সংবাদদাতা, গঙ্গারামপুর: বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বিভিন্ন রুটে চলছে অটো। জেলাজুড়ে রাজ্য সরকারের গতিধারা প্রকল্পের মাধ্যমে গ্রামীণ এলাকা থেকে শহরে যোগাযোগ স্থাপনের জন্য অটো পরিষেবা চালু হয়। বর্তমানে যাত্রীদের নিরাপত্তা কার্যত শিকেয় উঠেছে। অভিযোগ, বিনা কাগজেই জেলার বিভিন্ন রুটে অটো চলছে। যাত্রীদের একাংশের অভিযোগ, অধিকাংশ অটোর বিমা, ফিটনেস সার্টিফিকেট নেই। রুটও নির্দিষ্ট নেই। নিজেদের পছন্দমতো রুটে অটো চালাচ্ছেন চালকরা। পরিবহণ দপ্তরের উদাসীনতায় কাগজপত্র ছাড়াই অটোগুলি চলছে। জেলায় কত যাত্রীবাহী অটো বিনা লাইসেন্সে চলছে, জেলা পরিবহণ দপ্তরের কাছে তার নির্দিষ্ট কোনও তথ্য নেই। অভিযোগ, পরিবহণ দপ্তরের অভিযানও বন্ধ থাকায় অটো চালকরা নিয়ম মানছেন না।
Advertisement
যাত্রীদের অনেকের প্রশ্ন, বিমা ও ফিটনেসহীন কোনও অটো দুর্ঘটনায় কবলে পড়লে যাত্রী সুরক্ষার বিষয়টি কে দেখবে? সূত্রের খবর, টোটোর বাড়বাড়ন্তেই অটো মালিকরা প্রতিবছর বাধ্যতামূলক ইন্স্যুরেন্স, ফিটনেস ও ট্যাক্স দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন জেলা পরিবহণ দপ্তরকে। অভিযোগ, ট্রেড ইউনিয়নের নেতাদের একাংশের মদতেই এসব চলছে জেলাজুড়ে। ট্রেড ইউনিয়নকে প্রতিদিন টাকা দিয়ে নিজের ইচ্ছেমতো রুটে যাত্রী পরিবহণ করছে অটোগুলি। জেলা পরিবহণ দপ্তরের আধিকারিক অনুপম চক্রবর্তী বলেন, গতিধারা প্রকল্পের অধীনে নেওয়া অনেক অটো বসে গিয়েছে। কোন রুটের অটো বিমা, ফিটনেস ছাড়াই চলছে, তা আমাদের জানা নেই। নির্দিষ্ট কত অটো প্রতিবছর বিমা সহ অন্য কর দিচ্ছে না তার তালিকা দেখতে হবে। অভিযোগ, হরিরামপুর, বুনিয়াদপুর, দেহাবন্ধ, গঙ্গারামপুর রুটে যত অটো চলে তার অর্ধেকের বেশির বিমা, ফিটনেস সার্টিফিকেট নেই। বুনিয়াদপুরের এক অটো চালক বলছেন, টোটোর বাড়বাড়ন্তে অটোয় ওঠা যাত্রীর সংখ্যা অনেক কমে গিয়েছে। টোটোর কোনও কাগজ থাকছে না, তাহলে আমরা প্রতিবছর টাকা কেন দেব? নিয়ম সকলের জন্য সমান হওয়া উচিত। হরিরামপুরের নারায়ণ সরকার প্রতিদিন ইটাহার রুটে অটোয় যাতায়াত করেন।তিনি বলেন, অনেক অটো বৈধ কাগজ ছাড়াই চলছে। যা ভীষণ উদ্বেগের। যদি রাস্তায় দুর্ঘটনা ঘটে তার দায় কে নেবে? যাত্রী সুরক্ষার বিষয়টি প্রশাসনের দেখা উচিত। জেলা পরিবহণ আধিকারিক বলেন, নিয়মিত অভিযান চলছে। আইএনটিটিইউসির জেলা সভাপতি নামিজুর রহমান বলেন, বিষয়টি আরটিওকে জানিয়েছি। প্রশাসন বিষয়টি দেখুক। আমরাও সাংগঠনিকভাবে বিষয়টি দেখছি।



