নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: তৃণমূলের গোপন খবর পাচার হচ্ছে বিরোধী দলের কাছে। হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজের স্ক্রিনশট সরাসরি পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে বিরোধী শিবিরে। বিষয়টি নিয়ে বরানগরে শাসক দলের অন্দরে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। ‘ঘরশত্রু বিভীষণ’কে চিহ্নিত করতে মাত্র এক ঘণ্টার নোটিসে সোমবার রাতে বৈঠক ডেকেছিলেন বরানগরের বিধায়ক সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে দলের সংশ্লিষ্ট ওই হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ বন্ধ করে দেওয়া হয়। বিধায়ক ছাড়াও দলের অন্যান্য নেতা বক্তব্য রাখেন। বিধায়ক স্পষ্ট বলেন, ‘আমরা গদ্দারদের চিহ্নিত করবই।’ তাঁর এই হুঁশিয়ারির পর কে বা কারা ‘গদ্দার’, তা নিয়ে জোর জল্পনা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বরানগরের বিধায়ক নির্বাচিত হওয়ার পর সায়ন্তিকা নানা কর্মসূচি নেওয়ার পাশাপাশি নেতা-কর্মী ও কাউন্সিলারদের সঙ্গে নিয়মিত দেখা করেন। দলের কাউন্সিলারদের নিয়ে তিনি একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপও করেছেন। এছাড়া, তাঁর বিধানসভা এলাকার অন্তর্ভুক্ত বরানগর পুরসভার ৩৪টি ওয়ার্ড এবং কামারহাটি পুরসভার চারটি ওয়ার্ডের নেতা-কর্মীদের নিয়ে তিনি পৃথক একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ তৈরি করেছিলেন। গ্রুপটির নাম ‘বরানগর টিএমসি কমিটি’। শতাধিক সদস্য রয়েছেন সেই গ্রুপে। গত রবিবার ওই গ্রুপে বিধায়ক একটি মেসেজ করেন। তাতে এক বিজেপি নেতার নাম উল্লেখ করে বলেন, ‘বরানগরে উনি ঘর ভাড়া নেওয়ার চেষ্টা করছেন। উনি এখানে থাকলে এলাকার শান্তি নষ্ট করবেন। এলাকায় ধর্মীয় বিভাজন সৃষ্টি, জল ও রাস্তাঘাট নিয়ে মানুষকে খেপিয়ে তুলবেন। ক্লাবে ঢুকে ঝামেলা করবেন। তাই সবাই সজাগ থাকুন।’ গ্রুপের কোনও সদস্যই বিধায়িকার মেসেজের স্ক্রিনশট ওই বিজেপি নেতাকে পাঠিয়ে দেন। সোমবার বিকেলে সেই বিজেপি নেতা মেসেজের স্ক্রিনশট সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেন। এরপরই তড়িঘড়ি রাত ৮টায় দলের নেতাকর্মীদের নিয়ে জরুরি বৈঠক ডাকেন বিধায়ক। সেই খবরও পৌঁছে যায় বিরোধী শিবিরে। মিটিং শেষ হওয়ার পরপরই তা নিয়ে সমাজমাধ্যমে ফের পোস্ট হয়। সূত্রের খবর, পুরসভার মিটিং হলে আয়োজিত বৈঠকে ক্ষোভে ফেটে পড়েন বিধায়ক। তিনি বলেন, ‘দলের মধ্যে থেকে যারা এই ধরনের কাজ করছে, তাদের চিহ্নিত করা জরুরি। আমি মেসেজে কোনও খারাপ কথা বলিনি। বিধায়ক হিসেবে আমি সবসময় মানুষের পাশে থাকি। আমি নিশ্চিত, আগামী নির্বাচনে এক ভোটে হলেও আমিই জিতব। গদ্দারদেরও আমি চিহ্নিত করব।’ দলের মধ্যেই এমন অবিশ্বাসের আবহে বরানগরের কোনও তৃণমূল নেতা-নেত্রী মুখ খুলতে চাননি। বিধায়কের প্রতিক্রিয়া নিতে ফোন করার পাশাপাশি হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজও করা হয়। কিন্তু কোনও উত্তর পাওয়া যায়নি।