নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: ভিন রাজ্যে পুলিশি হেপাজতে থাকাকালীন বাংলার এক পরিযায়ী শ্রমিকের রহস্যমৃত্যুর ঘটনা ঘটল। মৃতের নাম দেবানন্দ সানা (৩৬)। তাঁর বাড়ি বসিরহাটের টাকি পুরসভার ১১ নম্বর ওয়ার্ডের রামকৃষ্ণপল্লিতে। দেবানন্দকে থানায় নিয়ে গিয়ে পুলিশ পিটিয়ে মেরেছে বলে অভিযোগ পরিবারের।
জানা গিয়েছে, দেবানন্দ সানা দীর্ঘদিন ধরে গোয়ার ভাস্কোর ফকির গলি এলাকায় রাজমিস্ত্রির কাজ করছেন। ২৩ ডিসেম্বর তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। মূলত, চোর সন্দেহে তাঁকে গ্রেপ্তার করে ভাস্কো দা গামা থানার পুলিশ। ২৪ তারিখ পরিবারের লোকজন জানতে পারেন, তাঁকে ভর্তি করা হয়েছে গোয়ার বাম্বোলিমের মনোরোগ ইনস্টিটিউটে। পরে সেখান থেকে তাঁকে গোয়া মেডিকেল কলেজে স্থানান্তরিত করা হয়। ২৫ ডিসেম্বর সেখানেই মারা যান তিনি। ফোন মারফত এমনটাই জানতে পারে পরিবার। স্বাভাবিকভাবে দিশাহীন হয়ে পড়েন তাঁরা। যোগাযোগ করেন স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বর সঙ্গে। টাকির স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের উদ্যোগে ও বসিরহাট জেলা পুলিশের তৎপরতায় শুক্রবার দেবানন্দের দেহ কলকাতা বিমানবন্দরে আনা হয়। পরে দেহ নিয়ে যাওয়া হয় টাকির বাড়িতে। কান্নায় ভেঙে পড়ে গোটা পরিবার। একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে ঘনঘন সংজ্ঞা হারাচ্ছিলেন মা। তাঁর আক্ষেপ, একের পর এক ঘটনা ঘটছে। বাঙালিরা কেন অন্য রাজ্যে নিরাপদে থাকতে পারবে না? সন্তান হারা মায়ের বুক ফাটা আর্তনাদ—ছেলের উপার্জনে আমাদের সংসার চলত। গোয়া পুলিশ কেন ওকে গ্রেপ্তার করেছিল, তারপর কেন মারা গেল, এর তদন্ত চাই। এজন্য মুখ্যমন্ত্রীর কাছে সাহায্যের আবেদন জানাচ্ছি। মৃতের দিদি রুমা মণ্ডল বলেন, যে দিন ভাইকে পুলিশ ধরে, সেদিন সকালে কথা হয়। কোনও অসুস্থতার কথা বলেনি। তাছাড়া ভাইয়ের পায়ের তলায় পুলিশের লাঠির মারের কালশিটে দাগ আছে। পুলিশ ওকে পিটিয়ে মেরেছে। বসিরহাট দক্ষিণের তৃণমূল বিধায়ক সপ্তর্ষি বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে বাংলা ভাষায় কথা বললেই অত্যাচারিত হতে হচ্ছে। দেবানন্দের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটেছে বলেই আমাদের অনুমান। নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য আমরা আইনি পথে হাঁটব।