নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাকপুর: রবিবার গভীর রাতে জয় রাইডে বেরিয়ে বারাকপুর পুরসভা সংলগ্ন বি টি রোডে গুলি ছোড়ার অভিযোগ উঠল। রাত বারোটার পর একটি কালো স্করপিও থেকে পরপর শূন্যে তিন রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়। ঘটনাস্থলের কিছুটা দূরেই পুলিশ কমিশনারের অফিস। কাছে থাকা বারাকপুর বিএন বসু হাসপাতালের গেটে কর্মরত পুলিশকর্মীরা বিষয়টি টের পেয়ে, টহলদারি ভ্যান ও টিটাগড় থানায় জানান। টিটাগড় থানার টহলদারি ভ্যান স্করপিওটি ধাওয়া করে টাটা গেটে আটকায়। গাড়িতে থাকা তিন যুবককে আটক করে টিটাগড় থানায় নিয়ে যায়। তাদের কাছ থেকে একটি সেভেন এমএম পিস্তল, দু’টি কার্তুজ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। ধৃত যুবকদের নাম, মহম্মদ আরমান আনসারি, শাহবাজ আনসারি ও বিশ্বজিৎ তেওয়ারি। প্রত্যেকেই খড়দহের বাসিন্দা। শাহবাজের বিরুদ্ধে পুরনো অপরাধের রেকর্ড রয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পেরেছে, আরমান আইনের ছাত্র। তার বাবার স্করপিও গাড়িটি নিয়ে বেরিয়েছিল সে। গাড়ি চালাচ্ছিল বিশ্বজিৎ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পেরেছে, খড়দহে কোনও একটি জায়গায় একসঙ্গে বসে মদ্যপান করার পর স্করপিও নিয়ে তারা জয় রাইডে বেরিয়েছিল। পুলিশের অন্য একটি সূত্র বলছে, বারাকপুর চিড়িয়ামোড়ের কাছে একটি পানশালায় মদ্যপান করে জয়রাইড করতে বেরিয়েছিল তিন বন্ধু। বারাকপুর থেকে রিভলভার কিনেছিল। তারপরই গাড়ির মধ্যে থেকে শূন্যে গুলি চালানো হয়। প্রাথমিক জেরায় পুলিশ জেনেছে, আইনের ছাত্র আরমানই গুলি চালিয়েছিল। কীভাবে তার হাতে আগ্নেয়াস্ত্র এল, কেন তারা গুলি ছুড়ল খতিয়ে দেখছে টিটাগড় থানার পুলিশ। সোমবার ধৃত তিনজনকে বারাকপুর আদালতে তোলা হলে বিচারক তাদের আটদিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। বারাকপুর পুরসভার চেয়ারম্যান উত্তম দাস বলেন, প্রকাশ্যে গুলি চালানোর বিষয়টি উদ্বেগজনক। পুলিশ বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। বারাকপুরের পুলিশ কমিশনার মুরলীধর শর্মা বলেন, তিনজনকেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। গাড়িটি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।



