Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / খেলা

বর্তমান অন্তর্তদন্ত: ‘গড়াপেটা জন্মগত অধিকার’, কর্তার সাফাইয়ে অবাক ময়দান

শেষ বিকেলে শহীদ মিনার চত্বর জমজমাট। জোরকদমে চলছে বিকিকিনি। ময়দানে পুরসভার ট্যাঙ্কের পাশে কাদামাখা জার্সির ভিড়। ঢিল ছোড়া দূরত্বে সিটি অ্যাথলেটিক ক্লাবে অন্য ছবি।

বর্তমান অন্তর্তদন্ত: ‘গড়াপেটা জন্মগত অধিকার’, কর্তার সাফাইয়ে অবাক ময়দান
  • ৯ নভেম্বর, ২০২৫ ১৬:১১
Prefer us on Google

গড়াপেটা ময়দানের পুরোনো রোগ। চোখের পলকে বদলে যায় সমীকরণ।  বটতলার আলো-আঁধারিতে ফিসফাস। পয়েন্ট দেওয়া-নেওয়ার খেলা দানা বাঁধে। মোবাইল ফোন কিংবা নেটযুগের আগেও নিখুঁত অঙ্কে চলত অপারেশন। কেমন ছিল সেসব দিন? এই নিয়েই শুরু হল বর্তমানের অন্তর্তদন্ত।

Advertisement

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শেষ বিকেলে শহীদ মিনার চত্বর জমজমাট। জোরকদমে চলছে বিকিকিনি। ময়দানে পুরসভার ট্যাঙ্কের পাশে কাদামাখা জার্সির ভিড়। ঢিল ছোড়া দূরত্বে সিটি অ্যাথলেটিক ক্লাবে অন্য ছবি। গাছতলায় চেয়ার সাজিয়ে ‘ওপেন এয়ার মিটিং।’ মধ্যমণি ডাকসাইটে কর্তা। প্রাক্তন আম্পায়ার। পরবর্তীতে আইএফএ’র গভর্নিং বডির সদস্য। গড়াপেটার ঘুটি সাজাতে তিনিই চাণক্য। অসাধারণ স্মৃতিশক্তি। মুখস্থ লিগের সূচি। এমনকী, গোলের হিসাবও ঠোঁটস্থ। স্তাবকের দল তাতেই গদগদ। লেবু চা, কড়কড়ে স্যাঁকা টোস্ট, ডাবল ওমলেটে কামড় দিয়ে নিদান দিতেন কর্তা। ‘একটু দেখে নিস।’ ব্যস, হয়ে গেল। পয়েন্ট ভাগাভাগি কিংবা পয়েন্ট ছাড়ার অমোঘ নির্দেশ। কোর টিমের বাইরে থাকতেন খবরিলাল। ময়দানের গোপন খবর তাঁর পকেটে। এমনকী, গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে পোস্টিংয়ের আশায় পরিচিত দুই রেফারিও দরবারে হাজিরা দিতেন। চোখের ইশারায় ‘ডিল ডান।’ মানে, বৎস কোনও চিন্তা নেই। এটা ওপেন সিক্রেট। কিন্তু ঘাঁটাতে সাহস পাননি কেউই। হয়তো বাধ সেধেছে ময়দানি ভোটের সমীকরণ। 
গড়াপেটার অঙ্কে এক একজন পিথাগোরাস। এন্টালি নিবাসী এক কর্তা বুক ফুলিয়ে বলতেন, ‘গড়াপেটা আমার জন্মগত অধিকার।’ নিত্যনতুন উদ্ভাবনী কৌশলে টেক্কা দিতেন অন্যদের। এমন উদাহরণ প্রচুর। একবার লিগের শেষে কর্তার ঘনিষ্ঠ দুই ক্লাব মুখোমুখি। ডিভিশনে টিকে থাকতে হলে একটি দলের পুরো পয়েন্ট দরকার। কিন্তু বিপক্ষ গোল হজম করলেও সমস্যা। গোলপার্থক্যে বিপদে পড়বে সেই দল। ম্যাচের দিন দেখা গেল টেনেটুনে ১১ জন ফুটবলার নিয়ে মাঠে এসেছে দ্বিতীয় দল। চোটের বাহানায় একে একে বসে পড়লেন ৭ জন। প্রায় গোটা দল কাতরাচ্ছে মাঠে। লিগের নিয়মে কোনও দলে মাত্র ৫ ফুটবলার থাকলে ম্যাচ চালানো যায় না। এতেই কার্যসিদ্ধি। দল গোল খেল না। কিন্তু পুরো পয়েন্ট প্রতিপক্ষের পকেটে। এমন ফর্মুলার জনক গড়ের মাঠ। খরচ বাঁচাতে সায়েন্টিফিক গড়াপেটাও রয়েছে। দল ভালো জায়গায়। প্রমোশনের সম্ভাবনা প্রবল। কিন্তু কর্তাদের মুখ ব্যাজার। উপরের ডিভিশনে উঠলে খরচা বাড়বে। সেই ধাক্কা সামলাবে কে? অতএব মোক্ষম সময়ে সেরা ফুটবলারদের বাইরে রেখে ম্যাচ হারল দল। সাপও মরল। লাঠিও ভাঙল না। কালীদাস মার্কা এই কর্তারাও বিরল ময়দানি প্রতিভা!

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ