মুল্লানপুর: এক বছরেরও বেশি হয়ে গেল। কুড়ি ওভারের ঘরানায় কোনও হাফ-সেঞ্চুরি নেই সূর্যকুমার যাদবের। শেষবার তিনি পঞ্চাশ পেরিয়েছিলেন গত বছরের ১২ অক্টোবর। তারপর কুড়িটা ইনিংস কেটে গিয়েছে। ‘স্কাই’ আর আকাশে ব্যাট তুলে জনতার অভিনন্দন কুড়োতে পারেননি। চলতি বছর ১৭ ম্যাচে মুম্বইকরের গড় মোটে ১৪.৩৫। এরমধ্যে তিনবার ফিরেছেন খাতা খোলার আগেই। দুই অঙ্কের রান আসেনি আরও আটবার। একবছর আগের নভেম্বর থেকে ধরলে মাত্র দু’বার কুড়ির বেশি বল খেলেছেন। পরিসংখ্যান হিসেবে যা ভয়াবহই। দুয়ারে কড়া নাড়া টি-২০ বিশ্বকাপের প্রেক্ষিতে খোদ অধিনায়কের এমন হাল দুঃস্বপ্নের মতোই।
বৃহস্পতিবার দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ৫১ রানে পরাজয়ের পর স্বাভাবিকভাবেই চর্চায় সূর্য। কেন এমন নিষ্প্রভ দেখাচ্ছে তাঁকে, জল্পনা চলছে। কেউ কেউ মনে করছেন, নেতৃত্বের চাপই কেড়ে নিয়েছে তাঁর ফর্ম। টান পড়েছে আত্মবিশ্বাসেও। মুল্লানপুরে ব্যাটিং অর্ডারে পিছিয়ে যাওয়াই তার উদাহরণ। তিন নম্বরে নয়, চারে নামেন তিনি। তবে কি নিজেকে লুকিয়ে রাখাই ছিল লক্ষ্য?
দীর্ঘ সময় ধরে রান না পাওয়া নিয়ে কথা উঠছে দলের মধ্যেও। সূর্য অবশ্য নিজের মুখেই ব্যর্থতার কথা স্বীকার করেছেন। শুভমান গিলের সঙ্গে তাঁকে যে আরও দায়িত্ব নিতে হবে, মেনেছেন সোজাসুজি। কিন্তু ‘দায়িত্ব’ নেওয়ার কথা মুখে বলা সহজ। কিন্তু বাইশ গজে রান না পেলে তা স্রেফ ‘ভাষণ’ হিসেবেই থেকে যায়। গত ২০ ইনিংসে তাঁর ব্যাটে এসেছে মাত্র ২২৭ রান। আরও তাৎপর্যপূর্ণ হল, ১৭ বারই আউট হয়েছেন পেসারদের বলে। কখনও ব্যাটে লাগিয়ে বল টেনে এনেছেন স্টাম্পে, কখনও তুলেছেন লোপ্পা ক্যাচ। রোগটা পরিষ্কার— গতি ও বাউন্সই হয়ে উঠেছে সূর্যের ঘাতক। অথচ, কয়েক মাস আগেও আইপিএলে ঝড় তুলেছিলেন তিনি। ১৬ ইনিংসে ৬৫.১৮ গড় ও ১৬৯.৯১ স্ট্রাইক রেটে করেন ৭১৭ রান। কিন্তু ফ্র্যাঞ্চাইজি দুনিয়ার বাইরে একেবারেই অনুজ্জ্বল সূর্য।
মাথায় রাখতে হবে, মুম্বই ইন্ডিয়ান্সে তাঁকে সামলাতে হয় না নেতৃত্বের দায়িত্ব। ফলে খোলা মনে সেরাটা উজাড় করে দিতে পেরেছিলেন তিনি। আর নীল জার্সিতে ক্যাপ্টেন্সির গুরুদায়িত্ব বোঝা হয়ে উঠেছে তাঁর ঘাড়ে। ফলে চাপে পড়ছেন তিনি। দরকারের সময় সূর্যর বিধ্বংসী মেজাজটাই উধাও। সমস্যাটা যাই হোক, ছন্দে ফেরার জন্য তাঁর হাতে বেশি সময় নেই।