অপু রায়, নকশালবাড়ি: বড়াকোঠি নামটা হয়তো অনেকেরই জানা। তবে সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে পরিত্যক্ত অবস্থায় ব্রিটিশ আমলের তৈরি এই বাংলোটি। যা মিরিক ব্লকের পানিঘাটার পাহাড়ের কোলে। পানিঘাটা রেঞ্জ অফিসের পিছনে এবড়োখেবড়ো পিচের রাস্তা দিয়ে তিন কিমি চড়াই পথে উঠলেই বড়াকোঠি বাংলো। বাংলোটির নামেই পরিচিত এই এলাকাটি। গুগল ম্যাপে পানিঘাটা ব্রিটিশ বাংলো নামে চিহ্নিত।
দেড়শো বছরের বাংলোটি পানিঘাটা চা বাগানের ম্যানেজার বাংলো হিসেবে একসময় পরিচিত ছিল। স্বাধীনতার আগে ইংরেজ সাহেবরা এই বাংলোর বারান্দা থেকে পুরো চা বাগানের নজরদারি চালাতেন। স্বাধীনতার পরও এ দেশের নাগরিকরা ম্যানেজার হিসাবে এখানেই থাকতেন। প্রাচীন বাংলোটি দেখতে পরে পর্যটকরা মাঝেমধ্যেই আসতেন। বিশেষ করে ছুটির দিনে ভিড় হতো। ২০১৫ সালে পানিঘাটা চা বাগান বন্ধ হয়। ওই সময় ক্ষুব্ধ কিছু শ্রমিক বাংলোয় আগুন ধরিয়ে দেন। যদিও পুরো বাংলো ভস্মীভূত হয়নি। ভেঙে ফেলেন বাংলোর ইটের তৈরি প্রাচীরের একাংশ। দীর্ঘদিন ধরে এটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এখন ভূতুড়ে বাংলোয় পরিণত হয়েছে। এলাকায় প্রায় ৪০টি পরিবারের বাস। ইতিমধ্যেই এলাকাটির জনপ্রিয়তার জেরে বেশ কয়েকজন হোম স্টেও চালু করেছেন। তবে রাতে থাকার জন্য কোনও পর্যটক সেভাবে আসেন না। স্থানীয় বাসিন্দা দেবখালিং রাই বলেন, বড়াকোঠি বাংলোর জন্য এলাকাটি সকলের পরিচিত। তবে এই বাংলোটির সংরক্ষণ নিয়ে কারও কোনও উদ্যোগ নেই বলে অভিযোগ।
মিরিকের বিডিও শ্রেয়সী মাইতি বলেন, ওই জায়গার পর্যটনের বিকাশের ভাবনাচিন্তা আছে। তা প্রস্তাব আকারে পর্যটন দপ্তরে জমা দেওয়া হবে। আমরাও চাই এলাকাটি পর্যটকদের কাছে পরিচিতি লাভ করুক। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় দুই একর পাহাড়ি জমির উপর বড়াকোঠি বাংলোটি। বছর দশেক আগে এটি রাজবাড়ির সাজসজ্জায় সজ্জিত ছিল। বাংলোর সামনে আছে বিশাল একটি মাঠ। যা এককালে রাজবাড়ির তকমা পেত। তবে এখন গোটা বাংলোই ভূতুড়ে বাড়ির চেহারা নিয়েছে। বড় বড় ঘর থাকলেও সবটাই অবহেলায় পড়ে আছে। স্থানীয়দের দাবি, বাংলোটির এতটাই শক্তপোক্ত যে এটি আরও একশো বছর এভাবেই দাঁড়িয়ে থাকতে পারবে।