Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বাবার বন্ধুর সঙ্গে প্রেমে পড়ে সংসার নাবালিকার

বাবার বন্ধুর সঙ্গে প্রেমে পড়ে সংসার নাবালিকার
  • ১৬ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: বাবার বন্ধুর প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছিল নাবালিকা। এমনটা যে হতে পারে তা বাড়ির লোকজন ঘুণাক্ষরেও টের পাননি। তাদের ধারণা ভেঙে দেয় ৪০ বছরের ওই প্রেমিক। সে নিজে একদিন নাবালিকার বাড়িতে এসে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। পাত্রের টাকা রয়েছে। তাই বয়স কোনও বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। নাবালিকার পরিবারের লোকজন বিয়ে দিতে রাজি হয়ে যায়। কিন্তু ১৮ বছরের আগে বিয়ে দেওয়া অন্যায়। এটা প্রেমিক জানত। কিন্তু তারপরও নাবালিকার বাড়ির আর্থিক অবস্থার সুযোগ নিয়ে সে তাকে বিয়ের পিঁড়ি পর্যন্ত নিয়ে যায়। বেশ কিছুদিন পর বিষয়টি প্রশাসনের কানে পৌঁছয়। পোর্টালের মাধ্যমে এক ব্যক্তি অভিযোগ করেন। অবশেষে মঙ্গলকোটের ওই নাবালিকাকে উদ্ধার করা হয়। ১৮বছরের আগে মেয়ের বিয়ে দেবে না। এই মর্মে পরিবারের লোকজনের কাছে মুচলেকা নেওয়া হয়েছে। 
Advertisement
ওই গ্রামের এক ব্যক্তি বলেন, এমনটা হতে পারে বলে কেউই আন্দাজ করেনি। ওই নাবালিকার বাবার সঙ্গে ওই ব্যক্তি প্রায়শই সন্ধ্যায় আড্ডা দিত। তারা দু’জনে ছোটবেলার বন্ধু। তারপরও ওই ব্যক্তি নিজের মেয়ের বয়সি কাউকে বিয়ে করতে পারে এমনটা ভাবাই যায় না। পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ মাম্পি রুদ্র বলেন, নাবালিকাদের বিয়ে বন্ধ করার জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। অল্প বয়সে বিয়ে দিলে কী পরিণাম হতে পারে তা অভিভাবকরাও জানে। তারপরও তারা মেয়েদের সর্বনাশ করছে। মানুষ সচেতন না হলে এসব বন্ধ করা সহজ নয়।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, নাবালিকা বিয়ে দেওয়ার জন্য অভিভাবকরা বিভিন্ন কৌশল নিচ্ছে। প্রশাসন খবর পেতে পারে সেকারণে তারা অনেক সময় নিজেদের গ্রামে মেয়ের বিয়ে দিচ্ছে না। পাশের কোনও গ্রামে আত্মীয়ের বাড়িতে গিয়ে চুপিসাড়ে বিয়ে দিচ্ছে। এক আধিকারিক বলেন, সব সময় অভিভাবকদের ইচ্ছেয় নাবালিকদের বিয়ে হচ্ছে এমনটা নয়। অনেক সময় তারা নিজেরাও সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। বাড়ি থেকে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করছে। অনেক সময় তারা ভিনরাজ্যের যুবকদের প্রেমে পড়ছে। অন্য রাজ্যে গিয়ে তারা বিপদে পড়ছে। সম্প্রতি রাজস্থান, উত্তরপ্রদেশ থেকে কয়েকজন নাবালিকাকে উদ্ধার করা হয়েছে। আধিকারিকদের দাবি, নাবালিকা বিয়ে আটকানোর জন্য নানা প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। তারা যাতে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারে তারজন্য কন্যাশ্রী প্রকল্প চালু করা হয়েছে। ১৮বছরের পর বিয়ে করলে রূপশ্রী প্রকল্পে ২৫হাজার টাকা দেওয়া হয়। তারপরও তারা অল্প বয়সে বিয়ের আসরে বসছে। বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের এমএসভিপি তাপস ঘোষ বলেন, অল্প বয়সে অনেকে গর্ভবতী হয়ে যাচ্ছে। ১৮ বছরের নীচে যেসব প্রসূতি হাসপাতালে ভর্তি হয় তাদের জন্য আলাদা রেজিস্টার করা হয়। প্রসবের সময় তাদের ঝুঁকি থেকে যায়।
সম্পর্কিত সংবাদ