Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

লক্ষ্য রেকর্ড মার্জিনে জয়, বুথভিত্তিক ‘টার্গেট’ বেঁধে ময়দানে বাদুড়িয়া তৃণমূল

উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়ায় রেকর্ড লিডের লক্ষ্য নিয়ে জোরদার প্রচার শুরু করেছে তৃণমূল কংগ্রেস।

লক্ষ্য রেকর্ড মার্জিনে জয়, বুথভিত্তিক ‘টার্গেট’ বেঁধে ময়দানে বাদুড়িয়া তৃণমূল
  • ২৭ মার্চ, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়ায় রেকর্ড লিডের লক্ষ্য নিয়ে জোরদার প্রচার শুরু করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। লোকসভা ভোটের আগে বসিরহাট লোকসভার এই বিধানসভা কেন্দ্রের এই অংশকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে। শাসক দলের লক্ষ্য, আগের তুলনায় ব্যবধান উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো। সেই কারণে সংগঠনকে আরো মজবুত করতে বুথ স্তরে বিশেষ কৌশল নেওয়া হয়েছে। যদিও বিজেপি ও আইএসএফের দাবি, তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরে তৃণমূলের ফল কী হয় দেখুন। 

Advertisement

বাদুড়িয়ায় তৃণমূল প্রার্থী জেলা পরিষদের শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ বুরহানুল মোকাদ্দিম ওরফে লিটন। আর বিজেপির প্রার্থী হয়েছেন সুকৃতি সরকার ও বাম-জোটের তরফে আইএসএফের কুতুবউদ্দিন ফতেহি। দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২১ সালে এই বিধানসভায় তৃণমূলের প্রার্থী ছিলেন আব্দুর রহিম কাজি। তিনি সেবার ৫৬ হাজার ৪৪৪ ভোটে জিতেছিলেন। জেলার মধ্যে এই জয় ছিল বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। আর ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনেও সেই ‘ট্রেন্ড’ অব্যাহত ছিল। আর হাইভোল্টেজ ছাব্বিশের ভোটে সেই ধারা বজায় রাখতে চাইছে তৃণমূল। সেই কারণে বদলেছে নির্বাচনি রণকৌশল। সূত্রের দাবি, প্রতিটি বুথে অন্তত ১০০টি করে ভোট বাড়ানোর টার্গেট নেওয়া হয়েছে। সেই লক্ষ্যে ইতিমধ্যেই বুথভিত্তিক বৈঠকও শুরু হয়েছে। স্থানীয় নেতৃত্ব ও কর্মীদের দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হচ্ছে স্পষ্টভাবে। বাড়ি বাড়ি প্রচার, নতুন ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং মহিলাদের অংশগ্রহণ বাড়ানো—এই বিষয়গুলির উপর বিশেষ জোর দিচ্ছে তৃণমূল। পাশাপাশি, সরকারি প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে ভোটের সমীকরণ আরো মজবুত করার চেষ্টা চলছে। তৃণমূলের কৌশলের অন্যতম দিক হল বিজেপির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বকে কাজে লাগানো। স্থানীয় স্তরে বিজেপির একাধিক গোষ্ঠীর মধ্যে মতানৈক্য রয়েছে বলেই দাবি শাসক দলের। প্রার্থী নির্বাচন থেকে সংগঠনের নেতৃত্ব—বিভিন্ন বিষয় নিয়ে এই অশান্তি তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ। তৃণমূল নেতৃত্বের মতে, এই পরিস্থিতি তাদের পক্ষে অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে পারে। 
বিজেপি নেতা পলাশ সরকার বলছেন, তৃণমূল যতই বুথভিত্তিক পরিকল্পনা করুক, সংগঠনের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব সামলানো তাদের পক্ষে বড়ো চ্যালেঞ্জ। একই সুর শোনা গিয়েছে আইএসএফ শিবিরেও। প্রার্থী কুতুবউদ্দিন ফতেহির দাবি, সাধারণ মানুষের মধ্যে শাসক দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ বাড়ছে, যা ভোটবাক্সে প্রতিফলিত হবে। এলাকায় কোনো উন্নতি হইনি। কেবলমাত্র টাকা লুটপাট হয়েছে। 
তবে তৃণমূল প্রার্থী বুরহানুল মোকাদ্দিমের জবাব, প্রচারের ট্রায়ালে মানুষের উৎসাহ দেখেই বিরোধীদের ঘুম উড়েছে। আমরা গতবারের তুলনায় মার্জিন বাড়ানোর জন্য পরিকল্পনা নিয়েছি। তাই বিশেষ অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত হয়েছে। অঞ্চল ও বুথ ধরে ধরে বৈঠক হচ্ছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ