Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বাবা ও ছেলেকে ‘অপহরণের’ অভিযোগে গ্রেপ্তার দুই স্বর্ণকার

বাবা ও ছেলেকে ‘অপহরণের’ অভিযোগে গ্রেপ্তার দুই স্বর্ণকার
  • ৯ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, ঘাটাল: বাবা ও ছেলেকে ‘অপহরণের’ অভিযোগে দুই স্বর্ণকারকে গ্রেপ্তার করল পুলিস। ধৃতদের নাম সুভাষ মালিক ও রাজীব মালিক। তাদের বাড়ি দাসপুর থানার জোৎকেশবে। পুলিস জানিয়েছে, শনিবার রাতে সোনাখালি থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। রবিবার তাদের ঘাটাল আদালতে তোলা হলে জামিনের আবেদন খারিজ হয়ে যায়।
Advertisement
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, সুভাষের দিল্লিতে সোনার দোকান রয়েছে। তার দোকানে ঘাটাল থানার সুরত্তবাড় গ্রামের এক যুবক কাজ করতেন। সুভাষের অভিযোগ, কয়েক সপ্তাহ আগে ওই যুবক তার দোকান থেকে প্রায় ২৫০ গ্রাম সোনা চুরি করে নিয়ে পালিয়ে আসে। কোনওভাবেই তার হদিশ মেলেনি। বাড়িতে এসেও ওই যুবকের খোঁজ মেলেনি। তার হদিশ না পেয়ে শেষে সোনা উদ্ধার করতে সুভাষ সুরত্তবাড়ের গ্রামবাসীদের শরণাপন্ন হয়। ৬ ডিসেম্বর একটি সালিশি সভার আয়োজন করা হয়। সেখানে সুরত্তবাড় এলাকার তৃণমূল নেতা তথা ঘাটাল ব্লকের মনোহরপুর-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রাক্তন প্রধান জয়দেব দোলই সহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন। জয়দেববাবু বলেন, ‘সালিশি সভায় ওই যুবক হাজির হয়নি। সভায় ওই যুবকের পরিবারের তরফে মাত্র কয়েক গ্রাম সোনা নিয়ে চলে আসার কথা স্বীকার করা হয়। সেই সোনা ফেরত দেওয়ার কথাও তারা জানায়। তারপর ওই রাতেই  সুভাষের লোকজন যুবকের বাবাকে অপহরণ করে নিয়ে চলে যায়। পরে ছেলেকে ডাক পাঠিয়ে তাকেও অপহরণ করা হয়।’ ওইভাবেই ছেলে ও বাবাকে অপহরণ করে দু’দিন রাখে। এদিকে যুবকের মা বিষয়টি ঘাটাল থানায় অভিযোগ করেন। ঘাটাল থানা দাসপুর থানার পুলিসকে বিষয়টি জানায়। পরে পুলিসের পরিকল্পনা মতো সালিশি সভার এক ব্যক্তিকে দিয়ে সুভাষকে সোনা ফেরত দেওয়ার টোপ দেয়। সেই টোপ গিলে সুভাষ ওই যুবকের বাবাকে নিয়ে আসে। সেখানেই সাদা পোশাকে থাকা পুলিস তাকে গ্রেপ্তার করে। পরে ওই যুবককেও পরিকল্পনামাফিক নিয়ে আসে পুলিস। গ্রেপ্তার করা হয় রাজীবকে। পুলিস জানিয়েছে, ওই যুবক ও তার বাবাকে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। দু’দিন সুভাষের বাড়িতেই তাঁদের আটকে রাখা হয়েছিল। ‘অপহৃত’ ব্যক্তিরা জানান, খাওয়া-দাওয়ার সমস্যা না হলেও তাঁদের গালিগালাজ ও মানসিক নির্যাতন করা হয়েছে।
সম্পর্কিত সংবাদ