সংবাদদাতা, হলদিয়া: হলদিয়ার বাড়বাজিতপুর যতীন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ে শুক্রবার ফুড ফেস্টিভ্যালে মেতে উঠল পড়ুয়ারা। শিল্প শহর লাগোয়া গ্রামের স্কুলে ফুড ফেস্টিভ্যালের প্রধান আকর্ষণ ছিল পৌষের পিঠেপুলি। দুধপুলি, পাটিসাপটার সঙ্গে নলেনগুড়ের পায়েস নিয়েও হাজির হয়েছিল পড়ুয়ারা। সঙ্গে লুচি আলুর দম, ঘুগনি, ফুচকা, কেক, ভেজ ও চিকেন পকোড়ার লড়াই জমে ওঠে। তবে পিঠের স্টলের কাছে হার মেনেছে বাকিরা। স্টল সাজিয়ে বিভিন্ন ক্লাসের পড়ুয়াদের রকমারি খাবার বিক্রির প্রতিযোগিতা চলে। শিক্ষক-শিক্ষিকারা স্টল ঘুরে খাদ্যগুণ যাচাই করে তাদের নম্বরও দিয়েছেন। ১৫টি স্টলে উপচে পড়ে ভিড়। এদিন ফুড ফেস্টিভ্যালের উদ্বোধন করেন প্রধান শিক্ষিকা গার্গী সামন্ত। তিনি বলেন, ‹স্টুডেন্টস উইক› উপলক্ষে খাদ্যমেলার আয়োজন করা হয়েছে। এই উপলক্ষে বিজ্ঞান মডেল প্রদর্শনী, পোস্টার তৈরি, বৃক্ষরোপণ, মিট দ্য আইকন সহ বিভিন্ন অনুষ্ঠান হয়েছে সপ্তাহ জুড়ে। বৃহস্পতিবার জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষক সুজনকুমার বালাকে আইকন হিসেবে বেছে নিয়েছিল স্কুল কর্তৃপক্ষ। সুজনবাবু নিজের ছোটবেলার কথা, প্রত্যন্ত গ্রামীণ পরিবেশ থেকে তাঁর বড় হওয়ার গল্প শোনান। বিবেকানন্দ, নেতাজি সুভাষচন্দ্র, সর্বাধিনায়ক সতীশ চন্দ্র সামন্তের জীবনে শিক্ষকদের অবদানের কথা স্মরণ করিয়ে দেন পড়ুয়াদের। তিনি বলেন, পাঠ্যবইয়ের বাইরে নানা ধরনের বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। মোবাইল থেকে দূরে থাকতে হবে। এই স্কুল প্রতিষ্ঠা হয়েছিল ১৯৬৯ সালে। জুনিয়র স্কুল থেকে উচ্চ মাধ্যমিকে উন্নীত হয়েছে। স্থানীয় দেবপ্রসাদ পাল, শক্তিপ্রসাদ পাল ও দীনবন্ধু পাল তাঁদের প্রয়াত বাবা যতীন্দ্রনাথ পালের স্মৃতিতে স্কুলের জন্য জমি দান করেন। প্রধান শিক্ষিকার উদ্যোগে স্কুলে প্রতিষ্ঠাতার আবক্ষ মূর্তি, মনীষীদের মূর্তি স্থাপন, সৌরবিদ্যুৎ, পুকুর সংস্কার, ডাইনিং হল তৈরি হয়। শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের সহযোগিতায় গ্রামের স্কুলে স্টুডেন্টস উইক অন্যমাত্রায় পৌঁছে গিয়েছে।



