নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল ও বাঁকুড়া: রবিবার দুর্গাপুর ব্যারাজ সংস্কারের কাজ সরেজমিনে পরিদর্শন করতে এলেন সেচদপ্তরের সচিব মনীশ জৈন। পাশাপাশি ব্যারাজের নীচ দিয়ে যে অস্থায়ী রাস্তা করা হয়েছে, তার অবস্থাও পর্যালোচনা করেন। প্রতিটি কাজ খুঁটিয়ে দেখার পর মনীশবাবু বলেন, দ্রুত গতিতে অনেকগুলি টিম এক সাথে কাজ করছে। আশা করা যায় ১৫ জুনের মধ্যেই ব্যারাজ সংস্কারের কাজ শেষ হবে। তার পর ঠিক ভাবে তা মেইনটেন্ট করতে হবে। যাতে অদূর ভবিষ্যতে এধরনের সংস্কার না করতে হয়। রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষস্তরের এই আধিকারিকের পরিদর্শনের সময়ে হাজির ছিলেন পশ্চিম বর্ধমানের জেলাশাসক পোন্নমবলম এস ও বাঁকুড়ার জেলাশাসক সিয়াদ এন, বাঁকুড়ার পুলিস সুপার বৈভব তেওয়ারি। ছিলেন বড়জোড়ার বিধায়ক অশোক মুখোপাধ্যায়। তিনি সেচদপ্তরের আধিকারিকদের কাছে দামোদর ব্যারাজের পাশে একটি বিকল্প সেতু গড়ার আর্জি রাখেন। যাতে পরে প্রাচীন এই সেতু সংস্কার হলেও মানুষের সমস্যা না হয়।
প্রসঙ্গত, পয়লা মে থেকে ব্যারাজ সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে। সংস্কারের কাজে গতি নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করেছিলেন বাঁকুড়ার এমপি অরূপ চক্রবর্তী। তিনি সেচদপ্তরকে তোপ দেগে অভিযোগ করেছিলেন। মুখ্যমন্ত্রী পাঁচ বছর আগেই ব্যারাজ সংস্কারের কাজ করার কথা বলেছিলেন। সেচদপ্তর তা ফেলে রেখেছিল। সংস্কারের কাজেও ঢিলেমি রয়েছে বলে তাঁর অভিযোগ। তারপরই দপ্তরের শীর্ষ আধিকারিকের এই পরিদর্শন যথেষ্ট তৎপর্যপূর্ণ। অরূপবাবু বলেন, আমরা চাই দ্রুত সংস্কারের কাজ শেষ হোক। যাতে মানুষের বেশি ভোগান্তি না হয়। অন্যদিকে, বিধায়ক অলোক মুখোপাধ্যায় বলেন, আমি বিকল্প সেতুর দাবি করেছি। ব্যারাজের তলা দিয়ে রাস্তা করা হচ্ছে। অনেক সময়ে নদীর জলে তা ভেসে যাচ্ছে। তার উপরও বাড়তি নজর দিতে বলেছি। যদিও প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, সেচদপ্তর ও পূর্তদপ্তর কালবৈশাখীর বাধা অতিক্রম করে যথেষ্ট ভালোভাবে কাজ করছে। জানা গিয়েছে, ১ থেকে ২৯ নম্বর গেট পর্যন্ত অর্ধেক জয়েন্টের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ১ থেকে ১৭ নম্বর গেট পর্যন্ত অর্ধেক রাস্তার কাজও হয়েছে। ১১ থেকে ১৫ নম্বর গেট পর্যন্ত ম্যাস্টিক রোডও সম্পন্ন হয়েছে। নিয়ম করে বিকেলে ঝড় বৃষ্টি হচ্ছে। তাতে কাজ করতে সবচেয়ে সমস্যা হচ্ছে।
বাঁকুড়ার পুলিস সুপার বৈভব তেওয়ারি বলেন, ২৪ ঘণ্টা পর্যাপ্ত পুলিস মোতায়েন করা হয়েছে। যাতে কোনওরকম সমস্যা না হয়। অন্যদিকে, ব্যারাজ সংস্কারের প্রভাব পড়েছে রানিগঞ্জের উপরও। ভারি গাড়িগুলি মেজিয়া ব্রিজ দিয়ে ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ফলে সেই রাস্তার উপর গাড়ির চাপ বেড়েছে। যানজটে নাকাল হচ্ছে সাধারণ মানুষ।