Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বাসন্তী কটন মিল: কংগ্রেসের শ্রমিক সংগঠনের সভাপতি তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষ! জোর বিতর্ক পানিহাটিতে

জাতীয় কংগ্রেস ভেঙে তৃণমূল কংগ্রেস গঠিত হয় ১৯৯৮ সালে। আইএনটিইউসি (কংগ্রেসের শ্রমিক সংগঠন) ভেঙে তৃণমূলের নিজস্ব শ্রমিক সংগঠন আইএনটিটিইউসি তৈরি হয় সেই সময়েই।

বাসন্তী কটন মিল: কংগ্রেসের শ্রমিক সংগঠনের সভাপতি তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষ! জোর বিতর্ক পানিহাটিতে
  • ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: জাতীয় কংগ্রেস ভেঙে তৃণমূল কংগ্রেস গঠিত হয় ১৯৯৮ সালে। আইএনটিইউসি (কংগ্রেসের শ্রমিক সংগঠন) ভেঙে তৃণমূলের নিজস্ব শ্রমিক সংগঠন আইএনটিটিইউসি তৈরি হয় সেই সময়েই। তারপর গঙ্গা দিয়ে অনেক জল গড়িয়েছে। ২০১১ সালে রাজ্যে পালাবদলের সময় কংগ্রেস ও তৃণমূলের জোট থাকলেও গত প্রায় এক দশক তারা একে অপরের বিরোধী। এই অবস্থায় যদি দেখা যায়, কোনও কারখানার আইএনটিইউসি অনুমোদিত শ্রমিক সংগঠনের মাথায় বসে আছেন স্বয়ং তৃণমূল বিধায়ক—তা বিস্ময়ের বই কি! ঠিক এমনটাই ঘটেছে পানিহাটিতে।  

Advertisement

৩৮ বছর আগে বন্ধ হয়ে যাওয়া পানিহাটির বাসন্তী কটন মিলের শ্রমিকরা হাইকোর্টের নির্দেশে তাঁদের বকেয়া পেতে শুরু করেছেন। শ্রমিক বা তাঁদের উত্তরাধিকারীরা যাতে সুষ্ঠুভাবে তাঁদের প্রাপ্য পান, তার জন্য একটি কমিটি গঠিত হয়েছে। কারখানার আইএনটিইউসি অনুমোদিত শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি হিসেবে সেই কমিটির অন্যতম সদস্য হয়েছেন পানিহাটির তৃণমূল বিধায়ক তথা বিধানসভায় দলের মুখ্য সচেতক নির্মল ঘোষ! এই তথ্য সামনে আসার পরই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক। বিরোধীদের পাশাপাশি শাসক দলের অন্দরেও চর্চা চলছে এনিয়ে। যদিও নির্মলবাবুর দাবি, ‘শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা মেটাতে ৪৪ বছর ধরে আদা-জল খেয়ে লড়ছি। তখন কেউ ছিল না। আদালতের নথিতে আইএনটিইউসি ও আইএনটিটিইউসি, দুটোই রয়েছে।’
পানিহাটির ঐতিহ্যবাহী বাসন্তী কটন মিল বন্ধ হয়ে যায় ১৯৮৭ সালে। বহু শ্রমিক বকেয়া না পেয়ে মারা গিয়েছেন। আদালতে দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ে অবশেষে জট কেটেছে। বিহার, ওড়িশা ও উত্তরপ্রদেশে থাকা শ্রমিক পরিবারও পানিহাটি এসে তথ্যপ্রমাণ জমা দিয়ে বকেয়া টাকা দাবি করছেন। হাইকোর্টের যে রায়ের ফলে এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, সেই অর্ডার কপিতে নির্মলবাবুকে বাসন্তী কটন মিলের আইএনটিইউসি অনুমোদিত কর্মচারী সমিতির সভাপতি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সিটু ইউনিয়নের সেক্রেটারি হিসেবে নাম রয়েছে অসীমকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তাঁরাই কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একযোগে শ্রমিকদের বকেয়া মেটানো ও মালিকপক্ষকে জমি তুলে দেওয়ার দায়িত্বে রয়েছেন। বাসন্তী কটন মিল লাগোয়া বি টি রোডের উপর রীতিমতো অফিস খোলা হয়েছে এই কাজের জন্য।  
এ বিষয়ে আইএনটিইউসির রাজ্য সভাপতি মহম্মদ কামরুজ্জামান কামার বলেন, ‘উনি তৃনমূলের বিধায়ক হয়ে কংগ্রেসের শ্রমিক সংগঠনের সভাপতি হিসেবে রয়েছেন। এই ধরনের অনৈতিক কাজ কখনও কাম্য নয়। দীর্ঘদিন কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আমাদেরও বিষয়টি সেভাবে খতিয়ে দেখা হয়নি।’ এই পরিস্থিতিতে পানিহাটির বিজেপি নেতা জয় সাহার কটাক্ষ, ‘সবই ইন্ডিয়া জোটের খেলা। মানুষকে বিভ্রান্ত করতে ওরা এই রাজ্যে লড়াই-লড়াই খেলা দেখায়। ভিতরে সব এক।’ তবে যাবতীয় বিতর্ক উড়িয়ে নির্মলবাবু বলেন, ‘কারখানা বন্ধ হওয়ার সময় থেকেই আমি ওই পদে ছিলাম। পরে আমরা সবাই তৃণমূলে যোগ দিই। স্বাভাবিক নিয়মে ইউনিয়ন তৃণমূলের অর্থাৎ আইএনটিটিইউসি হয়ে যায়। কিন্তু তার আগে কোর্টে কেস শুরু হয়েছে। পরে আদালত সহ নানা এগ্রিমেন্টে আইএনটিটিইউসির উল্লেখ আছে। এতদিন আইএনটিইউসি কোথায় ছিল? একদিনের জন্যও শ্রমিক স্বার্থে ওঁরা কেউ আদালতে গিয়ে লড়াই করেছেন?’  

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ