ঢাকা: বাউল গায়কদের উপর হামলার প্রতিবাদে সোচ্চার বাংলাদেশ। ঘটনার প্রতিবাদে যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষর করলেন সে দেশের ২৫০ জন বুদ্ধিজীবী। তাঁদের একটাই দাবি, ঘটনায় দোষীদের শাস্তি দিতে হবে। উল্লেখ্য, কয়েক দিন আগে পশ্চিম মাদারিপুরে সংগীত পরিবেশনের সময় ধর্মীয় অবমাননা ও কটূক্তির অভিযোগে প্রখ্যাত বাউল গায়ক আবুল সরকারকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এরপরেই সরকারের সমর্থনে মিছিল করেন তাঁর গুণমুগ্ধ এবং সমর্থকরা। সেই মিছিলে হামলা চালায় ‘তৌহিদি জনতা’ নামে একটি সংগঠন। ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। তাতে দেখা যাচ্ছে, হামলা থেকে বাঁচতে কয়েকজন পুকুরে ঝাঁপ দিয়েছেন। এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং দোষীদের শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছেন বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবীরা। ২৫০ জন স্বনামধন্য ব্যক্তির স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘জনতার প্রতিবাদকে দমিয়ে দিতে অস্ত্রের ব্যবহার নিয়মে পরিণত হয়েছে। এতে দমবন্ধ করা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।’
এই বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন অর্থনীতিবিদ অনু মহম্মদ এবং অধ্যাপক সালিমুল্লার মতো ব্যক্তি। বিবৃতিতে সাফ বলা হয়েছে, ‘গত বছর জুলাইতে শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে দেশে ধর্মীয় কট্টরপন্থীদের রমরমা বেড়েছে। ২০০-র বেশি ধর্মীয় স্থানে হামলা হয়েছে। জীবন্ত পুড়িয়ে দেওয়া, বাউল-ফকিরদের চুল কেটে দেওয়ার ঘটনা সামনে এসেছে। ভিন্ন মতাবলম্বীদের উপর আক্রমণই তাদের মূল লক্ষ্য।’ এই ঘটনার নিন্দা করেছে ‘আইন ও সালিশ কেন্দ্র’ নামের একটি সংগঠনও। ঘটনার নিন্দা করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের বাংলাদেশ শাখাও। তাদের সাফ কথা, এই ঘটনা বাংলাদেশের ধর্মীয় সম্প্রীতির উপর বড় আঘাত।
সেদেশের প্রখ্যাত আইনজীবী সারা হোসেন বলেন, ‘আমার মনে হয়, সরকারের অবস্থানটাই জটিল। হিংসার মদতদাতাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। বুঝতে পারছি না, এই ধরনের ঘটনাগুলিকে কেন হালকাভাবে নেওয়া হচ্ছে।’ ঘটনা নিয়ে দায়সারা বিবৃতি দিয়েছে ইউনুস সরকারের সংস্কৃতি দপ্তরের উপদেষ্টা মোস্তাফা ফারুকি। তিনি বলেন, ‘এই সংবেদনশীল বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে মোকাবিলা করা হচ্ছে।’ সেই সঙ্গে তাঁর সংযোজন, ‘এরকম ঘটনা এই প্রথম নয়। আওয়ামি লিগ সরকারের সময়ও বহুবার ঘটেছে।’