সংবাদদাতা, বারুইপুর: ফি বছর ভারী বৃষ্টি হলেই জলমগ্ন হয় বারুইপুর পুরসভার বেশ কিছু ওয়ার্ড। আর সেই জমা জলে ডুবে যায় মদারাট পঞ্চায়েত। অভিযোগ, সমস্যা সমাধানে কেএমডিএর পরিচালনায় পুরসভার তত্ত্বাবধানে কয়েক কোটি টাকায় নর্দমা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু তাতে কোনো কাজ হয়নি। কারণ নর্দমা তৈরির কাজ পুরো সম্পন্নই হয়নি। পাশাপাশি, নর্দমা, কালভার্ট কোনোদিন পরিষ্কার হয় না। কালভার্ট-এর উপরেই গজিয়ে উঠেছে ইট রাখার জায়গা। এসব দেখেও পঞ্চায়েতের লোকজন নীরব।
মদারাট পঞ্চায়েতের তৃণমূলের প্রধান রক্ষিত নস্কর বলেন, পুরসভার জলে আমাদের এলাকা ডোবে। আমাদের পক্ষ থেকে নর্দমা পরিষ্কার হলেও পুরসভা মাসে একবার করে। তবে এলাকায় আরও নর্দমা নির্মাণ হওয়ার কথা আছে। এই প্রসঙ্গে বারুইপুর পুরসভার চেয়ারম্যান শক্তি রায়চৌধুরী বলেন, পঞ্চায়েত এলাকার বাজারের আবর্জনা, প্লাস্টিক নর্দমায় ফেলে মুখ আটকে দেওয়া হয়েছে। পুরসভার দু’-একটি ওয়ার্ডের জল পঞ্চায়েত এলাকায় গেলেও নর্দমা পরিষ্কার করে বার করে দেওয়া হয়। এভাবেই পুরসভা ও পঞ্চায়েত একে অপরের ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে চলে।
বারুইপুর পুরসভার ১৭টি ওয়ার্ড। এর মধ্যে ২, ১৩, ১৪
নম্বর ওয়ার্ডের জমা জল মদারাট পঞ্চায়েত এলাকায় ঢোকে বলে অভিযোগ। ফি বছরেই মদারাট পপুলার আকাডেমি স্কুলের আগে থেকে একেবারে বাদামতলা পর্যন্ত রাস্তা জলমগ্ন হয়। স্কুল পড়ুয়াদের জমা জলে পা দিয়েই স্কুলে যেতে হয়। জলে আটকে যায় অ্যাম্বুলেন্স থেকে শুরু করে অন্য গাড়ি। মদারাট পপুলার আকাডেমি স্কুলের আগে থেকে বটতলা পর্যন্ত নর্দমা করা হয়েছে। তবে অভিযোগ, সেখানে থাকা কালভার্ট কোনোদিন পরিষ্কার করা হয় না। এছাড়া কিছু জায়গায় এখনও নর্দমা তৈরি সম্পূর্ণ হয়নি। কালভার্ট-এর উপরেই বসে বাজার। কালভার্ট দখল করে ইট রাখার জায়গা হয়ে গিয়েছে।
এদিকে, ভুক্তভোগী বাসিন্দাদের অভিযোগ, পঞ্চায়েত ও পুরসভা জমা জলের জন্য দায়ী। বছরের পর বছর ঘুরলেও এই সমস্যার সমাধান হয়নি। রাস্তার পাশে নর্দমা, কালভার্ট কোনোদিন পরিষ্কার হয় না। অনেক জায়গায় নর্দমার মুখ বন্ধ হয়ে গিয়েছে। জল বের হওয়ার জায়গাই নেই। এদিকে কোনো নজর নেই স্থানীয় প্রশাসনের। তাই দুর্ভোগ মানুষের সঙ্গী।