নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: ‘আজ বসন্তের গায়ে হলুদ, কাল বসন্তের বিয়া গো, শিমুল-পলাশ সাজবে আজি নাকে নোলক দিয়া..’-ঝাড়গ্রামের প্রকৃতি সত্যিই শিমুল-পলাশের ফুলে সেজে উঠেছে। এই সময়ে ঋতুরাজ বসন্তকে আহ্বান করতে ঝাড়গ্রামের ‘আস্থা’ ও ‘জঙ্গলমহল উদ্যোগ কমিটি’র আয়োজনে দু’দিন ধরে বসন্ত-হলুদ উৎসব উদ্যাপিত হবে। উৎসবে যোগ দেওয়া পর্যটক ও অতিথিদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা থাকবে।
ঝাড়গ্রামে ২০১৮সাল থেকে ‘বসন্ত হলুদ উৎসব’ শুরু হয়েছে। আস্থার সম্পাদক উজ্জল পাত্র ও জঙ্গলমহল উদ্যোগ কমিটির সাধারণ সম্পাদক প্রিয়ব্রত বেরা বলেন, সাধারণ আবির মাখলে অনেকের অ্যালার্জির সমস্যা হয়। তাই উৎসব প্রাঙ্গণে ভেষজ আবিরের পাশাপাশি কাঁচা হলুদ ও সর্ষের তেল থাকবে। তাই উৎসবের নামও দেওয়া হয়েছে বসন্ত-হলুদ উৎসব। শহরের প্রাণকেন্দ্র শালগাছ ঘেরা রবীন্দ্র পার্কে এই উৎসব হবে। উৎসব প্রাঙ্গণে বাইরে থেকে আনা আবির ব্যবহার নিষিদ্ধ।
আস্থার সভাপতি তথা বিশিষ্ট চিকিৎসক প্রসূন ঘোষ বলেন, সাধারণ আবিরে বিভিন্ন রাসায়নিক দ্রব্য মেশানো থাকে। যার ফলে অনেকের অ্যালার্জি হয়। আবার চোখে লেগে গেলে ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে। ভেষজ আবিরে এসব হয় না। কাঁচা হলুদ চামড়ার জন্য উপকারী। শহর ছাড়াও জেলার বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ এই উৎসবে শামিল হবেন। বাইরে থেকে আসা পর্যটকদেরও উৎসবে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। শান্তিনিকেতনের রীতিতে বসন্ত উৎসব হবে। উৎসবের মূল বার্তা, বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য।
উৎসব কমিটির সদস্য অশোক গরাই ও দেবাশিস শীট বলেন, অরণ্য-পাহাড়ের কোলে আমরা বড় হয়েছি। প্রকৃতির সঙ্গে আমাদের স্বাভাবিক যোগ রয়েছে। বসন্তে এই জেলার প্রকৃতি সেজে ওঠে। ১৩ ও ১৪মার্চ শহরের রবীন্দ্র পার্কে শালগাছের তলে উৎসব হবে। এছাড়া, ১৩মার্চ রবীন্দ্র পার্ক চত্বরে আঁকা প্রতিযোগিতা ও রাতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান থাকছে। ১৪মার্চ লোকশিল্পীদের নানা অনুষ্ঠান, নাচগান হবে। উৎসব কমিটির অন্যতম সদস্য তথা জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদের চেয়ারম্যান জয়দীপ হোতা বলেন, এবারও জেলার সমস্ত স্তরের মানুষ এই উৎসব যোগ দেবেন। পর্যটক সহ সর্বস্তরের মানুষকে উৎসবে শামিল হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।-নিজস্ব চিত্র