সংবাদদাতা, বহরমপুর: ‘কালী মোরে দিবি কালিমা, লিখব তাতে পদাবলী। অসি ছেড়ে ধর মা বাঁশি, দেখবে জগৎ কৃষ্ণকালী।’-গোবিন্দদাস রচিত পদাবলীর ভাবধারাকে সামনে রেখেই বহরমপুরের রিং রোড আশ্রমপাড়ায় নিতাই নিমাই কুঞ্জে বাসন্তীপুজো হচ্ছে। ‘বসন্ত কুঞ্জেশ্বরী’ নামে এখানে দেবীর পুজোর আয়োজন করা হয়েছে। প্রথম বর্ষেই এই পুজো এলাকার মানুষের মধ্যে সাড়া ফেলেছে।
২৯ মার্চ মহালয়া ও বসন্ত চণ্ডীপাঠের মাধ্যমে পুজোর সূচনা হয়েছে। ৭এপ্রিল পাখাল ভোগ ও দেবীর বিজয়যাত্রা দিয়ে অনুষ্ঠান শেষ হবে। বাসন্তীপুজো উপলক্ষ্যে ভক্তরা নবরাত্রি উদযাপন করছেন। নিতাই নিমাইকে সামনে রেখেই পুজোপাঠ, হোমযজ্ঞ হচ্ছে। মহাসপ্তমী পর্যন্ত শাক্তমতে পুজো হয়েছে। অষ্টমী তিথি থেকে বৈষ্ণবমতে পুজো হচ্ছে। অষ্টমী তিথিতে বিশেষ উপাচারে কুমারী পুজো হয়। নিতাই নিমাই কুঞ্জের অধ্যক্ষ আচার্য মাধব মুখোপাধ্যায় বলেন, বৈষ্ণব পদকর্তা গোবিন্দদাস কবিরাজ ভগবানগোলা ব্লকের শ্রীপাটধুবুরি গ্রামে গৌরগোপাল বিগ্রহ প্রতিষ্ঠা করে শাক্ত, শৈব ও বৈষ্ণবের মহামিলন ক্ষেত্র গড়েছিলেন। প্রায় ৪৫০বছর আগে সেই পুজো বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। আমরা নতুন করে ‘বসন্ত কুঞ্জেশ্বরী’ নামে সেই পুজো শুরু করেছি। আশ্রমে মহাদেব কুঞ্জেশ্বর নামে পূজিত হন। তাই দেবী এখানে বসন্ত কুঞ্জেশ্বরী নামে পূজিতা হচ্ছেন। ২০১৯সালে কয়েকজন ধর্মপ্রাণ বৈষ্ণবের উদ্যোগে আশ্রমপাড়ায় নিতাই নিমাই কুঞ্জ গড়ে ওঠে। শুরুতে ভাড়াবাড়িতেই নিতাই নিমাইয়ের সেবা হতো। ২০২১সালে কুঞ্জ কমিটি নিজস্ব ভবনে নিতাই নিমাইয়ের বিগ্রহ প্রতিষ্ঠা করে। সেই আশ্রমে নিতাই নিমাইয়ের বিগ্রহের সামনে এবার প্রথম বাসন্তীপুজো আয়োজিত হয়েছে। আশ্রম কমিটি জানিয়েছে, এই পুজোয় ‘জীবন্ত নবপত্রিকা’ রয়েছে। অর্থাৎ ডাল না কেটে নয়টি জীবন্ত গাছ দিয়ে নবপত্রিকা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। দেবীপ্রতিমার রংও নিতাই নিমাইয়ের গায়ের রঙের অনুরূপ। কুঞ্জের সম্পাদক চন্দন দাস বলেন, নিতাই নিমাইয়ের সামনে দেবীপ্রতিমা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আমাদের পুজোয় আড়ম্বরের তুলনায় উপাচার, নিষ্ঠা ও ভক্তির উপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। রোজ পুজোপাঠ শেষে সান্ধ্য অনুষ্ঠানে বঙ্কুবিলাস ঠাকুর, নিমাই মহন্ত, নিত্যানন্দ দাস, চরণ দাস, মাধব মুখোপাধ্যায়রা প্রবচন পাঠ করেন। ভক্তদের প্রতিদিন ভোগপ্রসাদ বিতরণ করা হয়। আশ্রমের সভাপতি শুভব্রত সাহা বলেন, মানুষের কাছে ভিক্ষা, সাহায্য নিয়েই বহু পরিশ্রমে মন্দির প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। বাসন্তী পুজোও হচ্ছে ভক্তদের দানের টাকায় হচ্ছে।