নিজস্ব প্রতিনিধি, রায়গঞ্জ: শিশু দত্তক প্রসঙ্গে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে আরও এক ধাপ এগল জেলা সমাজকল্যাণ দপ্তর ও শিশু সুরক্ষা ইউনিট। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শনিবার কর্ণজোড়ায় ডিপিটিআর সেন্টারে চলল তেমনই এক কর্মসূচি। সন্তান দত্তক নেওয়া অভিভাবক ও দত্তক নিতে ইচ্ছুক অভিভাবকদের মুখোমুখি বসিয়ে চলল সচেতনতামূলক আলাপচারিতা। নিঃসন্তান দম্পতিরা শিশু দত্তক নেওয়ার পর তাঁদের বদলে যাওয়া জীবনধারার অভিজ্ঞতা শোনালেন। বুঝিয়ে দিলেন, দত্তক নেওয়া শিশু ঘরে আসার পর থেকে আনন্দে ভরে ওঠা সংসার জীবন। সেইসঙ্গে মিটল বিভ্রান্তিকর বহু চিন্তাধারা। রায়গঞ্জের মহকুমা শাসক কিংশুক মাইতি, জেলার শিশু সুরক্ষা ইউনিটের আধিকারিক অসিত রঞ্জন দাস, ডাইরেক্টরেট অব চাইল্ড রাইটস অ্যান্ড ট্রাফিকিংয়ের অবসরপ্রাপ্ত জয়েন ডিরেক্টর সুপ্রিয় সরকার সহ প্রশাসনিক আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন।
Advertisement
শিশু সুরক্ষা ইউনিটের একটি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৬ সাল থেকে এখনও পর্যন্ত আইন মেনে সর্বমোট ৪৮ জন শিশুকে দত্তক দেওয়া হয়েছে। যার মধ্যে ৯ জন বিদেশে রয়েছে। এদিকে ২০১৪ সাল থেকে এখনও পর্যন্ত জেলা ও বাইরের জেলা থেকে শিশু দত্তক নিতে আবেদন জানিয়েছেন ১৭৭ জন। তারমধ্যে এখন ১১৭ জন আবেদনকারী অভিভাবক শিশু দত্তক নেওয়ার জন্য অপেক্ষায় রয়েছেন। এইসব অভিভাবকদের একত্রে ডেকে সচেতনতামূলক এই কর্মসূচি হল। শুভদীপ সাহা ও পিয়ালী সাহা নামে এক দম্পতি বলেন, ৬ মাস আগে একটি তিন মাসের শিশুকে আমরা দত্তক নিয়ে ছিলাম। তারপর আমাদের জীবনধারা কীভাবে বদলে গিয়েছে, তারই অভিজ্ঞতা দত্তক নিতে ইচ্ছুক অভিভাবকদের সামনে বলেছি। ইতিবাচক দিকগুলি তাঁরা অনুধাবন করেছেন। অন্যদিকে জেলার শিশু সুরক্ষা ইউনিটের আধিকারিক অসিত রঞ্জন দাস বলেন, সন্তান দত্তক নেওয়া নিয়ে আমাদের এই কর্মসূচিতে ইতিবাচক সাড়া মিলেছে। মানুষের মধ্যে জমে থাকা পুরনো ভাবধারা কিছুটা হলেও বদলাবে বলে মনে করছি।



