সংবাদদাতা, কৃষ্ণনগর: এই প্রথম শুরু হচ্ছে নান্দনিক নদীয়া ভাষা উৎসব ও মেলা।জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে হচ্ছে এই মেলা। এর উদ্দেশ্য জেলার ভাষা, সংস্কৃতির গৌরবময় ইতিহাস, ঐতিহ্যকে সকলের কাছে তুলে ধরা। একইসঙ্গে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের হস্তশিল্পীদের শিল্পকর্ম ক্রয়ের সুযোগ থাকছে। সেক্ষেত্রে রাজ্যের প্রায় ২০০ হস্তশিল্পী তাঁদের সেরা কাজ নিয়ে উপস্থিত থাকবেন। এছাড়া খাদি হ্যান্ডলুম, তাঁত শিল্পীরাও থাকছেন। ২৫ ডিসেম্বর থেকে ৩০ ডিসেম্বর টানা ৬ দিনের এই মেলার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। তাই চলছে প্রশাসনের ঘন ঘন মিটিং। মেলা ছাড়াও হচ্ছে লিটিল ম্যাগাজিন মেলা, সাহিত্য সভাও। এছাড়াও রাজ্যের বিখ্যাত শিল্পীদের নিয়ে হতে চলেছে সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা। নদীয়া জেলার ভাষা, সংস্কৃতির গৌরবময় ইতিহাস রয়েছে। ৪০০ বছরেরও আগে কৃষ্ণনগরের পত্তন হয়ে যায়।কৃষ্ণনগর, নবদ্বীপ, শান্তিপুর সহ গোটা জেলার আলাদা ভাষা, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য রয়েছে।এই সমস্ত কিছুকে জেলা ও রাজ্যের মানুষের কাছে তুলে ধরার উদ্দেশ্যে হতে চলেছে নান্দনিক নদীয়া ভাষা উৎসব ও মেলা।তবে তার মধ্যেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের হস্তশিল্পীদের শৈল্পিক কাজকর্ম নিয়ে রবীন্দ্রভবন লাগোয়া গভর্নমেন্ট কলেজের মাঠে ২৮ ডিসেম্বর প্রায় ২০০ হস্তশিল্পী তাঁদের সেরা হাতের কাজ নিয়ে হাজির হবেন। সেখানে পুরুলিয়ার ছৌ নাচের মুখোশ, শান্তিনিকেতনের বাটিক প্রিন্টের পোশাক, বিষ্ণুপুরের বালুচরী শাড়ি, ডোকরার গহনা, তাঁতের শাড়ি সহ রাজ্যের একাধিক স্থানের বিখ্যাত হস্তশিল্পের কাজ এখানে থাকবে।বিভিন্ন হস্তশিল্পী ও স্বয়ম্ভর গোষ্ঠী যাতে ভালো ব্যবসা করতে পারে, তার জন্যও ব্যবস্থা নিচ্ছে প্রশাসন। পাশে গাবতলার মাঠে থাকছে ফুড কোর্ট। এছাড়া নাগরদোলা সহ মেলার বিভিন্ন সামগ্রী থাকছে। তবে এর আগে ৩ দিন ২৫ থেকে ২৭ ডিসেম্বর নান্দনিক ভাষা উৎসব হবে। কৃষ্ণনগর রবীন্দ্রভবনে মূলত সাহিত্যের এই অনুষ্ঠান হতে চলেছে। তাতে লিটল ম্যাগাজিন মেলা, সাহিত্য সভা থেকে বিখ্যাত সাহিত্যিকদের সঙ্গে প্রশ্নোত্তর পর্ব থাকবে। সাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়, নৃসিংহ প্রসাদ ভাদুড়ী সহ বিশিষ্টরা অংশ নিতে পারেন। জেলাশাসক অরুণ প্রসাদ বলেন, ‘এ ধরনের বড় অনুষ্ঠান সফল করতে আমরা সব ধরনের ব্যবস্থা নিচ্ছি।’



