গুয়াহাটি: ঘরের মাঠে দলের হারে মুখ পুড়ছে। স্বাভাবিকভাবেই ঘটছে সমর্থকদের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। ইডেনে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে কারুকার্য করা পিচে খেলতে গিয়েই ব্যুমেরাং হয়েছে। যাবতীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন কোচ গৌতম গম্ভীর। তাই তাঁকেই কাঠগড়ায় তুলেছেন অনেকে। এর মধ্যে অবশ্য অন্য অভিসন্ধি খুঁজে পাচ্ছেন ব্যাটিং কোচ সীতাংশু কোটাক। বৃহস্পতিবার বর্ষাপাড়া স্টেডিয়ামে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বললেন, ‘দল খারাপ খেললেই সবাই গম্ভীর...গম্ভীর... বলে চিৎকার শুরু করে দেয়। সতীর্থ হিসেবে আমার খুব খারাপ লাগে। এটা একেবারেই অপ্রত্যাশিত। কখনও কখনও মনে হয়েছে, ব্যক্তিগতভাবে কেউ কেউ গম্ভীরকে অপছন্দ করেন। তাঁরাই গায়ের ঝাল মেটাতে এটা করছেন। তাঁদের জন্য শুভেচ্ছা রইল। তবে এই ধরনের আচরণ ভারতীয় দলের মনোবলে ধাক্কা দেয়।’
এখানেই থামেননি তিনি। কোটাক আরও বলেন, ‘দল হারলে কেউ তো ব্যাটার কিংবা বোলারদের দিকে আঙুল তোলেন না? তাঁরা তো বলেন না এটা করা উচিত ছিল? কিন্তু সবার আঙুল শুধু গম্ভীরের দিকে। ইডেনে আমরা যে ধরনের পিচে খেলতে চেয়েছিলাম, সেটা পাওয়া যায়নি। প্রথম দিন থেকেই অসমান বাউন্স ছিল। তার পরেও গম্ভীর যাবতীয় দায় নিজের কাঁধে নিয়েছে।’ তাহলে কি ঘুরিয়ে ইডেনের কিউরেটরের ঘাড়েই সব দোষ চাপানোর চেষ্টা করলেন সীতাংশু কোটাক, এই প্রশ্ন উঠছে।
তবে গম্ভীরের পাশে ব্যাটিং কোচের থাকা নিয়ে বিস্মিত হওয়ার কিছু নেই। তাঁদের টিকি একজনের হাতেই বাঁধা। গোটা ভারত জানে, গম্ভীর কোটার কোচ। বিজেপি সাংসদ থেকে ভারতীয় ক্রিকেট দলের হেড কোচ হওয়ার পিছনে কোন জাদুকাঠি কাজ করেছে। একইভাবে সীতাংশু কোটাকের এন্ট্রি ভারতীয় দলে। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ঘরের মাঠে হোয়াইটওয়াশ হওয়ার পর ভারতীয় ব্যাটিং প্রশ্নের মুখে পড়েছিল। তার পরেই ইংল্যান্ড সফরের আগে কোটাককে ব্যাটিং কোচের দায়িত্ব দেওয়া হয়। মূলত তিনি জয় শাহর ঘনিষ্ঠ বলেই ক্রিকেট সার্কিটে পরিচিত। ইডেন টেস্টে ভারতীয় দল দুই ইনিংসে করেছিল ১৮৯ ও ৯৩। একজন ব্যাটারও হাফ-সেঞ্চুরি পাননি। তার পরেও তিনি দিব্যি রয়েছেন। নৈতিক দায়িত্ব নিয়ে পদত্যাগ করা উচিত ছিল বলে মত ওয়াকিবহাল মহলের। কিন্তু তাঁদের মাথার উপর রয়েছেন ‘গডফাদার’। দেশের নাম ডুবলেও তাই তাঁদের কিছু যায় আসে না। উল্টে তিনি হেড কোচের হয়ে সওয়াল করতে আসরে। আসলে গম্ভীর কিংবা কোটাক—দু’জনেই বুঝে গিয়েছেন নিজেদের মধ্যে বোঝাপড়া ভালো রাখলেই কেল্লা ফতে।
কামাখ্যা মন্দিরে পুজো দিলেন গম্ভীর।