সংবাদদাতা, বারুইপুর: বন্ধ করা হল বারুইপুর স্টেশনের ফুট ওভারব্রিজ। স্টেশন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সংস্কার কাজের জন্য সোমবার সন্ধ্যা থেকে ফুট ওভারব্রিজ বন্ধ করা হয়েছে। এর ফলে ঝুঁকি নিয়েই লাইন পেরিয়ে ট্রেন ধরতে হচ্ছে নিত্যযাত্রীদের। ফুট ওভারব্রিজ যে বন্ধ, তা যাত্রী সাধারণকে জানাতে মাইকিং করা হচ্ছে বলে রেল কর্তৃপক্ষ দাবি করলেও যাত্রীদের বক্তব্য, মাইকে তেমন কোনও ঘোষণা শোনা যাচ্ছে না। এমনকী, রেল পুলিসেরও দেখা নেই। ফলে লাইন পেরিয়ে যেতে গিয়ে যে কোনও সময় বড়সড় বিপদ হতে পারে।
বারুইপুর স্টেশনের ১ নম্বর ও ৪ নম্বর প্ল্যাটফর্মকে যুক্ত করেছে এই ফুট ওভারব্রিজ। মাঝে ২ ও ৩ নম্বর প্ল্যাটফর্মে নেমে গিয়েছে সিঁড়ি। নিত্যদিন হাজার হাজার যাত্রী এই ব্রিজ পেরিয়েই গন্তব্যের ট্রেন ধরতে এইসব প্ল্যাটফর্মে যান। দীর্ঘদিন ধরে ব্রিজের সিঁড়ি থেকে শুরু করে পাটাতন সবই নড়বড়ে অবস্থায় রয়েছে। তার উপর এই উড়ালপথ এখন ভবঘুরেদের আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছে। তারা বিভিন্ন জায়গা থেকে জিনিস কুড়িয়ে এনে নোংরা, আবর্জনায় ভরিয়ে তুলেছে ওভারব্রিজকে। ফলে দুর্গন্ধের জেরে যাওয়ার উপায় নেই। আবার ২ ও ৩ নম্বর প্ল্যাটফর্মে যেখানে ওভারব্রিজের সিঁড়ি শুরু হচ্ছে, তার পাশেই রয়েছে শৌচালয়। সেটি পেরিয়ে যেতে হলে নাকে রুমাল দিতে হয় যাত্রীদের।
প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর ১ নম্বর প্ল্যাটফর্মে ওভারব্রিজের চাঙড় ভেঙে মৃত্যু হয়েছিল বারুইপুরের নায়েব মোড়ের বাসিন্দা অসীমা প্রামাণিকের। এই ওভারব্রিজ দীর্ঘদিন ধরেই চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। নিত্যযাত্রীদের বক্তব্য, ওভারব্রিজ বন্ধ থাকায় রেলের তরফে মাইকিং করা উচিত ছিল। কোনও ঘোষণা ছাড়াই এটি আচমকা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ফলে বাধ্য হয়েই ঝুঁকি নিয়ে লাইন পারাপার করতে হচ্ছে যাত্রীদের। গোদের উপর বিষফোঁড়া হয়ে দেখা দিয়েছে মালগাড়ি। অনেক সময় ৪ নম্বর প্ল্যাটফর্মে মালগাড়ি ঢুকে পড়লে যাত্রীদের ঠায় দাঁড়িয়ে থাকতে হয়, যতক্ষণ না সেটি চলে যাচ্ছে। বারুইপুর স্টেশনে আরেকটি বড় সমস্যা হল, মূল সড়কে আসতে হলে যাত্রীদের ১ নম্বর প্ল্যাটফর্ম টপকে বাইরে বেরতে হয়। নিত্যযাত্রীদের কথায়, রেলের উচিত বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করা। এইসব সমস্যা নিয়ে উদাসীন বারুইপুর স্টেশন কর্তৃপক্ষ। স্টেশন ম্যানেজারকে বহুবার এ ব্যাপারে জানানো হলেও কাজের কাজ কিছু হয়নি। কতদিন ধরে ফুট ওভারব্রিজের সংস্কারকাজ চলবে, তাও স্পষ্ট করেনি রেল কর্তৃপক্ষ। পূর্ব রেলের জনসংযোগ বিভাগের পক্ষে দীপ্তিময় দত্ত বলেন, বিষয়টি দেখা হবে। তবে ওই ফুট ওভারবিরজটি মেরামত করা জরুরি ছিল। নিজস্ব চিত্র