Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বারাসত ‘জঞ্জাল নগরী’! বদনাম ঘোচাতে শপথের আগে সংকল্প নয়া চেয়ারম্যানের

আজ, সোমবার বারাসত পুরসভার চেয়ারম্যান হিসেবে শপথ নেবেন সুনীল মুখোপাধ্যায়

বারাসত ‘জঞ্জাল নগরী’! বদনাম ঘোচাতে শপথের আগে সংকল্প নয়া চেয়ারম্যানের
  • ১০ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: আজ, সোমবার বারাসত পুরসভার চেয়ারম্যান হিসেবে শপথ নেবেন সুনীল মুখোপাধ্যায়। তা নিয়ে কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস নজরে পড়ছে। তবে, শপথ গ্রহণের আগে থেকেই বারাসতের ‘বকেয়া’ উন্নয়ন দ্রুত শেষ করার সংকল্প নিয়েছেন তিনি। শহরের জীবন্ত সমস্যা আবর্জনা। এই সমস্যাকে দূর করাই এখন তাঁর কাছ ‘চ্যালেঞ্জ’। তবে, আরেক যন্ত্রণা অটো বা টোটোর দৌরাত্ম্য, এ নিয়ে সাবধানী সুনীলবাবু বললেন, সবটাই হবে ধীরে ধীরে।

Advertisement

২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের ফলাফলের উপর বিচার করে রাজ্যের বেশ কয়েকটি পুরসভার চেয়ারম্যানকে সরিয়েছে তৃণমূল। সেই তালিকায় রয়েছে উত্তর ২৪ পরগনার বারাসত ও বনগাঁ পুরসভা। ইতিমধ্যেই দলের নির্দেশ মেনে চেয়ারম্যান পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন অশনি মুখোপাধ্যায়। লোকসভার নির্বাচনের ফলাফল বলছে, বারাসত পুরসভার ৩৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে ২৮টিতে পিছিয়ে ছিল তৃণমূল। একাধিক সিআইসি ও কাউন্সিলারের ওয়ার্ডে হেরেছে দল। দলের নির্দেশে এবার বারাসত পুরসভার চেয়ারম্যান হচ্ছেন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক সুনীল মুখোপাধ্যায়। তিনি ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার। ২০১০ সাল থেকে টানা দু’বার চেয়ারম্যান ছিলেন তিনি। পাশাপাশি দু’বছর পুর-প্রশাসক হিসেবেও দায়িত্ব সামলেছেন। ১৯৯০ সালে প্রথম কাউন্সিলার হন সুনীলবাবু। ১৯৯৫ সালে পুরসভার বিরোধী দলনেতা হন। কিন্তু ২০২২ সালে দল সুনীলবাবুকে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেয়নি। লোকসভা ভোটে ফল খারাপের কারণে অশনি মুখোপাধ্যায়কে সরিয়ে তাই ফের চেয়ারম্যানের পদ ফিরিয়ে দেওয়া হল তাঁকে। তবে দলের পুরনো ক্ষত মেটাতে উন্নয়নকেই হাতিয়ার করতে চান সুনীল মুখোপাধ্যায়। পাশাপাশি নাগরিক পরিষেবা উন্নত করতে আর কী কী প্রয়োজন, সেই দিকটিও গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সুনীলবাবু।
জানা গিয়েছে, শহরে এখন সব থেকে বড় সমস্যা হল জঞ্জাল। অনেকে আবার বারাসতকে টিপ্পনি দিয়ে ‘জঞ্জাল নগরী’ও বলেন। কেননা, বারাসত শহরে আবর্জনার সমস্যা দীর্ঘদিনের। বারংবার চেষ্টা করলেও পুরসভার চেয়ারম্যান সহ অন্যান্য কাউন্সিলাররা এই সমস্যার সমাধান করতে পারেননি। ফলে, নাগরিক পরিষেবার ক্ষেত্রে ‘গলার কাঁটা’ হয়েছে স্তূপাকৃতি আবর্জনা। যশোর বা টাকি রোডের পাশাপাশি অলিগলিতে পড়ে থাকছে আবর্জনা। স্থানীয়দের অভিযোগ, বারাসত পুরসভা সব থেকে পুরনো। তারপরেও আবর্জনার সমস্যার সমাধান হয়নি। বিভিন্ন ওয়ার্ডে পুকুরের আশপাশ যেন নোংরা ফেলার গোডাউন হয়ে গিয়েছে। বৃষ্টি হলেই তা থেকে দুর্গন্ধ ছড়ায়। তাই জঞ্জাল সমস্যা সমাধানকেই চ্যালেঞ্জ ধরে নিয়েছেন সুনীলবাবু। প্রাক্তন চেয়ারম্যান অশনি মুখোপাধ্যায়ের আমলে এই সমস্যার সমাধানের জন্য সুডার পক্ষ থেকে ডাম্পিং গ্রাউন্ড তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। তবে, কাজের ক্ষেত্রে যাতে দলীয় ‘দ্বন্দ্ব’ মাথাচাড়া না দেয়, তাই আগেভাগে সতর্ক নতুন চেয়ারম্যান। বললেন, সবাইকে নিয়েই একসঙ্গে কাজ করব। প্রাধান্য মানুষের উন্নয়ন ও পরিষেবা। তাঁর দাবি, বারাসতে জঞ্জাল সমস্যা দীর্ঘদিনের। সেটা মেটানো হবে। তারপর রাস্তাঘাট বা অটো বা টোটোর সমস্যার সমাধান হবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ