সংবাদদাতা, মানকর: বেপরোয়াভাবে চলছে বালির গাড়ি। অথচ প্রশাসনের বিন্দুমাত্র নজর নেই বলে অভিযোগ বুদবুদের চাকতেঁতুল পঞ্চায়েতের শালডাঙা, মুন্সিপুর সহ একাধিক গ্রামের বাসিন্দাদের। অভিযোগ, দামোদরের বালিঘাট থেকে কমপক্ষে ৫০টি ট্রাক্টর নিয়মিত বালি পাচার করছে। বালির গাড়ি যাতায়াতের ফলে গ্রামে রাস্তা বেহাল হয়ে পড়ছে। যার প্রতিবাদে শনিবার অবৈধ বালির গাড়ি আটকে স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব বিক্ষোভ দেখায়। বিজেপির অভিযোগ, শাসক দলের প্রত্যক্ষ মদতে এই অবৈধ করবার চলছে। যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে শাসক দল। পূর্ব বর্ধমান জেলা তৃণমূলের সহ-সভাপতি জাকির হোসেন বলেন, এলাকাবাসীর দাবি সত্য। তবে, আমাদের বদনাম করার জন্য বিজেপি তৃণমূলকে জড়াচ্ছে। ওদের লোকেরাই যুক্ত। আমরা চাই প্রশাসন কড়া পদক্ষেপ নিক।
শালডাঙা, মুন্সিপুর গ্রামের পাশেই রয়েছে দামোদরের বালিঘাট। বিজেপির চাকতেঁতুল পঞ্চায়েতের সদস্য বর্ণালি মাজি বলেন, প্রশাসনের আধিকারিকদের একাধিকবার অভিযোগ করা হয়েছে। কিন্তু কোনও লাভ হয়নি। আমরা পূর্ব বর্ধমান জেলার জেলাশাসকের হস্তক্ষেপ দাবি করছি।
শনিবার বিজেপির সংখ্যালঘু সেলের বর্ধমান-দুর্গাপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি কাজী হাসিবুর রহমান বালির গাড়ি আটকে প্রতিবাদে সরব হন। তিনি বলেন, তৃণমূলের মদতে অবৈধভাবে বালি পাচার হচ্ছে। প্রথমে অবৈধভাবে বালি শালডাঙা ক্যানাল পাড়ে মজুত করা হচ্ছে। পরে সেখান থেকে ডাম্পারে ভর্তি করে বালি বাইরে পাঠানো হচ্ছে।
স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, দীর্ঘ আন্দোলনের পর রণডিহা থেকে পানাগড় যাওয়ার রাস্তা হয়েছে। কিন্তু অতিরিক্ত বালি বোঝাই গাড়ি যাওয়ার ফলে রাস্তার হাল খারাপ হচ্ছে। শুধু তাই নয়, রাস্তার দু’ধারে বালি মজুত করার ফলে দুর্ঘটনাও ঘটছে। বালি তোলার জন্য সরকারি টেন্ডার হয়। রয়্যালটি দিয়ে চালান নিতে হয়। সেই নিয়মকে বুড়ো আঙ্গুল দেখানোর ফলে রাজ্যের বহু টাকা ক্ষতি হচ্ছে। অবৈধভাবে বালি তোলার ফলে নদী ভাঙন হবে। নদীর তীরবর্তী কয়েকশো হেক্টর জমির চাষ নষ্ট হবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার যে গাড়িটি আটকে বিক্ষোভ দেখানো হচ্ছিল তার চালক গাড়িটিকে সাইড করার নামে দ্রুত এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। পুলিস সন্ধিপুরের কাছে গাড়িটিকে আটক করে। গলসি-১ ব্লকের বিডিও জয়প্রকাশ মণ্ডল বলেন, বিষয়টি জানতে পেরেই দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।