সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: গৃহবধূকে খুনের অভিযোগে শ্বশুরবাড়িতে ব্যাপকভাবে ভাঙচুর চালাল বাপের বাড়ির লোকজন। শনিবার পাত্রসায়রের বলরামপুরের ওই ঘটনায় উত্তেজনা ছড়ায়। খবর পেয়ে পুলিস এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিস জানিয়েছে, মৃতের নাম ময়না ঘোষ(১৯)। ওইদিনই পুলিস মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠায়। পরে বধূর বাপেরবাড়ির লোকজনের অভিযোগ, মেয়েকে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছে। পুলিস অভিযোগের ভিত্তিতে মৃতার শ্বশুর ও ভাসুরকে গ্রেপ্তার করে। ধৃতদের নাম অনিল ঘোষ ও অসিত ঘোষ। তবে মৃতার স্বামী হৃদয় ঘোষ পলাতক। তার খোঁজ চলছে। রবিবার ধৃতদের বিষ্ণুপুর মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক ১৪দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন।
Advertisement
পুলিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, একবছর আগে পাত্রসায়রের বলরামপুরের বাসিন্দা পেশায় দুধের ব্যবসায়ী হৃদয়ের সঙ্গে পদুয়া গ্রামের বাসিন্দা ময়নার বিয়ে হয়। অভিযোগ, বিয়ের পর থেকে হৃদয় সহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন ময়নার উপর নানা অজুহাতে অত্যাচার চালাত। সংসার করার আশায় ময়না সেই সব অত্যাচার মুখ বুজে সহ্য করতেন। বাপের বাড়িতে একাধিকবার তিনি বিষয়টি জানিয়েছিলেন। তাঁরা এনিয়ে জামাইকে বোঝানোর চেষ্টা করেন। শনিবার বাপেরবাড়ির লোকজন প্রতিবেশীদের কাছ থেকে ময়নার মৃত্যুর খবর পান। তাঁরা বলরামপুরে এসে দেখেন, বাড়িতে মৃতদেহ শোয়ানো হয়েছে। গলায় দাগ রয়েছে। বাপেরবাড়ি থেকে আসা আত্মীয় পরিজনরা উত্তেজিত হয়ে পড়েন। তাঁদের একাংশ খুনের অভিযোগ তুলে বাড়িতে যথেচ্ছভাবে ভাঙচুর চালায়। জানালা, দরজা, টিভি, আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়। খবর পেয়ে পুলিস আসে। মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বিষ্ণুপুর জেলা হাসপাতালে পাঠায়। পরে মৃতার বাপের বাড়ির লোকজন ওইদিন রাতে তাঁদের মেয়েকে খুনের অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিস রাতেই মূল অভিযুক্ত হৃদয়ের বাবা অনিল ঘোষ ও দাদা অসিতকে গ্রেপ্তার করে। মৃতার এক আত্মীয় বলেন, বিয়ের প্রথম কিছুদিন সবকিছু ঠিকঠাক থাকলেও ছ’মাস পর থেকে আমাদের মেয়ের উপর নানা অজুহাতে অত্যাচার শুরু হয়। তবে ওরা তাকে একেবারে মেরে ফেলবে, তা আমরা ভাবতে পারিনি। পুলিসের কাছে গোটা ঘটনার উপযুক্ত তদন্ত করে দোষীদের শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে।



