Bartaman Logo
৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বারুইপুর নাবালিকা ধর্ষণ ও খুন আট সপ্তাহের মধ্যে ৭০২ পাতার চার্জশিট জমা পড়ল আদালতে

বারুইপুরের সূর্যপুরে নাবালিকাকে গণধর্ষণ ও খুনের ঘটনার তদন্ত শেষ করল পুলিশ। ৩১ আগস্ট বারুইপুর বিশেষ পকসো আদালতে চার্জশিট জমা দিয়েছেন তদন্তকারীরা।

বারুইপুর নাবালিকা ধর্ষণ ও খুন আট সপ্তাহের মধ্যে ৭০২ পাতার চার্জশিট জমা পড়ল আদালতে
  • ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: বারুইপুরের সূর্যপুরে নাবালিকাকে গণধর্ষণ ও খুনের ঘটনার তদন্ত শেষ করল পুলিশ। ৩১ আগস্ট বারুইপুর বিশেষ পকসো আদালতে চার্জশিট জমা দিয়েছেন তদন্তকারীরা। বৃহস্পতিবার সেকথা জানিয়েছে বারুইপুর পুলিশ জেলা। অভিযোগ দায়ের হওয়ার আট সপ্তাহের মধ্যে ৭০২ পাতার চার্জশিট জমা দিয়েছে তদন্তকারী দল। এই ঘটনায় প্রভাস মণ্ডল, দিবাকর সরদার, আনন্দ সরদার এবং কবির মোল্লা গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। তাদের মধ্যে এনকাউন্টারে মৃত্যু হয়েছে প্রভাসের। ধৃতদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৩৭(২), ১৪০(৩), ৬৫(১), ৭০(২), ১০৩(১), ২৩৮ ও ৬১ নম্বর ধারা এবং পকসো আইনের ৬ নম্বর ধারায় কঠোর অভিযোগ আনা হয়েছে। অর্থাৎ,অপহরণ, গণধর্ষণ, খুনের ধারা যুক্ত করা হয়েছে। সর্বোচ্চ সাজা হিসাবে মৃত্যুদণ্ড অথবা আজীবন কারাদণ্ড সংক্রান্ত ধারাও যুক্ত করা হয়েছে।

Advertisement

পুলিশ সূত্রে খবর, চার্জশিটে বলা হয়েছে, প্রভাস ওই নাবালিকাকে চকলেটের প্রলোভন দিয়ে সূর্যপুর স্টেশন লাগোয়া একটি ঝোপে নিয়ে এসেছিলেন। সেখানে আগে থেকেই অপেক্ষা করছিলেন আনন্দ, দিবাকর ও কবির। সেখানেই নির্যাতন করা হয় নাবালিকাকে। তারপর খুন করে পাশের একটি পুকুরে বস্তায় ভরে ফেলে দেওয়া হয়। এই ঘটনার বিবরণ তুলে দেওয়া হয়েছে চার্জশিটে। অভিযুক্তদের মধ্যে কার কী ভূমিকা ছিল, সেটা পুঙ্খনুপুঙ্খ ভাবে বলা হয়েছে। ধর্ষণ ও খুনের ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই তোলপাড় হয় রাজ্য। ঘটনার গুরুত্ব বুঝে রাজ্য সরকারের নির্দেশে গঠন করা হয় বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট)। তদন্তে নেমে পুলিশ দ্রুত ওই চারজনকে গ্রেপ্তার করে।
তদন্তে মোট ৭৪ জন সাক্ষীর সঙ্গে কথা বলা হয়েছে, যা উল্লেখ রয়েছে চার্জশিটে। দোকানদার, মৃতের পরিবার সহ বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকেও তথ্য নেওয়া হয়েছে। প্রত্যেক ঘটনাক্রম বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এই ঘটনায় যেসব সামগ্রী যেমন অভিযুক্তদের পোশাক, ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া জিনিস প্রভৃতির ফরেনসিক, ফিঙ্গারপ্রিন্ট এবং ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্ট আসেনি। সেগুলি আসতে আরও কিছুটা সময় লাগবে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। রিপোর্ট আসার পর তা সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট হিসাবে যুক্ত করা হবে বলে বারুইপুর পুলিশ জেলা জানিয়েছে। এক পদস্থ কর্তার দাবি, আদালত নির্দেশ দিলেই শুরু হয়ে যাবে বিচার প্রক্রিয়া। এদিকে, ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার জেরে গণপিটুনিতে মৃত্যু হয়েছিল ইন্দ্রজিৎ মণ্ডলের। সেই ঘটনায় পৃথক চার্জশিট জমা পড়বে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ