নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদদাতা, রায়গঞ্জ: মঙ্গলবার গভীর রাতে রায়গঞ্জ শহরের কাছে বেকারি কারখানায় বিধ্বংসী আগুন। পর একাধিক অভিযোগ উঠল রায়গঞ্জ দমকল কেন্দ্রের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ও পরিকাঠামো নিয়ে। ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দা থেকে ব্যবসায়ীমহল। আগুন ছড়ানোর আতঙ্কে রাত জাগলেন সোহোরাই এলাকার শতাধিক বাসিন্দা। ঘটনার সূত্রপাত, মঙ্গলবার রাত সাড়ে দশটা নাগাদ। বাহিন গ্রাম পঞ্চায়েতের সোহোরাই এলাকার রায়গঞ্জের অন্যতম নামি বেকারি সংস্থার কারখানায় আগুন লাগে। দাউদাউ করে জ্বলতে থাকে দোতলার অংশ। কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় এলাকা। বিষয়টি নজরে আসতেই আতঙ্ক ছড়ায় বাসিন্দাদের মধ্যে। ততক্ষণে একের পর এক এসি মেশিন বিকট শব্দে ফাটতে শুরু হয়। এদিকে কারখানায় মজুত বেকারির কাঁচামাল সহ দাহ্যবস্তুর জন্য আগুন দ্রুত বিধ্বংসী আকার নেয়। শেষপর্যন্ত ভোর সাড়ে তিনটে নাগাদ আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
Advertisement
স্থানীয় ও ব্যবসায়ী সংগঠনের অভিযোগ, মাত্র ৬ কিমি দূর হলেও খবর দেওয়ার দেড় ঘণ্টা পর পৌঁছয় রায়গঞ্জ দমকল কেন্দ্রের ইঞ্জিন। আগুন নেভানোর কাজে ব্যবহৃত একটি ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়। সেটি চালু করতে স্থানীয় বাসিন্দা ও দমকল কর্মীরা ধাক্কা দিতে থাকেন। ইঞ্জিনের এই বেহাল দশা দেখে ক্ষোভে ফেটে পড়েন বাসিন্দারা।
আগুন নেভানোর কাজ চলাকালীন আচমকা জল ফুরিয়ে যাওয়ায় দমকল কর্মীদের কাজে বাধা পড়ে। বেশ কিছুক্ষণ তাঁদের ঠুঁটো জগন্নাথ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। রায়গঞ্জ মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক অতনু বন্ধু লাহিড়ীর দাবি, দমকলের ব্যবস্থাপনায় আমরা খুব হতাশ। যা পরিস্থিতি তাতে কোনও কারখানা করতে হলে আগে পুকুর খনন করতে হবে মনে হচ্ছে। নাহলে দুর্ঘটনায় মাঠে মারা পড়বেন শিল্পদ্যোগীরা। এই ঘটনার পর মনে হচ্ছে শহরে বহুতল, হাসপাতাল অগ্নিকাণ্ডের ক্ষেত্রে সুরক্ষিত নয়।
সোহোরাই এলাকার বাসিন্দা তনয় বণিকের কথায়, যে কারখানায় আগুন লেগেছে, সেটি নির্মীয়মাণ। আমাদের প্রশ্ন সেখানে বেকারির কাজ চলছিল। নিয়ম মেনে কাজ হচ্ছিল কি না খতিয়ে দেখার সময় এসেছে।আগুন নেভানোর কাজ চলাকালীন আচমকা জল ফুরিয়ে যাওয়ায় দমকল কর্মীদের কাজে বাধা পড়ে। বেশ কিছুক্ষণ তাঁদের ঠুঁটো জগন্নাথ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। রায়গঞ্জ মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক অতনু বন্ধু লাহিড়ীর দাবি, দমকলের ব্যবস্থাপনায় আমরা খুব হতাশ। যা পরিস্থিতি তাতে কোনও কারখানা করতে হলে আগে পুকুর খনন করতে হবে মনে হচ্ছে। নাহলে দুর্ঘটনায় মাঠে মারা পড়বেন শিল্পদ্যোগীরা। এই ঘটনার পর মনে হচ্ছে শহরে বহুতল, হাসপাতাল অগ্নিকাণ্ডের ক্ষেত্রে সুরক্ষিত নয়।
এদিকে আগুন জনবসতি এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় রাতভর জেগে ছিলেন বাসিন্দারা। ভোর চারটে নাগাদ আগুন নিয়ন্ত্রণে এলে সকলে ঘরে ফিরে যান। কারখানার ম্যানেজার রাজীব সুমানি বলেন, দমকল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয়নি। ওদের ব্যবস্থাপনা খুব খারাপ ছিল। একটি ইঞ্জিন বিকল হয়ে গেলে দমকল কর্মীরা ক্ষোভের মুখে পড়েন।
এ প্রসঙ্গে রায়গঞ্জ দমকল কেন্দ্রের ওসি সুদীপ্ত মুখোপাধ্যায় দাবি করেন, চারটে দমকল ইঞ্জিন কাজ করেছে। ডালখোলা ও কালিয়াগঞ্জ থেকে দমকলের ইঞ্জিন এসেছে। পর্যাপ্ত ব্যবস্থা ছিল। তবে জল সংগ্রহ করতে যেতে হয়েছিল ইঞ্জিনগুলিকে। পুড়ে গিয়েছে বেকারি। - নিজস্ব চিত্র।



