অর্পণ সেনগুপ্ত, কলকাতা: স্কুলের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পদ্ধতি মডেলের মাধ্যমে তুলে ধরে সর্বভারতীয় প্রতিযোগিতায় দারুণ ফল করল কলকাতা ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার তিনটি স্কুল। দেরাদুনে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় দ্বাদশ শ্রেণি বিভাগে (গ্রুপ-সি) মডেল তৈরিতে প্রথম হয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার গোবিন্দপুর রত্নেশ্বর হাইস্কুল। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে সন্তোষপুর ঋষি অরবিন্দ বালিকা বিদ্যাপীঠ। আর নবম শ্রেণির ছাত্রীদের (গ্রুপ-বি) ক্ষেত্রে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছে বেহালা গার্লস হাইস্কুল।
রত্নেশ্বর হাইস্কুলের শিক্ষিকা আসমা অধিকারী জানান, পড়ুয়ারা বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সঙ্গে বিজ্ঞানের সামঞ্জস্য রেখে মডেলগুলি তুলে ধরেছিল। স্কুলের স্মার্ট স্ট্রিট লাইট, স্মার্ট ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট ব্যবস্থা মডেলের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়। মডেলগুলি তৈরি হয়েছিল বর্জ্য দিয়ে। তার মধ্যে একটি মডেল ছিল কার্বন ফিল্টার দিয়ে তৈরি। একটি সেন্সর ভিত্তিক ক্যুইজ মডেলও তৈরি করা হয়, বিচারকরা যার খুবই প্রশংসা করেছেন। প্রধান শিক্ষক তাপস ভট্টাচার্য আগাগোড়াই পরামর্শ দিয়েছেন। দ্বাদশ শ্রেণির তিন ছাত্রী পর্ণা নস্কর, সুমাইয়া আখতার এবং অরিত্রা মণ্ডল স্কুলকে প্রতিনিধিত্ব করেছে। এর মধ্যে পর্ণা বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে ছবি এঁকে দেশের মধ্যে দ্বিতীয় হয়েছে।
এদিকে, বর্জ্যপাত্র বা ওয়েস্টবিনের একটি স্মার্ট প্রোটোটাইপ মডেল তুলে ধরেছিল ঋষি অরবিন্দ বালিকা বিদ্যাপীঠ। সেই বিনটি সেন্সরের সাহায্যে নিজেই শুকনো বা ভিজে বর্জ্য পদার্থ বেছে নিয়ে নির্দিষ্ট পাত্রে ফেলে দিতে পারে। এরকম ‘স্মার্ট’ পদ্ধতিতে না হলেও তিনটি আলাদা পাত্রে এভাবেই বর্জ্য পুনর্ব্যবহৃত হয় স্কুলে। দ্বাদশ শ্রেণির দুই ছাত্রী জুঁই ভৌমিক এবং মিতু মণ্ডল সেটি তুলে ধরেছে বলে জানান প্রধান শিক্ষিকা সর্বাণী সেন।
ছাত্রছাত্রীদের মেন্টর স্কুলের দুই শিক্ষিকা চৈতালি মুখোপাধ্যায় এবং স্মিতা চট্টোপাধ্যায় পাল দেরাদুনে গিয়েছেন। চৈতালিদেবী বলেন, স্কুল চিলড্রেন্স কংগ্রেস অন ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড সার্কুলার ইকোনমি ইভেন্টটি একটি আন্তর্জাতিক প্রকল্পের অংশ। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন অধ্যাপক সাধনকুমার ঘোষের নেতৃত্বে যে ‘ক্যাচ দেম ইয়ং: জিরো ওয়েস্ট অ্যান্ড সার্কুলার ইকোনমি ইন ক্যাম্পাস’ প্রকল্প রয়েছে, তাঁদের স্কুল সেটির সদস্য। স্কুল সেই প্রকল্পের অধীনে একটি কম্প্যাক্টর মেশিনও পেয়েছে। সেখানেই স্কুলের বাগান, মিড ডে মিল, টিফিনের ফেলে দেওয়া অংশ যায়। তা দিয়ে বিশেষ পদ্ধতিতে জৈব সার তৈরি করে স্কুলের ছাদে তৈরি কিচেন গার্ডেনে কাজে লাগানো হয়। তাছাড়া স্কুলের অন্যান্য প্লাস্টিক বর্জ্য, বাতিল কাগজ রিসাইকেল সংস্থাগুলিকে বিক্রি করা হয়। আর কিছু বর্জ্য দিয়ে নানা সামগ্রী তৈরি করা হয়। এভাবে কিছু আয় হয় স্কুলের। ছাত্রীরা তাদের প্রেজেন্টেশনে এই দিকটিও সুসংহতভাবে তুলে ধরেছে।
বেহালা গার্লস হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষিকা কাবেরী চট্টোপাধ্যায় বলেন, আমাদের স্কুলে বর্জ্য দিয়ে যেভাবে হ্যান্ডমেড কাগজ এবং তা দিয়ে গ্রিটিংস কার্ড তৈরি হয়, বায়োগ্যাস তৈরি হয়, সেগুলি নবম শ্রেণির দুই ছাত্রী অনুষ্কা সাহা এবং মনীষা সাউ তুলে ধরেছিল। তাতেই এসেছে সাফল্য। তিনি নিজেই ছাত্রীদের নিয়ে দেরাদুনে গিয়েছিলেন। এর জন্য তিনি অধ্যাপক সাধনকুমার ঘোষকে কৃতিত্ব দিয়েছেন।