Bartaman Logo
৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ফুটবল উৎসবে মাতল বারাসত

এক হাতে পতাকা, অন্য হাতে ভেঁপু, গালে উলকি, প্রিয় দলের নামে কানফাঠানো জয়ধ্বনি, রাস্তায় দাঁড়িয়ে মোবাইলে ছবি, নিজের দলের জার্সি গায়ে বন্ধুদের সঙ্গে নাচ, সোমবার বারাসতের সব ছবিই আনন্দমুখর।

ফুটবল উৎসবে মাতল বারাসত
  • ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

শ্যামলেন্দু গোস্বামী, বারাসত: এক হাতে পতাকা, অন্য হাতে ভেঁপু, গালে উলকি, প্রিয় দলের নামে কানফাঠানো জয়ধ্বনি, রাস্তায় দাঁড়িয়ে মোবাইলে ছবি, নিজের দলের জার্সি গায়ে বন্ধুদের সঙ্গে নাচ, সোমবার বারাসতের সব ছবিই আনন্দমুখর। আটবছর পর বারাসত স্টেডিয়ামে হল হাই ভোল্টেজ ইস্টবেঙ্গল আর মোহনবাগানের ডার্বি। এবং ১৬ বছর পর খেলা হল ফ্লাডলাইটের আলোয়।

Advertisement

যদিও এদিন সকাল থেকেই মুষলধারে বৃষ্টি। আকাশের রকমসকম দেখে অনেকেই ভেবেছিলেন আটবছরের প্রতীক্ষায় হয়ত জল ঢালল বর্ষা। কিন্তু আবহাওয়া দেবতা এতটা নির্দয় হলেন না। বৃষ্টি থামল। তারপরই বদলে গেল পুরো ছবি। স্টেডিয়ামের পথে দলে দলে ফুটবলপ্রেমী। তিনটের আগেই স্টেডিয়াম চত্বরে দু’পক্ষের সমর্থকদের ঠাসা ভিড়। কেএনসি রোডের দু’পাশে সবুজ-মেরুন আর লাল-হলুদের আলাদা জমায়েত। বারাসত থানার উল্টোদিকে বিশাল আকারের ব্যানার নিয়ে দাঁড়িয়ে দু’দলের সমর্থকরা। কয়েকদিন আগে প্রিমিয়ার লিগে মোহনবাগানের জালে চারবার বল জড়িয়েছিল ইস্টবেঙ্গল। সে কারণে এদিনের ডার্বিতে বাড়তি আত্মবিশ্বাস লাল-হলুদ সমর্থকদের হাবভাবে। এসব করতে করতে স্টেডিয়ামে ঢোকার সময় চলে এল। ঢোকার লাইনে দাঁড়িয়ে দুই বোন শ্রেয়া ও  সুপ্রিয়া চৌধুরী। দু’জনেই মোহনবাগান সমর্থক। গালে আঁকা দলের উলকি। চিৎকার করে উঠলেন, ‘আমরাই জিতব।’ ডার্বির টানে মাঠে এলেন বারাসতের নবপল্লির চিত্রশিল্পী যুযাধিত সেনগুপ্ত। সঙ্গে পুত্র। বললেন, ‘বারাসতে ডার্বি। এটাই তো গর্বের।’
অন্যদিকে মাঠের বাইরে উন্মাদনা যাতে উচ্ছৃঙ্খল না হয় তার জন্য প্রস্তুত পুলিশ। দু’দলের সমর্থকদের আবেগ, বিপুল জনসমাগম, যানবাহনের প্রবল চাপ সামলানো তো কম কথা নয়। তবে আগে থেকেই প্রস্তুতি ছিল বারাসত জেলা পুলিশের। মাঠে এবং মাঠের বাইরে প্রায় ১ হাজার ১০০ কর্মী ও আধিকারিক মোতায়েন ছিলেন। সঙ্গে কেন্দ্রীয় বাহিনীও। ফলে হাজার হাজার সমর্থকের ভিড় সত্ত্বেও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই ম্যাচ শেষ হল। স্থানীয় বিধায়ক প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখেছিলেন। বারাসত পুলিশ জেলার সুপার জে মার্সি বলেন, ‘পুলিশ তৎপর ছিল। বারাসত স্টেডিয়ামে ডার্বি ম্যাচ সুষ্ঠভাবে হয়েছে।’ বিধায়ক শংকর চট্টোপাধ্যায় বললেন, ‘সকলের সহযোগিতা শুরু থেকেই ছিল। সকলের দায়িত্বপূর্ণ অংশগ্রহণে নির্বিঘ্নে ডার্বি শেষ হয়েছে।’খেলার উন্মাদনা বাড়তেই থেকেছে তাই একসময় টিকিটের জন্য ছিল হাহাকার। খেলা শুরুর পরও বহু সমর্থক মাঠে ঢোকার টিকিট জোগাড় করতে না পেরে হতাশ। অনেকে স্টেডিয়ামের বাইরে দাঁড়িয়ে খেলার আঁচ যতটা পারলেন নিলেন। কেউ পুলিশের কাছে টিকিটের আবদার করলেন। তারপর রাস্তায় বসে ফোনে দেখলেন ম্যাচ। সবশেষে ম্যাচ ড্র। কেউ কাঁদলেন না। কেউ বাড়তি হাসলেন না। শুধু সবকিছু নির্বিঘ্নে মেটায় স্বস্তির হাসি পুলিশের ঠোঁটে। জনতা বলল, ‘পাশ করেছে জেলা পুলিশ।’  নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ