নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: বিলাসবহুল জীবনযাপনের টোপ দিয়ে গ্রামীণ এলাকার আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া কিশোরীদের টার্গেট করছে পাচারকারীরা। রাজস্থানে ক্রেতার অভাব নেই। ফুঁসলিয়ে নাবালিকাদের সেখানে পৌঁছে দিতে পারলেই মোটা টাকা কমিশন পাওয়া যায়। গলসির কিশোরীকে বিক্রির অভিযোগে পুলিস রাজস্থানের এক ক্রেতাকে গ্রেপ্তার করেছে। তাকে জেরা করে পুলিস বিভিন্ন তথ্য পেয়েছে। সে জানিয়েছে, এক দালালের মাধ্যমেই সে ওই কিশোরীকে কিনেছিল। তাকে বাড়িতে ‘স্ত্রী’র মতো করে রেখে দেওয়া হয়েছিল। একবার কাউকে কিনে নিলে তাকে আর বাড়ি ফিরতে দেওয়া হয় না। ধাপে ধাপে সেখানকার পরিবেশের সঙ্গে তাদের মানিয়ে নিতে বাধ্য করা হয়। কিশোরীরা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও রেহাই পায় না। তার উপর সর্বক্ষণ নজরদারি চলে। পুলিস সুপার সায়ক দাস বলেন, থানায় অভিযোগ হওয়ার পর একটি টিমকে রাজস্থানে পাঠানো হয়। তাঁরা কিশোরীকে উদ্ধার করে এনেছে। একজন গ্রেপ্তার হয়েছে। তাকে জেরা করা হচ্ছে।
Advertisement
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, ভুল বুঝিয়ে জেলার কিশোরীদের ভিনরাজ্যে পাঠিয়ে দেওয়ার ঘটনা এই প্রথম নয়। এর আগে নাদনঘাট, মন্তেশ্বর সহ আরও কয়েকটি এলাকার নাবালিকাদের ভিনরাজ্যে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তাদের উদ্ধার করে আনা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, পাচারকারীরা সোশ্যাল মিডিয়াকে হাতিয়ার করছে। সেটির মাধ্যমেই তারা কিশোরীদের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করে। বিলাসবহুল জীবনের টোপ দিয়ে জালে জড়ানো হচ্ছে। পুলিস সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, গলসির ওই কিশোরী ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর কাউকে কিছু না বলে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়। তারপর আর তার খোঁজ পাওয়া যায়নি। এরপরই পরিবারের লোকজন গলসি থানার দ্বারস্থ হন। একদিন ওই কিশোরী একটি অচেনা নম্বর থেকে আচমকাই বাড়িতে ফোন করে। সে জানায়, তাকে রাজস্থানে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। একটি বাড়িতে আটকে রাখা হয়েছে। ইচ্ছে করলেও বাড়ির বাইরে যেতে পারছে না। প্রতিবেশি এক ব্যক্তির সহযোগিতায় সে বাড়িতে ফোন করছে বলে জানায়। এরপরই পরিবারের লোকজন ফের পুলিসের দ্বারস্থ হয়। পুলিস সুপার বিষয়টি জানার পরই তাকে তড়িঘড়ি উদ্ধারের নির্দেশ দেন। সেই মতো তাকে মঙ্গলবার উদ্ধার করে নিয়ে আসে। ওই নাবালিকার দাবি, তার মতো আরও অনেককেই রাজস্থানে বিক্রি করা হয়েছে। তার সঙ্গে তিন-চারজন কিশোরীকে সেখানে নিয়ে যাওয়া হয়। তারপর থেকে তাদের সঙ্গে আর যোগাযোগ করা যায়নি। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, চক্রের সঙ্গে যুক্ত কয়েকজনের নাম তারা জানতে পেরেছে। তাদের উপরও নজরদারি শুরু হয়েছে। তারা বিভিন্ন অছিলায় অল্পবয়সিদের অন্ধকার জগতে নামাচ্ছে। বিভিন্ন জেলাতে তাদের এজেন্ট ছড়ানো রয়েছে। তারা অল্প বয়সিদের মগজ ধোলাই করে অন্ধকার জগতে নামাচ্ছে বলে অভিযোগ।



