Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বছর ঘুরতেই বিকল সোলার লাইট, প্রশ্নের মুখে পশ্চিম বর্ধমান জেলা পরিষদ

বছর ঘুরতেই বিকল সোলার লাইট, প্রশ্নের মুখে পশ্চিম বর্ধমান জেলা পরিষদ
  • ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: শ্যাম রাখি না কূল রাখি, এমনই অবস্থা পশ্চিম বর্ধমান জেলা পরিষদের। ইলেক্ট্রিক বাতিস্তম্ভ লাগালে বিদ্যুৎ বিল কে মেটাবে, তা নিয়ে টানাপোড়েন। বিকল্প হিসেবে সোলার প্যানেলের বাতিস্তম্ভ বসানো হয়েছিল। বছর ঘুরতে না ঘুরতে সেইসব বাতিস্তম্ভ বিকল হয়ে গেল। এক বছরও ঠিকমতো আলো দিতে না পারায় জেলা পরিষদের এই প্রকল্প নিয়ে বিস্তর প্রশ্ন উঠেছে। মঙ্গলবার জেলা পরিষদের অর্থ বিষয়ক স্থায়ী কমিটির মিটিংয়ে জেলা পরিষদ সদস্যরাই এনিয়ে সরব হন। একের পর এক জেলা পরিষদ সদস্য এনিয়ে প্রশ্ন তুলতেই জেলাশাসক বিষয়টি খতিয়ে দেখার কথা বলেন। শুধু বাতিস্তম্ভই নয়, সোলার পাম্পগুলিও বিকল হয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ। একসময় ত্রিফলা আলো বিকল হওয়া নিয়ে বিস্তর জলঘোলা হয়েছিল। এবার পশ্চিম বর্ধমান জেলা পরিষদ ফের বাতিস্তম্ভ বরাত দেওয়া নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়ল। 
Advertisement
কাঁকসা গ্রাম পঞ্চায়েতের পানাগড় বাজার। শিল্পাঞ্চলের অন্যতম উল্লেখযোগ্য মার্কেট। সেখানে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে রয়েছে একাধিক বড় বাতিস্তম্ভ। ঝাঁ চকচকে বাতিস্তম্ভ থাকলেও সেখানে আলো জ্বলে না। কারণ কে বিদ্যুতের বিল মেটাবে তা নিয়েই চলছে টানাপোড়েন। জেলার বাকি অংশেও এই জটিলতা রয়েছে। পঞ্চায়েতগুলির সেই সামর্থ্য নেই যে পথবাতির বিল মেটাবে। সেকারণে জেলা পরিষদ বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় সোলার বাতিস্তম্ভ বসানোর সিদ্ধান্ত নেয়। জেলা পরিষদের প্রতি সদস্য পিছু ৩০টি করে বাতিস্তম্ভ বরাদ্দ করা হয়। একটি টেন্ডারেই মাধ্যমে তার বরাত দেওয়া হয়। একটি সংস্থাই জেলা পরিষদের সদস্যদের নির্দেশমতো বাতিস্তম্ভ লাগায়। শুধু তাই নয়, জেলা পরিষদের উদ্যোগে সেচের উন্নয়নের জন্য সোলার পাম্পও দেওয়া হয়। সোলার লাইট গ্রামে বসায় সাধারণ মানুষও খুশি হয়েছিলেন। কিন্তু কিছুদিন না যেতেই আলোগুলি বিকল হতে থাকে। সংস্কারও হয়নি। এনিয়ে এলাকায় ক্ষোভ বেড়েছে। যার আঁচ পাচ্ছেন জেলা পরিষদের সদস্যরা। 
মঙ্গলবার জেলা পরিষদের খসড়া বাজেট পেশ ছিল। উপস্থিত ছিলেন জেলাশাসক পোন্নমবলম এস। তাঁর সামনেই এনিয়ে সরব হন জেলা পরিষদের অধ্যক্ষ কালোবরণ মণ্ডল। কেন এত দ্রুত বাতিস্তম্ভ বিকল হল তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। একই অভিযোগ করেন জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ পুতুল বন্দ্যোপাধ্যায়। অণ্ডালের জেলা পরিষদ সদস্য কৃষ্ণা বন্দ্যোপাধ্যায়ও এনিয়ে সরব হন। একের পর এক অভিযোগ পেয়ে জেলাশাসক জানতে চান একটি টেন্ডার করা হয়েছিল না কি ব্লক অনুযায়ী টেন্ডার করা হয়। একটিমাত্র টেন্ডারেই পুরো বরাত দেওয়া হয়েছিল বলে তিনি জানতে পারেন। তারপরই জেলাশাসক বলেন, প্রয়োজন ব্লক ধরে ধরে পৃথক টেন্ডার করুন। যাতে ঠিকাদারকে দ্রুত ধরে সমস্যা সমাধান করা যায়। 
বিজেপির জেলা সভাপতি বাপ্পা চট্টোপাধ্যায় বলেন, সবই তৃণমূলের কাটমানির খেলা। আগে ত্রিফলা দুর্নীতি দেখেছিলাম। এখন জেলা পরিষদের সোলার প্রজেক্টের বেনিয়ম প্রকাশ্যে এসেছে। তৃণমূলের কাটমানি সংস্কৃতির জেরে মানুষ বিপাকে পড়ছে। জেলা পরিষদের সভাধিপতি বিশ্বনাথ বাউরি বলেন, বিরোধীদের অভিযোগ ভিত্তিহীন। মঙ্গলবারের মিটিংয়ে সমস্যার কথা জানতে পেরেই এনিয়ে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জেলা পরিষদের একজন সাব অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার বিষয়টি তদন্ত করে আমাকে রিপোর্ট করবেন।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ