সংবাদদাতা, মালদহ: রবিবারেও মালদহে রয়ে গেল হোলি খেলার রেশ। জেলার বিভিন্ন জায়গায় এদিন বিচ্ছিন্ন ভাবে আবির খেলা হয়। স্থানীয় পরিভাষায় একে বাসি হোলি বলা হয়ে থাকে। ছুটির দিন থাকায় বাসি হোলি নিয়ে মাতামাতিও লক্ষ্য করা গিয়েছে অনেকখানেই। তবে মোটের ওপরে এদিন মালদহ শহরে রাস্তাঘাটে জন সমাগম ছিল লক্ষ্যণীয় মাত্রায় কম। সকালের দিকে বেশ কিছু রিকশ ও ই-রিকশ রাস্তায় নামলেও দুপুরের পর থেকে কমতে থাকে সেই সংখ্যাও। শনিবারের হোলির পর রবিবারে বাসী হোলির দিন পুলিসের নজরদারি ছিল মালদহে। তবে বাসী হোলিকে কেন্দ্র করে কোনও অবাঞ্ছিত ঘটনার লিখিত অভিযোগ সন্ধ্যা পর্যন্ত জমা পড়েনি বলেই পুলিস মহলের বক্তব্য।
মালদহে দোল পূর্ণিমা ‘দেবদোল’ নামে পরিচিত। রাধাকৃষ্ণ এবং চৈতন্য মহাপ্রভু বিভিন্ন ঠাকুর দেবতার চরণে আবির দিয়ে এই দিনটি পালন করা হয়ে থাকে। হোলির দিন সকালে হয় জল রঙ খেলা। বিকালে চলে আবির পর্ব। মালদহে স্থানীয় ভাবে দিনটিকে ‘মানুষ দোল’ বলে অভিহিত করা হয়। দোলের পরের দিন কোথাও কোথাও অব্যাহত থাকে আবির খেলার ধুম। এই পর্বটিই ‘বাসি হোলি’ নামে পরিচিত। এদিন রাস্তাঘাটে বেশ কিছু মানুষ একে অপরকে আবিরে রঙিন করে দেন। রবিবার ছুটির দিন থাকায় ফুরফুরে মেজাজে রঙ খেলতে দেখা যায় বিশেষত কিশোর, তরুণ ও মধ্য বয়স্কদের। কোথাও কোথাও খোলা ছিল আবিরের দোকানও। আবির খেলার সঙ্গেই চলে মিষ্টিমুখও। তবে হোলির পরদিন আরও একবার রঙ মাখতে নারাজ অনেকেই। ‘বাসি হোলি’র কথা মাথায় রেখেই তাই এদিন রাস্তায় নামেননি অনেকেই। আবার অনেক মানুষ হোলির পরের দিন বিশ্রামে কাটিয়েছেন বাড়িতেই। সাপ্তাহিক ছুটির দিন থাকায় বেশির ভাগ দোকানপাটও ছিল বন্ধ। তবে ইদের বাজার করতে অনেকেই ভিড় করেন বিশেষত জামা কাপড়ের দোকানে।
পুলিসের তরফে জানানো হয়েছে, হোলির দিন মালদহের মানিকচক ও কালিয়াচকে দুইটি খুনের ঘটনা ঘটে। ইংলিশবাজারেও গুলি চলে। কিন্তু এদিন ‘বাসি হোলি’কে কেন্দ্র করে বড় কোনও অপ্রীতিকর ঘটনার অভিযোগ আসেনি।