সংবাদদাতা, কাঁথি: বড়দিনে আশানুরূপ ভিড় ছিল না। তবে বছরের শেষ দিনে পর্যটকের ভিড়ে জমজমাট হয়ে উঠল দীঘা, মন্দারমণি, তাজপুর, শঙ্করপুর সহ কাঁথির সমুদ্র সৈকতগুলি। শীতের আমেজ গায়ে মেখে হোটেল-লজ থেকে সৈকতের পাড়, সর্বত্রই পর্যটকের থিকথিকে ভিড় সেখা যায়। বর্ষবিদায় এবং বর্ষবরণ নিয়ে মঙ্গলবার সকাল থেকেই দীঘা-মন্দারমণিতে আলাদা ধরনের উন্মাদনা লক্ষ্য করা যায়। ২০২৪ সালকে পিছনে ফেলে ২০২৫-কে স্বাগত জানাতে আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়েছে দীঘা। রাত ১২টা বাজতেই উন্মাদনার জোয়ারে ভেসে যায় সৈকতনগরী। বিভিন্ন হোটেলে এবং সমুদ্রপাড়ে বাজি ফাটিয়ে সমস্বরে ‘হ্যাপি নিউ ইয়ার’ বলে ইংরেজি নববর্ষকে স্বাগত জানান পর্যটকরা। রংবাহারি বাজির আলোয় রঙিন হয়ে দীঘার আকাশ বাতাস। বর্ষবরণের মুহূর্তকে পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় করে তুলতে নাচগান সহ দেদার খাওয়াদাওয়ার বিশেষ প্যাকেজের আয়োজন করে দীঘা সহ অন্যান্য পর্যটন কেন্দ্রের বিভিন্ন হোটেল-লজগুলি। বড় বড় হোটেল লজে বাইরের শিল্পীদের এনে অনুষ্ঠান সহ হরেক আনন্দ বিনোদনের আয়োজন ছিল। শুধু দীঘা-মন্দারমণি-তাজপুর নয়, রামনগরের দক্ষিণ পুরুষোত্তমপুর, কাঁথির বাঁকিপুট, বগুড়ানজালপাই, খেজুরির হিজলি মসনদ-ই-আলার মতো পর্যটন কেন্দ্রও পর্যটকদের ভিড়ে গমগম করছে। প্রতিটি জায়গায় মঙ্গলবার বিকেল থেকে ভিড় জমতে থাকে উৎসাহী মানুষের। ভিড় দেখে খুশি হোটেল লজের মালিক থেকে শুরু করে দোকানদাররা।
Advertisement
বড়দিন থেকেই দীঘা, মন্দারমণির সমস্ত ছোট-বড় হোটেল-লজগুলি আলোকমালায় সেজে রয়েছে। আলোয় সেজেছে দীঘার বিশ্ববাংলা উদ্যান, সৈকত সরণি সহ রাস্তাঘাট। তবে বড়দিনের ভিড়ে বাধ সেধেছিল নিম্নচাপের বৃষ্টি ও মেঘলা আকাশ। তারপর থেকেই দীঘায় ভিড় ক্রমশ বেড়েছে। দীঘা-শঙ্করপুর হোটেলিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সম্পাদক বিপ্রদাস চক্রবর্তী বলেন, বড়দিনে দীঘায় ভিড় আশাব্যঞ্জক না হলেও শনি ও রবিবার সপ্তাহান্তের পর সোমবারও ভালোই ভিড় ছিল। তবে মঙ্গলবারের ভিড় অন্যান্য দিনগুলিকে ছাপিয়ে যায়। মন্দারমণিতেও একই ছবি। মন্দারমণি হোটেলিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মমরেজ আলি বলেন, এখানকার হোটেল-লজগুলি একশো শতাংশ বুকড্। আনন্দ-বিনোদনের সবরকম ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তাজপুর হোটেলিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক শ্যামল দাস বলেন, এখানকার হোটেল-লজগুলিতে বর্ষবরণের রাতে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন হয়েছে। দীঘা-শঙ্করপুর উন্নয়ন সংস্থার সিইও অপূর্বকুমার বিশ্বাস এদিন সমুদ্রসৈকতে যান। পর্যটকদের সঙ্গে কথা বলেন। এদিকে পুলিস-প্রশাসন চূড়ান্ত সতর্ক। বর্ষবরণের রাতে হই হুল্লোড় করতে গিয়ে পর্যটকদের একটি অংশ বেপরোয়া হয়ে ওঠে। তা কড়া হাতে দমন করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানান ডিএসপি (ডি অ্যান্ড টি) আবু নুর হোসেন।



