নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: ১৫ বছরের সংসার। রয়েছে এক ছেলে ও এক মেয়ে। কিন্তু দাম্পত্য কলহে সুখের সংসার অতীত। স্বামীকে ছেড়ে বাপের বাড়িতে এসে উঠেছেন স্ত্রী। সন্তান ও স্ত্রীকে ফিরে পেতে বুধবার সকালে বারাসতের অশ্বিনী পল্লিতে শ্বশুরবাড়ির সামনে ধরনায় বসলেন বাদুড়িয়ার যুবক বেচারাম মণ্ডল। তাঁর হাতে প্ল্যাকার্ড। লেখা, বউ ও বাচ্চা ফেরত পেতে চাই! সাতসকালে জামাইয়ের কীর্তি দেখতে ভিড় জমে যায় এলাকায়। বেচারামের স্ত্রী অবশ্য স্পষ্ট জানিয়েছেন, আমি আর শ্বশুরবাড়ি ফিরব না।
বেচারামের বাড়ি বাদুড়িয়া থানার শ্রীরামপুরে। পেশায় তিনি গাড়িচালক। ২০০৯ সালে তাঁর বিয়ে হয় বারাসতের টিনামনি মণ্ডলের সঙ্গে। অভিযোগ, বিয়ের কিছু কয়েক পর থেকেই নানা কারণে স্ত্রীর উপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন শুরু করেন বেচারাম। স্ত্রী প্রায়ই বাপের বাড়ি চলে আসতেন। কিন্তু আট মাস আগে অশান্তি এমন পর্যায়ে পৌঁছয়, যে ফেরার রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়। দুই সন্তানকে নিয়ে বাপের বাড়ি চলে আসেন টিনামনি। তারপর থেকে স্বামীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখেননি। এমনকি সন্তানদেরও দেখা করতে দেননি বলে দাবি বেচারামের। জল গড়িয়েছে থানাতেও। কিন্তু কোনও সমাধান না পেয়ে অবশেষে বুধবার বেচারাম নিজের শেষ অস্ত্র হিসেবে বেছে নিলেন ধরনাকে। এদিন সকালে বাদুড়িয়া থেকে সোজা বারাসতের শ্বশুরবাড়ি অশ্বিনী পল্লিতে চলে আসেন তিনি। স্ত্রী টিনামনির বাড়ির সামনে মাটিতে বসে পড়েন। মাঝে মাঝে শুধু বললেন, আমার স্ত্রী ও সন্তানকে ফিরিয়ে দাও। ঘটনার খবর চাউর হতেই এলাকায় ভিড় জমে যায়। কৌতূহলী প্রতিবেশীরা কেউ সান্ত্বনা দেন। অনেকে আবার ব্যঙ্গও করেন। তবে, ঘণ্টাখানেক ধরনা দেওয়ার পর বারাসত থানার দ্বারস্ত হন বেচারাম। এদিকে, যদিও তীব্র ক্ষোভ উগরে দিলেন টিনামনি। সাফ বলেন, দিনের পর দিন আমার উপর অত্যাচার করেছে স্বামী। আমি ওর সঙ্গে আর কোনও সম্পর্ক রাখতে চাই না। শ্বশুরবাড়ি ফিরব না। বেচারামের পাল্টা যুক্তি, আমাদের ১৫ বছর বিয়ে হয়েছে। আমি অত্যাচার করলে এতদিন ও থাকল কি করে? আমি ওদের ফিরে পেতে চাই। থানা পুলিশ করেও কাজ হয়নি। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বেচারাম ও টিনামনির মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে অশান্তি চলছিল। গ্রাম্য সালিশও হয়েছে। কিন্তু সম্পর্ক ঠিক হয়নি। নতুন করে পুলিশি হস্তক্ষেপ হতে পারে, মনে করছেন প্রতিবেশীরা। নিজস্ব চিত্র