নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: সকাল থেকে ছেলের হদিশ নেই। বাবার বকুনি খেয়ে যুবক ছেলে গেল কোথায়! কুলটি থানার সাঁকতোড়িয়ার নিচুপাড়ায় আদিবাসী মহল্লায় দুশ্চিন্তা বাড়ছিল। সন্ধ্যা নামার ঠিক আগে জানা গেল ওই যুবক উঠে পড়েছেন হাইটেনশন বিদ্যুতের টাওয়ারে। পুলিসের কাছে যখন খবর পৌঁছয় তখন সন্ধ্যা নেমে আসায় বিপদ আরও বাড়ে। ওই যুবকের বিদ্যুতের খুঁটিতে উঠে পড়ার খবর চাউর হতেই এলাকাবাসী ভিড় জমান। যা দেখে তিনি তখন যেন শোলে সিনেমার বীরু। সিনেমায় ধর্মেন্দ্র হেমা মলিনীকে প্রেমের প্রস্তাবে রাজি করাতে উঠে পড়েছিল জলট্যাঙ্কে। সেখান থেকে ঝাঁপ দেওয়ার চেষ্টা করতে থাকে। এখানে ওই যুবক আরও বিপজ্জনক অবস্থায় পৌঁছে যান। বিদ্যুতের টাওয়ারে ১২০ ফুট উঠে সেখান থেকে ঝাঁপ দেওয়ার ভয় দেখাতে থাকেন। পুলিসের পাশাপাশি হাজির হয় দমকল, বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তর। অন্ধকারে তখন ওই যুবককে নিয়ে রীতিমতো দিশেহারা অবস্থা সকলের। একদিকে অন্ধকারে তাঁকে ঠিকমতো দেখা যাচ্ছে না। অন্যদিকে তাঁর মুখে আলো ফেললেই ঝাঁপ দেওয়ার ভয় দেখাতে থাকে। এসব করতেই কেটে যায় কয়েক ঘণ্টা। অনেকে এই দৃশ্য দেখে ফেসবুক লাইভ শুরু করে দেন।
Advertisement
এই অবস্থায় বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দেন কুলটি থানার সাঁকতোড়িয়ার আইসি দিব্যেন্দু মুখোপাধ্যায়। তিনি খোঁজ নেন, পরিবারে ওই যুবক কাকে সবচেয়ে বেশি মানেন। জানা যায়, মায়ের কথা তিনি কখনও অমান্য করেন না। এছাড়াও এক খুদে আত্মীয় তাঁর প্রাণভোমরা। খবর পেয়েই পুলিস তাঁদের এলাকায় নিয়ে আসে। বাকিদের সরিয়ে দিয়ে যুবকের মা ও খুদেকে আনা হয় বিদ্যুতের খুটির কাছে। অন্ধকারের সুযোগে তাঁকে বুঝতে না দিয়েই কাছে পৌঁছে যান টাওয়ারে উঠতে পটু এক ব্যক্তি।



