Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ভাঙা দাঁতেই মন্দির আলো করেন বৈঁচিগ্রামের বড়মা

দীপাবলির সাজে সেজে উঠেছে হুগলি। বিভিন্ন প্রান্তে পুজোর আয়োজন প্রায় শেষ। কোথাও স্বপ্নাদেশের পুজো, কোথাও আবার শতাব্দী প্রাচীন পুজোকে ঘিরে আছে জনশ্রুতির বটের ঝুরি।

ভাঙা দাঁতেই মন্দির আলো করেন বৈঁচিগ্রামের বড়মা
  • ২০ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: দীপাবলির সাজে সেজে উঠেছে হুগলি। বিভিন্ন প্রান্তে পুজোর আয়োজন প্রায় শেষ। কোথাও স্বপ্নাদেশের পুজো, কোথাও আবার শতাব্দী প্রাচীন পুজোকে ঘিরে আছে জনশ্রুতির বটের ঝুরি। কোথাও নেতা-মন্ত্রীর পুজো, আবার কোথাও দেবী প্রবীণা হয়েছেন বলে ফোকলা দাঁতেই পুজো মণ্ডপ আলো করেন। পুজোকে ঘিরে জনশ্রুতি, স্বপ্নাদেশের সঙ্গে বড় সত্য হয়ে দাঁড়িয়েছে জনসমাগম। শ্মশানের শ্যামা থেকে ঘরের দক্ষিণাকালী বা বৈঁচির বড়মা, সকলের মণ্ডপই পুজোর রাতে ভেসে যায় জনস্রোতে। বলা ভালো, ভক্ত সমাগমে। উজ্জ্বল হয়ে ওঠে দীপান্বিতা অমাবস্যা। 

Advertisement

প্রায় ৫৬ বছর আগে স্বপ্নাদেশ পেয়েছিলেন বিমলাদেবী। তখনই শুরু হয়েছিল পুজো। পুকুরে মিলেছিল মায়ের বাসন আর ত্রিশূল। বিমলাদেবী সেসব দিয়েই দেবী শ্যামার আরাধনা শুরু করেছিলেন। তিনি সন্তানের সুস্থতা কামনায় মায়ের কাছে মানত করেছিলেন। তারপরেই পেয়েছিলেন স্বপ্ন, সন্তানও সুস্থ হয়েছিল। সিঙ্গুরের রতনপুরের সেই পুজো মা বিমলাদেবীর প্রয়াণের পর চালিয়ে যাচ্ছেন ছেলে বেচারাম মান্না। রাজ্যের কৃষি বিপণন মন্ত্রীর মা বিমলাদেবীর স্বপ্নাদেশেই বাড়িতে শুরু হয়েছিল পুজো। বেচারামবাবুর বাড়িতে অবশ্য মা শ্যামা নিত্যপুজো পেয়ে থাকেন। মন্ত্রী নিজেও মায়ের আরধানা নিয়মিত করেন। তবে কার্তিকের অমাবস্যায় দেবীর রূপ বদল হয়। দীপাবলির রাতে দেবী দক্ষিণাকালী হয়ে পুজো নেন। সময়ের গতিকে পুজোর সঙ্গে জুড়েছে আড়ম্বর। দেবীর থান থেকে মন্দির বাঁধানো হয়েছে। ভক্ত সমাগম বেড়েছে। কিন্তু বদলায়নি আচার, নিষ্ঠা। বেচারামবাবু বলেন, নিষ্ঠার সঙ্গে জগৎমাতার আরাধনা হয় আমার মায়ের প্রতিষ্ঠিত বেদিতে। বর্তমানে কষ্টিপাথরে দেবীর অবয়ব নির্মাণ করা হয়েছে। গ্রামের বহু মানুষ দেবীর কাছে মানত করেন। তাই পুজোর বিশেষ দিনে এক মহামিলন ক্ষেত্র হয়ে ওঠে দেবীর মন্দির। এবছর ৫৭তম বর্ষের পুজো হবে। 
বৈঁচিগ্রামের বড়মা প্রায় তিনশো বছর ধরে পূজিতা হচ্ছেন। তাঁর বয়সের গাছ-পাথর নেই। কিন্তু আছে দাঁতভাঙা রূপ। তিনি বুড়িমা, প্রাচীনা। ভয়াল দন্ত সমাবেশে তাই একটি দাঁত অনুপস্থিত। কার্যত ফোকলা মুখেই লোলজিহ্বা বিকশিত করে থাকেন ভক্তদের বড়মা। কঠোর নিয়ম নিষ্ঠায় থাকে পুজোর আয়োজন। পুজোর ঠিক প্রাক্কালে সম্পূর্ণ করতে হয় মূর্তি নির্মাণ। প্রায় ৩০ ফুট উচ্চতার দেবীকে ভাইফোঁটার পরেই বিসর্জন দেওয়া হয়। সেই পুকুরও পূর্ব নির্ধারিত। পুজোর সবকাজ পুরুষদেরই করতে হয়। মহিলাদের কার্যত প্রবেশ নিষেধ বড়মায়ের পুজোর আয়োজনে। জনশ্রুতি, একদা তান্ত্রিকের হাতে শুরু হয়েছিল এই পুজো। তিনিই সমর্পণ করেছিলেন গ্রামের এক বাসিন্দাকে। সেই পুজো আজ গ্রামের সকলের পুজো হয়ে উঠেছে। শতাব্দী প্রাচীন আরও এক পুজোকে ঘিরে থাকে আবেগ আর নিষ্ঠার মেলবন্ধন। শ্রীরামপুরের বল্লভপুরের কালীপুজোর বয়স প্রায় ১৭৬ বছর। একে শ্মশানে পুজো, তার উপরে দেবীর রূপ ভয়াল। ফলে, এই পুজোকে কেন্দ্র করে আছে জনশ্রুতি আর জনসমাগমের ধারাবাহিকতা। উদ্যোক্তারা বলেন, এই পুজো ঐতিহ্য আর আবেগের সঙ্গম। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ