Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / খেলা

বর্তমান অন্তর্তদন্ত: পয়েন্ট রফায় মুশকিল আসান ময়দানের চর্চিত ‘স্কুটার বাবু’

সিআরএ টেন্টের বাইরে আলো-আঁধারিতে ঢাকা। ভরসন্ধ্যায় স্কুটার পার্ক করে চট করে সেখানে সেঁধিয়ে গেলেন এক মধ্যবয়সি ভদ্রলোক। মিনিট দশেক বিরতি।

বর্তমান অন্তর্তদন্ত: পয়েন্ট রফায় মুশকিল আসান ময়দানের চর্চিত ‘স্কুটার বাবু’
  • ১১ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

গড়াপেটা ময়দানের পুরোনো রোগ। চোখের পলকে বদলে যায় সমীকরণ।  বটতলার আলো-আঁধারিতে ফিসফাস। পয়েন্ট দেওয়া-নেওয়ার খেলা দানা বাঁধে। মোবাইল ফোন কিংবা নেটযুগের আগেও নিখুঁত অঙ্কে চলত অপারেশন। কেমন ছিল সেসব দিন? এই নিয়েই বর্তমানের অন্তর্তদন্ত।

Advertisement

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সিআরএ টেন্টের বাইরে আলো-আঁধারিতে ঢাকা। ভরসন্ধ্যায় স্কুটার পার্ক করে চট করে সেখানে সেঁধিয়ে গেলেন এক মধ্যবয়সি ভদ্রলোক। মিনিট দশেক বিরতি। ফের স্কুটারে কিক দিয়ে সন্ধ্যার ময়দানে হারিয়ে গেলেন তিনি। কাজ তাঁর শেষ। পরের দিন কোন মাঠে কোন রেফারি ম্যাচ খেলাবেন, আশ্চর্য দক্ষতায় সেই তালিকা পকেটস্থ করে অপারেশনে নামতেন ‘স্কুটার বাবু’। তাই দু’চাকা ছেড়ে চার চাকায় পৌঁছতে বেশি সময় লাগেনি। ফুটবল ছেড়ে ইডেনেও তাঁর সাবলীল উপস্থিতি। চাপ-টেনশনের বালাই নেই। অপ্রিয় প্রশ্নেও মুখে অনাবিল হাসি। খাঁটি উত্তর কলকাতার আতিথ্য, আন্তরিকতাই তাঁর ইউএসপি। 
ইন্টারনেট, কম্পিউটার তখনও ভিনগ্রহের প্রাণী।  ময়দানে অপ্রধান ক্লাবের অধিকাংশেরই নিজস্ব তাঁবু নেই। বারো ঘর এক উঠোনের মতো ভাগ করে নিতে হয় এক চিলতে তাঁবু। লিগ গড়াতেই সাপ-লুডোর অংক জমজমাট।  সন্ধ্যায় গোলটেবিল বৈঠকে পয়েন্ট ভাগাভাগিতে ব্যস্ত ময়দানের কেষ্টবিষ্টুরা। গোপন মিটিংয়ে অনাবিল হাসি নিয়ে ‘কমন’ স্কুটারবাবু। গেছোবাবার মতো কখনও ডালহৌসি ক্লাবের সামনে দেখা দিয়েই মিলিয়ে যেতেন। পরক্ষণেই তিনি বটতলায়। অনুগামীদের ঘেরাটোপে ফর্মুলা সাজানোয় ব্যস্ত। শুধু রেফারি ম্যানেজই নয়, প্রতিপক্ষ ফুটবলারদের টোপ দেওয়াতেও সিদ্ধহস্ত তাঁর টিম। চাকরির প্রতিশ্রুতি, বাংলা দলে খেলানোর ললিপপ থেকে বড় দলে সুযোগ করে দেওয়ার টোপ। যে দেবতা যে ফুলে তুষ্ট! এখানেই শেষ নয়। প্ল্যান কার্যকর হল কি না তা দেখতে হবে তো। তাই দুপুর থেকে চষে বেড়াত স্কুটার বাবুর কোর টিম। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ