে যায়। পুরোহিত (নায়কে) সেখানে সমাজের মঙ্গলার্থে পুজো করেন। পুজোয় পায়রা ও মুরগি বলি দেওয়া হয়। উৎসবের দ্বিতীয় দিনকে বলা হয় বঙা মাহা (দেবতা দিবস) বা দাকা মাহা (ভোজ দিবস)। এদিন প্রতি বাড়িতে আত্মীয়স্বজন আসেন। এই দিনে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পায় মেয়ে ও জামাই। তাদের পা ধুয়ে বরণ করা হয়। নতুন কাপড় উপহার দেওয়া হয়। এদিন বিকেলে, সন্ধ্যায় নাচগান হয়। প্রতিটি বাড়িতে প্রচুর খাওয়া দাওয়ার আয়োজন করা হয়। তৃতীয় দিন হল খুন্টায়। এদিন গবাদি পশুকে ঘাস খাওয়ানোর জন্য বাইরে বেঁধে রাখা হয়। মূলত এদিন গবাদি পশুর বন্দনা অর্থাৎ পুজো করা হয়। চতুর্থ দিন হল জালে।
পুরুলিয়ার সিদো কানহো বিরসা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগার বিভাগের কর্মী বেল টুডু বলেন, সহরায় হল সাঁতুড়ি, নিতুড়িয়া ব্লক এলাকার আদিবাসীদের প্রধান উৎসব। উৎসব উপলক্ষ্যে গ্রামগুলি আনন্দে মেতে উঠে। বর্তমানে আদিবাসী ছাড়াও বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষরা উৎসবে শামিল হয়।
সম্পর্কিত সংবাদ