Bartaman Logo
১৫ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রবিবার

গোধূলি লগ্ন

রাস্তার দু’পারে দুটো বাড়ি। একেবারে মুখোমুখি। হালকা নীলে নতুন রং করা মহীতোষ হাজরার বাড়িতে এখন চাপা খুশির হাওয়া ঘুরপাক খাচ্ছে। আজ অন্তরার বিয়ে।

গোধূলি লগ্ন
  • ২৩ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

পুলককুমার বন্দ্যোপাধ্যায়: রাস্তার দু’পারে দুটো বাড়ি। একেবারে মুখোমুখি। হালকা নীলে নতুন রং করা মহীতোষ হাজরার বাড়িতে এখন চাপা খুশির হাওয়া ঘুরপাক খাচ্ছে। আজ অন্তরার বিয়ে। 

Advertisement

উল্টোদিকে মৃত্যুঞ্জয় ঘোষের বাড়িতে সকাল থেকে চলছে হরিনাম সংকীর্তন আর গীতা পাঠ। আজ গৃহকর্তার শ্রাদ্ধ। থমথমে মুখে বাবার ছবির সামনে বসে পুরোহিতের সঙ্গে মন্ত্রোচ্চারণ করছে মৈনাক। 
প্রতিবেশী হিসেবে দুটো পরিবারের মধ্যে ভাব ভালোবাসার এতটুকু খামতি কোনও দিন ছিল না, আজও নেই। বরং সম্পর্কটা যথেষ্ট মজবুতই বলতে হবে। যেদিন খাট থেকে পড়ে গিয়ে মৃত্যুঞ্জয় জ্ঞান হারিয়েছিলেন, সেদিন খবরটা পেয়েই ও বাড়ি থেকে মেয়েকে নিয়ে প্রথম ছুটে আসেন মহীতোষই। তারপরে লোকজন ডাকাডাকি করে হাসপাতালে পাঠানো পর্যন্ত সারাক্ষণ সঙ্গে থেকেছেন। সাময়িক খরচখরচার ব্যাপারেও এতটুকু ভাবতে পর্যন্ত দেননি। এরকম একটা হঠাৎ বিপদের দিনে মৈনাক তখন যাকে বলে একেবারে বিভ্রান্ত। ভীষণ মুষড়ে পড়েছিল সে। সেই সময় কয়েকটা দিন এ বাড়ির রান্নার মাসির ওপরে ভরসা না করে নিজেদের বাড়ি থেকে খাবার নিয়ে এসে জোর করে তাকে খাওয়াতে বসিয়েছে অন্তরা। 
‘এত ভেঙে পড়লে চলবে কেন? দেখবে, জেঠু ঠিক ভালো হয়ে যাবে।’ সান্ত্বনা দিতে গিয়ে একটু যেন শাসনের সুরও খেলে গিয়েছিল অন্তরার গলায়, ‘আয়নায় চেহারাটা একবার দেখেছ? নিজের শরীরটার দিকেও তো নজর দিতে হবে, না কী!’ 
বাবার হঠাৎ এমন দুর্ঘটনার পরেই কেমন যেন চাপা কষ্টে সবসময় গুমরোতে থাকে মৈনাক। তার পায়ের নীচে মাটিটা বুঝি ক্রমশ আলগা হয়ে যাচ্ছে! মাথার ওপরে আকাশটা কি এবার খুব ছোট হয়ে যাবে? এরপরে তো অনেক কিছুই গুরুত্ব দিয়ে ভাবতে হবে তাকে। ছ’বছর হল মা নেই। বাবার পেনশন আর তার নিজের গোটা পাঁচেক টিউশনির ওপরে ভরসা করেই এ সংসারটা চলছে। একটা পাকাপোক্ত চাকরির জন্যে এত পরীক্ষা দিল, কোনওটাতেই ইন্টারভিউ পর্যন্ত এগতে পারল না। বিপদের দিনে হাবিজাবি নানা দুর্ভাবনাগুলোই তো সবার আগে ছুটে আসে। এখন যদি সত্যি সত্যিই খারাপ কিছু একটা ঘটে যায়, তাহলে...! সংসারের বাঁধা আয় কমে যাবে, রান্নার মাসিকে হয়তো আর রাখতেই পারবে না, নিজেকেই তখন সবদিক সামলাতে হবে। একান্তই ব্যক্তিগত সমস্যাগুলোকে তো আর মুখ ফুটে প্রকাশ করা যায় না! তবে অনেক দিন ধরে এ বাড়িতে আসা যাওয়ার সুবাদে তার মানসিক অবস্থার কথা হয়তো কিছুটা আঁচ করতে পেরেছে অন্তরা। 
অনেকগুলো দিন লড়াই করেও মৃত্যুকে জয় করতে পারলেন না বাবা। মহীতোষ পিঠে হাত রেখে সান্ত্বনা দিয়েছিলেন, ‘এত ভেঙে পড় না, আমরা তো রয়েছি...! ভবিতব্যকে মানতেই হবে, কেউ কিচ্ছু করতে পারে না। সেই অভাবও পূরণ হওয়ার নয়। ইস্‌, এমন একটা সময়! বিয়ের তারিখটাও ধরা হয়ে গেল। এখন না হলেই বরং ভালো হতো।’ 
অন্তরার সব দিকে কড়া নজরদারি। মৃত্যুঞ্জয় জেঠুকে হাসপাতালে ভর্তি করার পর থেকে সে যেন পুরো বাড়িটারই দেখভালের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছিল। মহীতোষ অবশ্য আগেই মেয়েকে বলেছিলেন, ‘তুই একটু খোঁজখবর রাখিস। বেচারি ছেলেটার ওপর দিয়ে বড্ড ধকল যাচ্ছে।’ 
মৈনাক প্রথম প্রথম প্রায় প্রতিদিনই হাসপাতাল থেকে ফিরে দেখেছে তার বাসি জামাকাপড়গুলো কেচে, শুকিয়ে ঠিক ঠিক জায়গায় গুছিয়ে রেখেছে অন্তরা। মুখের সামনে খাবার সাজিয়ে দিয়ে বলেছে, ‘সব খেয়ে নাও। ইচ্ছে হবে না, তবু জোর করে খেতে হবে।’ কথা বলার সময় অন্তরার দু’চোখে কেমন যেন একটা প্রচ্ছন্ন অনুরাগ আর নম্র শাসনের ছায়া দেখতে পায় মৈনাক। 
‘এত বেলা পর্যন্ত নিশ্চয়ই নিজে কিছু খাওনি। আজ তো আবার শনিবার, তোমার নিরামিষ।’ 
চোখটা সরিয়ে নেয় অন্তরা, ‘মনে রেখেছ দেখছি। হ্যাঁ, তোমার কাছে যখন পড়তে আসতাম তখন থেকেই বড়ঠাকুরের বারটা করে আসছি। আজও ছাড়িনি।’ 
খুব কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে নানা মানসিক আর শারীরিক চাপ সহ্য করতে করতে প্রায় তিন-তিনটে মাস গড়িয়ে গেল। এই সময়টায় পড়াতে যাওয়াও ছিল একরকম অনিয়মিত। অন্তরা বলেছিল, ‘এখন কটা দিন থাক না, জেঠু বাড়ি ফিরলে আবার শুরু করবে। যা ধকল যাচ্ছে তোমার ওপর দিয়ে!’ 
মেয়েটা প্রকারান্তরে যেন জোর খাটাতে চায়। নীচে রাস্তা, দুটো বাড়ির ছাদ আলাদা, মাঝে হাত কয়েকের দূরত্ব, মাথার ওপরে আকাশ তো একটাই। অন্তরা যেন মনে মনে সেই আকাশটাকেই ছুঁতে চাইত। প্রতিদিন বিকেলে ঘুরে বেড়াত ছাদে। মাঝে মাঝে নজরটা ধাক্কা খেত উল্টো দিকের দোতলার খোলা জানলায়। ঘরের মধ্যে একটা টেবিল আর হাতল ভাঙা চেয়ারটাকে স্পষ্ট দেখা যায়। প্রায় দিনই মৈনাক বসে থাকে মুখ নিচু করে। মনে হবে যেন কোনও অসুস্থ রোগী ঝিমোচ্ছে। আসলে তা নয়, সে গান শুনছে। সর্বক্ষণ ওই একটা নেশাতেই বুঁদ হয়ে থাকতে ভালোবাসে মানুষটা। অন্তরা জানে, মৈনাকের কাছে গান বলতে শুধুই রবীন্দ্রসঙ্গীত। এ ছাড়া যেন আর কিছু বোঝেই না সে। তার টেবিলে ডাঁই করা পুরনো কাগজপত্তরের পাশে দুটো বই ভীষণ যত্ন করে সাজানো থাকে— গীতাঞ্জলি আর গীতবিতান। বড় মমতা ওই বই দুটোর ওপরে। আর আছে রবীন্দ্রসঙ্গীতের গোছা গোছা ক্যাসেট। ইচ্ছেমতো শোনে, একেবারে মজে যায়, তখন অন্য কোনও দিকেই আর খেয়াল থাকে না। 
ও বাড়ির ছাদের দিকে নজরটা চলে গেলে মৈনাক এক চিলতে হাসে। ওর সেই সময়কার হাসিটাকে খুব পরিচ্ছন্ন আর নিষ্পাপ বলে মনে হয় অন্তরার। মুখ টিপে পাল্টা হাসিতে হয়তো সেটা বুঝিয়েও দিতে চায়। মৈনাকও চেয়ারে বসে মাঝে মাঝেই তার নজরটাকে সেদিকে ঠেলে দিতেও ছাড়ে না। 
একদিন অন্তরা বলেছিল, ‘তুমি এত রবীন্দ্রভক্ত। আর কোনও গানই নিতে পার না বুঝি? কিন্তু শুধুই শোনো, কখনও গাইতে দেখিনি তো।’ 
শুনে সেই আগের মতোই একফালি চাপা হাসি মৈনাকের মুখে, ‘নিজে গাইতে হবে এমন কোনও দিব্যি আছে নাকি? লেখকের জন্যে যেমন পাঠক।’ বেশ আত্মঅভিমানের স্পষ্ট ভাষা ফুটে উঠেছিল তার গলায়, ‘রবীন্দ্রনাথ ছাড়া অন্য কিছু ভাবতেই পারি না।’ 
একটু থেমে জিজ্ঞেস করে, ‘তুমি কেন গান বাজনার চর্চা কর না? আমি জোর গলায় বলতে পারি, যদি রবীন্দ্রসঙ্গীতটা শেখ তাহলে আমার মতো এমন অনুরাগী শ্রোতা আর একজনকেও পাবে না কিন্তু।’ 
কথাটা শুনে অন্তরা হাসি চেপে রাখতে পারে না, ‘আমার গলায় গান। নাঃ, এ জীবনে বোধহয় সেটা আর হল না। অবশ্য, গান শেখার চেষ্টাও তো কোনও দিন করিনি। রবীন্দ্রসঙ্গীত বলতে ওই জন-গণ-মন, স্কুলের প্রেয়ারে যেটুকু গেয়েছি। স্কুল ছেড়েছি, আমার গলায় রবীন্দ্রসঙ্গীতও শেষ।’ 
বলল বটে, কিন্তু নিজে গান শেখেনি বলে অন্তরার মনের মধ্যে একটা চাপা কুণ্ঠাবোধ, মৈনাকের নজর এড়ায়নি। 
‘অবশ্য পরে কখনও চেষ্টা করতে পারি। শিখলে শুধুই রবীন্দ্রসঙ্গীত।’ অন্তরা বলেছিল। 
বাবার মৃত্যু পরবর্তী সময়টা মৈনাকের কাছে ধু-ধু শূন্যতার একখণ্ড নিঃস্ব তেপান্তর! দুঃসহ একাকিত্ব তাকে সবসময় গিলে গিলে খাচ্ছে। প্রতিটি মুহূর্ত বড় বিষণ্ণ আর বিস্বাদ। তার মনের এই অবস্থাটা যেন অন্তরাই শুধু বুঝতে পারে। তার চোখে মৈনাক পুরোপুরি একজন আত্মকেন্দ্রিক মানুষ। বন্ধু-বান্ধবের সঙ্গ নেই, কখনও ঝুটঝামেলায় জড়ায় না, কোনওরকম নেশাটেশাতেও আসক্ত নয়। সেই যেদিন থেকে বাবাকে নিয়ে ছোটাছুটি শুরু হয়েছিল সেদিন থেকেই দামাল ঝড়ের মুখে দাঁড়িয়ে কী যুদ্ধ করে যেতে হচ্ছে মানুষটাকে। 
এই মাসতিনকের মধ্যে আবার আরও কিছু ঘটে গেল। মহীতোষের পরিচিত মহল থেকে প্রস্তাবটা হঠাৎই এসেছিল। পাত্র বিদেশে থাকে। আড়াই বছর পরে মাত্র এক মাসের ছুটিতে বাড়ি আসার সুযোগ পেয়েছে, এর মধ্যেই বিয়েটা সেরে ফেলতে চায়। প্রস্তাবটা হাতছাড়া করতে রাজি হননি মহীতোষ। এক বিকেলে ঝাঁ চকচকে গাড়ি এসে দাঁড়াল তাঁর বাড়ির সদর দরজায়। তারপরেই যাবতীয় কথাবার্তা একরকম পাকাপাকি। দিন স্থির করে শুভ কাজটা তাড়াতাড়ি সেরে ফেলতে হবে। হাতে বেশি সময় নেই। 
অন্তরার এ বাড়িতে আসা যাওয়াটা যেন হঠাৎই কমে গেল। বাবাকে নিয়ে ব্যস্ত থাকার জন্যে মৈনাক এসব নিয়ে বিশেষ খোঁজখবর রাখতে পারেনি। এরপরেই ঘটে গেল মহা বিপর্যয়! কে জানত, মৃত্যুঞ্জয় হাজরা ঠিক এই সময়েই চলে যাবেন? ঘটনাচক্রে এ বাড়ির শ্রাদ্ধ আর ও বাড়ির বিয়ে একই দিনে পড়েছে। উপায় নেই, ভবিতব্যকে তো মানতেই হবে। 
দুপুর পর্যন্ত এক বাড়িতে যখন হরিনাম সংকীর্তন আর গীতা পাঠ চলছে, রাস্তার অন্য পারে তখন শুভকাজের যাবতীয় আচার অনুষ্ঠান, আড়ম্বর, কোলাহল সব কিছুকেই যেন বা কোনও এক অদৃশ্য নিষেধের মোড়কে ঢেকে রাখা হয়েছে। প্রায় শব্দহীনভাবে। গায়ে হলুদ হয়ে যাওয়ার পরে অন্তরা একবার এসেছিল। মালা পরানো জেঠুর ছবিকে প্রণাম করে স্থিরভাবে খানিকক্ষণ বসে রইল। মৈনাক লক্ষ করেছিল, ওর চোখ দুটো তখন জলে টইটম্বুর। কারওর সঙ্গে কথা বলেনি, চুপচাপ চলে গিয়েছে। 
বিকেল হতে না হতেই এলাকার পরিবেশটা একটু একটু করে বদলাতে শুরু করল। বিয়েবাড়িতে সকলের ব্যস্ততা, হইচই, লোকজনের আনাগোনা ক্রমশ বাড়ছে। বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে রবীন্দ্রসঙ্গীত। আশ্চর্য। সানাইয়ের সুর কিংবা অন্য কোনও গান নয়, বেজে চলেছে একের পর এক শুধুই রবীন্দ্রসঙ্গীত। এটা কি অন্তরার ইচ্ছেতেই? এতক্ষণ পর্যন্ত যে বাড়িটা একরকম ম্রিয়মাণ হয়ে পড়েছিল, এবার আস্তে আস্তে তা উৎসবের মেজাজে অন্যভাবে জেগে উঠছে। 
পারলৌকিক কাজকর্ম শেষ করে মৈনাক দোতলার ঘরে গিয়ে বসেছে। শরীরের ওপরে অনেক ধকল পড়েছে সারাদিন। বড় ক্লান্ত লাগছে নিজেকে। মালা পরানো বাবার ছবিটা এখন তার টেবিলের ওপরে। আজ মনটা মাঝে মাঝেই কেন যে এমন হু হু করে উঠছে! সকলের মাঝখান থেকে সরে এসে এখন এভাবে একা থাকাটাই বরং ভালো। 
একটু পরেই বিয়ে বাড়িটাকে আষ্টেপৃষ্ঠে মুড়ে দেওয়া রংবেরঙের সব আলোগুলো জ্বলে উঠবে। খোলা জানলা দিয়ে মৈনাক চোখ পাতল আকাশের ঢালু জমিতে। সূর্যাস্তের আর বেশি দেরি নেই। তার পরেও খানিকক্ষণ নরম আলোয় ভেসে থাকে চরাচর। ক্রমশ অস্পষ্ট আঁধারটা একটু একটু করে ছড়িয়ে পড়বে চতুর্দিকে। কথায় আছে, গোধূলি লগ্নে কেউ পায়, কেউ হারায়...। 
সেই গোধূলি লগ্নেই বিয়ে। বরের গাড়ি এসে দাঁড়াবে ও বাড়ির দরজায়। সকলের একপ্রস্থ ব্যস্ততা আর হুড়োহুড়ি। তারপর সাত পাকে ঘোরা, মুখের পানপাতা সরিয়ে চোখে চোখ, মালাবদল, গাঁটছড়া, মন্ত্রপাঠ, হস্তবন্ধন...। নানা লোকাচার! পাশাপাশি দু’জনকে বসানো হবে পিঁড়িতে। এখনও সেই রবীন্দ্রসঙ্গীতই বেজে চলেছে, স্পষ্ট ভেসে আসছে কথাগুলো— ‘দাঁড়িয়ে আছো তুমি আমার গানের ওপারে...।’ 
ভারী মন কেমন করা সুর। চোখ বুজে একটা ঘোরের মধ্যে ডুবে ছিল মৈনাক। বাইরের জগতের সঙ্গে এখন যেন সে পুরোপুরি সংযোগহীন। মন বড় উথালপাথাল। আবার এরই ফাঁকে হাবিজাবি ভাবনাচিন্তা মাথায় গুঁজে কখনও ঠায় চেয়ারেই বসে থেকেছে, কখনও বা সব আলো নিভিয়ে দিয়ে ঘরময় অস্থিরভাবে পায়চারি করেছে। 
কিন্তু আজও বাড়িতে সে একবার যাবে না? একবার গিয়ে দাঁড়াবে না অন্তরার বিয়ের আসরে? তাই কী হয়। 
বাইরে থেকে কী যেন একটা গোলমালের আওয়াজ আসছে। জানলার কাছে গিয়ে বিয়েবাড়ির সাজানো গেটটার দিকে তাকাতেই নজরটা ধাক্কা খেল। পুলিসের গাড়ি কেন? রাস্তায় এত লোকজন। পুলিসের ছড়াছড়ি। কেমন যেন একটা চাপা উত্তেজনা। কী ব্যাপার। মৈনাক হন্তদন্ত পায়ে নীচে নেমে এল। 
রাস্তা জুড়ে পরিচিত অপরিচিত মানুষের জটলা। কৌতূহলী মেয়ে পুরুষের ভিড়। সেখান থেকেই ছেঁড়া ছেঁড়া কথাগুলো উড়ে আসছে, ‘মেয়েটার কপাল ভালো বলতে হবে।’ ‘আহা! কী গুণধর ছেলে। একটা বউকে বিদেশে নিয়ে গিয়ে গায়েব করেছে। নাম ভাঁড়িয়ে ফের বিয়ে, তারপর সেখানে জেলও খেটেছে।’ ‘মহীতোষদা কেন যে ভালো করে খোঁজখবরই নেয়নি।’ ‘এটা অবার কত নম্বর হতো কে জানে।’ 
মাথাটা ঝাঁ ঝাঁ করছে মৈনাকের। লোকজনকে ঠেলেঠুলে সে জোর করে বিয়েবাড়ির ভেতরে ঢুকতে গেল। 
ঠিক তখনই সাজগোজ করা বরের সঙ্গে আরও কয়েকজনকে তুলে নিয়ে পুলিসের গাড়িটা বেরিয়ে যাচ্ছে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ