নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: চিরচেনা বাঙালিয়ানা ফের উদযাপন করল বর্তমান ও ফরচুন প্রিমিয়াম কাচ্চি ঘানি মাস্টার্ড অয়েল। সল্টলেকে ওয়েস্টসাইড প্যাভিলিয়নে আবার হল ‘বর্ষামঙ্গল’ উৎসব, এই নিয়ে দ্বিতীয়বার। বর্ষা বিদায়ের আগে বাঙালি বর্ষামঙ্গলের দৌলতে ফিরল সাবেকি মেজাজে।
বাঙালি মাছে ভাতেই বড়ো হয়। আর ‘বর্ষামঙ্গল’ মানেই মাছে ভাতে মেখে বাঙালির দুপুর হয়ে ওঠে পেটুকে। এই উৎসবের সবচেয়ে বড়ো আকর্ষণ ছিল মাছের রাজা ইলিশ। ওয়েস্টসাইড প্যাভিলিয়নে ঢোকার আগেই নাকে এসে ঝাপটা মারছিল ইলিশের সুগন্ধ। সকাল সাড়ে ন’টা থেকে শুরু হয়েছিল হাতা-খুন্তির কারিকুরি। তখন থেকেই শুরু ইলিশ রান্নার প্রতিযোগিতা। ১৫ প্রতিযোগীর মধ্যে কে হবেন ‘সেরার সেরা’ খুঁজে নিতে আমন্ত্রিত ছিলেন অভিনেতা সাহেব চট্টোপাধ্যায়, সঙ্গীতশিল্পী লগ্নজিতা চক্রবর্তী, ‘লস্ট অ্যান্ড রেয়ার রেসিপিজ’ খ্যাত শুভজিৎ ভট্টাচার্য, শেফ সঞ্জীব যাদব ও পার্থপ্রতিম ধর। তাঁরা একবাক্যেই বললেন, ‘ইলিশ কেবল একটি মাছ নয়, ইলিশ মানে স্মৃতি, শৈশব, বর্ষার দুপুর, মায়ের হাতের রান্না, পরিবারের সঙ্গে খাওয়ার আনন্দ। পদ্মার বা গঙ্গার—ইলিশের প্রেমে বাঙালি পাগল।’ রান্না চলছিল। তার পাশাপাশি প্রস্তুত মঞ্চ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনার দায়িত্বে সম্রাট ও কুণাল। অবন্তিপুর ওম ফাউন্ডেশনের ২৫ মিনিটের প্রযোজনাও ছিল। যা পুরো অনুষ্ঠানটিকে বেঁধে দিয়েছিল সুরে।
কবজি ডুবিয়ে খাওয়াদাওয়ার পাশাপাশি ছিল আড্ডার জমাটি আসর। সাহেব, লগ্নজিতা, শুভজিতের সঙ্গে আড্ডা দিলেন ফরচুনের এগজিকিউটিভ ডেপুটি চেয়ারম্যান অংশু মল্লিক। লগ্নজিতার ‘প্রেমে পড়া বারণ’ থেকে সাহেবের ‘ধিতাং ধিতাং বোলে’— তাল মেলালেন দর্শকরা। মঞ্চে এলেন স্টার জলসার ‘কুমকুম’ ধারাবাহিকের মুখ্য অভিনেতা আদৃত রায় ও অনুষ্কা দাস। এরপর সংবর্ধনা জানানো হল পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়কে। ইলিশ প্রীতি, সিনেমার পাশাপাশি আজকের প্রজন্মের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চলার বার্তা দিলেন তিনি। তার মাঝেমাঝে চলল কুইজ। ‘ইলিশ মাছের মাথা দিয়ে কী রান্না করা হয়’ থেকে ‘সুশি কোন দেশের খাবার’ এই সব প্রশ্নের জবাব দিয়ে পুরস্কার জেতার সুযোগ হাতছাড়া করেননি কোনো দর্শকই।
রবিবারের দুপুর বলে কথা। ইলিশ মাছের মাথা দিয়ে চচ্চড়ি, ইলিশ ভাজা, তেল, ভাপা ইলিশ, ইলিশ তেল ঝোল সহ কত রকমারি সব পদ। জমিয়ে হল রসনাতৃপ্তি। ততক্ষণে মঞ্চে উপস্থিত মূল আকর্ষণ চন্দ্রবিন্দু ব্যান্ডের চন্দ্রিল ভট্টাচার্য, উপল সেনগুপ্ত ও অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায়। তাঁদের গানে গমগম করছে গোটা প্যাভিলিয়ন। ‘এভাবেও ফিরে আসা যায়’, ‘গীত গোবিন্দ’, ‘বায়না খোকা’ আরও সব জনপ্রিয় গানে বুঁদ সবাই। হঠাৎ দর্শকাসন থেকে চিৎকার, ‘ইলিশ পরে আগে চন্দ্রবিন্দু।’ চন্দ্রিলের রসিক জবাব, ‘কী করে হয়? ইলিশ যে স্বরবর্ণ আর চন্দ্রবিন্দু ব্যঞ্জনের শেষ।’ চন্দ্রবিন্দুর গানের পর এল পুরস্কারের পালা।
মালাবার গোল্ড অ্যান্ড ডায়মন্ডসের তরফে লাকি ড্র’র পুরস্কার দিলেন হেড অব মার্কেটিং, ইস্ট ইন্ডিয়া মৌলিনা কুমার, অভিনেত্রী মানালি মনীষা দে। খাওয়ার পর গ্যাস-অম্বলের সমস্যার সমাধান হিসাবে ছিল ‘গ্যাস-ও-ফাস্ট’। সবশেষে ‘বর্ষামঙ্গল ২০২৬’-এর ফলপ্রকাশ। প্রথম হলেন অর্পিতা ভট্টাচার্য। পুরস্কার পেলেন এক লক্ষ টাকা। দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানাধিকারী গৌরী বন্দ্যোপাধ্যায় ও ফারহিন আরা পঞ্চাশ হাজার ও তিরিশ টাকা পুরস্কার পেলেন।
এরপর চা আর চপ দিয়ে শেষ হল ‘বর্ষামঙ্গল ২০২৬’। তখনও মুখে ইলিশের মনভোলানো স্বাদ। আর কানে স্মৃতিমেদুর সুর, ‘বন্ধু তোমায় এ গান শোনাব বিকেল বেলায়...’