সালটা ২০০২। ব্রাজিল ছেড়ে বাইরে খেলতে যাওয়ার কথা ভাবছি। ইউরোপের স্লোভেনিয়ার এক ক্লাবের সঙ্গে কথাবার্তা অনেকটাই এগিয়েছিল। তখন ইস্ট বেঙ্গলও যোগযোগ করে। আমার স্ত্রী’র ভারতে আসার খুব ইচ্ছে ছিল। তাই হোসে রামিরেজ ব্যারেটোকে মেল করে বিষয়টি জানাই। ১৯৯৭ সালে আমরা ব্রাজিলিয়ান লিগে খেলেছি। তখন থেকেই ব্যারেটো আমার বন্ধু। ও’ই বলেছিল, কলকাতায় আসতে। ইস্ট বেঙ্গল ভারতের অন্যতম সেরা ক্লাব। তাই ভারতীয় ফুটবলের মক্কায় আসার পিছনে ব্যারেটোর বড় অবদান ছিল। কিন্তু শুনতে অবাক লাগবে, ইস্ট বেঙ্গলে থাকার সময় ডার্বি ছাড়া আমাদের সেভাবে দেখাই হতো না। তখন কলকাতা ফুটবল রীতিমতো জমজমাট। সে কলকাতা লিগই হোক বা আই লিগ। ডার্বি হলে তো কথাই নেই! উন্মাদনার বিস্ফোরণ ঘটত। কিন্তু এখন শুনছি, কলকাতা লিগ একেবারে ফ্যাকাশে। ভারতীয় ফুটবলের মানও পড়েছে। সত্যিই কষ্ট হয়।
আসলে এখন সিএফএল তো জুনিয়রদের লিগ হয়ে গিয়েছে। বিদেশি খেলানো তো বন্ধ হয়েইছে, পাশাপাশি ভালো মানের ভারতীয় ফুটবলারও খেলে না। সেক্ষেত্রে জৌলুস তো হারাবেই। সমর্থকরা ভালো খেলা, তারকাদের দেখতে মাঠে যায়। বলুন না, ক’টা আইএসএলের প্লেয়ার কলকাতা লিগে খেলছে! আর আমাদের সময় এই লিগ ছিল জাতীয় লিগের প্রস্তুতির সেরা মঞ্চ।
এবার একটা ঘটনা বলি। দিনটা ছিল শনিবার। আমি ব্রাজিল থেকে কলকাতায় পা রাখি। পরের দিনই ছিল ঘরোয়া লিগের ডার্বি। তখন ইস্ট বেঙ্গলের কোচ সুভাষ ভৌমিক। ক্লান্তির কথা ভেবে তিনি আমায় টিমে রাখতে চাননি। কিন্তু আমিই জোর করি খেলার জন্য। তাই আমায় বেঞ্চে রাখা হয়। সুনীল ছেত্রীর গোলে মোহন বাগান লিড নেয়। দ্বিতীয়ার্ধে মহেশ গাউলি চোট পেলে মাঠে নেমে ইস্ট বেঙ্গলকে সমতায় ফেরাই। তারপর লাল-হলুদ সমর্থকদের কী উচ্ছ্বাস! এক্কেবারে মাথায় তুলে নাচানাচি করছিল। শুধু ইস্ট বেঙ্গল নয়, পরে মহমেডান ও মোহন বাগানের জার্সিতেও খেলেছি। কিন্তু কখনও ডার্বি হারিনি। তাই কলকাতা ফুটবলের হাল ফেরাতে বিদেশি খেলানো দরকার। তবে ভালো মানের বিদেশি। পাশাপাশি ক্লাব কর্তাদেরও লিগের জন্য শক্তিশালী দল গঠন করতে হবে। সিনিয়রদের খেলাতে হবে। কলকাতার মানুষ ফুটবলপাগল। ভালো খেলা হলে গ্যালারি ভরতে বাধ্য।