সংবাদদাতা, বর্ধমান: মালিককে মৃত সাজিয়ে জাল দলিল তৈরি করে বাড়ির মালিকানা পরিবর্তনের ঘটনায় দুই অভিযুক্ত মঙ্গলবার বর্ধমান সিজেএম আদালতে আত্মসমর্পণ করে। আত্মসমর্পণকারীদের নাম নিরঞ্জন ঘোষ ও চৈতালি দত্ত। বর্ধমান থানার আলিসা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় নিরঞ্জনের বাড়ি। শহরেরই বড়নীলপুর বাজার এলাকায় চৈতালির বাড়ি। এর আগে ১০ ডিসেম্বর নিরঞ্জনের স্ত্রী অঞ্জনা ঘোষকে গ্রেপ্তার করে বর্ধমান থানার পুলিস। সেদিনই আদালতে পেশ করা হলে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠিয়ে ১৭ ডিসেম্বর ধৃতকে ফের আদালতে পেশের নির্দেশ দেন সিজেএম। সেইমতো এদিন ধৃতকে ফের আদালতে পেশ করা হয়। মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর কথা বলে ধৃত ও আত্মসমর্পণকারীদের জামিন চান তাঁদের আইনজীবী। সিজেএম চন্দা হাসমত তিনজনেরই জামিন মঞ্জুর করেন।
Advertisement
ঘটনার বিষয়ে বর্ধমান শহরের মন্তেশ্বরতলার বাসিন্দা চিত্তরঞ্জন ঘোষ ২০২১ সালে ওই তিনজনের বিরুদ্ধে সিজেএম আদালতে মামলা করেন। সিজেএম কেস রুজু করে তদন্তের নির্দেশ দেন। আদালতে চিত্তরঞ্জন অভিযোগ করেন, তাঁর বাবা প্যারালিসিসে আক্রান্ত। তিনি ঠিকমতো চলাফেরা করতে পারেন না। নিরঞ্জন তাঁর ভাই। অঞ্জনা তাঁর ভাইয়ের স্ত্রী এবং চৈতালি ভাইঝি। তাঁরা দুই ভাই ও দুই বোন। বোনেদের আগেই বিয়ে হয়ে গিয়েছে। তিনি বর্ধমান আদালতে টাইপিস্টের কাজ করেন। মামলা করার কিছুদিন আগে তাঁদের বাড়িটি কেনার জন্য কয়েকজন আসে। তা দেখে তিনি অবাক হয়ে যান। জিজ্ঞাসা করায় ক্রেতারা জানায়, নিরঞ্জন বাড়িটি বিক্রি করবে বলে তাঁদের জানিয়েছে। একটি দানপত্র দলিলও সে দেখিয়েছে। তা জানার পর তিনি দানপত্র দলিলের বিষয়ে খোঁজখবর শুরু করেন। তিনি জানতে পারেন, বাবাকে মৃত ঘোষণা করে একটি দানপত্র দলিল তৈরি করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, জাল দলিল পেশ করে বাড়িটি নিজের নামে রেকর্ড করিয়ে নিয়েছে নিরঞ্জন।



