Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বারাবনী: নাম ‘অরি-জিৎ’, ‘হেরো’ তকমায় বিদ্ধ বারাবনীর পদ্মপ্রার্থী, সুবিধা তৃণমূলের

অরিজিৎ কথার অর্থ, যে শত্রুকে জয় করে। নামের সঙ্গে শত্রুজয়ী তকমা থাকলেও বারাবনির বিজেপি প্রার্থী অরিজিৎ রায় এখনো কোনো রাজনৈতিক ময়দানে জয়লাভ করতে পারেনি।

বারাবনী: নাম ‘অরি-জিৎ’, ‘হেরো’ তকমায় বিদ্ধ বারাবনীর পদ্মপ্রার্থী, সুবিধা তৃণমূলের
  • ১১ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সুমন তেওয়ারি, আসানসোল: অরিজিৎ কথার অর্থ, যে শত্রুকে জয় করে। নামের সঙ্গে শত্রুজয়ী তকমা থাকলেও বারাবনির বিজেপি প্রার্থী অরিজিৎ রায় এখনো কোনো রাজনৈতিক ময়দানে জয়লাভ করতে পারেনি। তাঁর পরিবারকেই বারবার ভরসা করেছে বিজেপি। ২০১৬ সালে বিজেপি প্রার্থী করেছিল তাঁর বাবা অমল রায় ওরফে মনুকে। তিনি মাত্র ২৫ হাজার ২২৪টি ভোট পান। ২০২১ সালে বিজেপির প্রার্থী করেছিল অরিজিৎকে। প্রায় ২৪ হাজার ভোটে পরাজিত হন তিনি। এমনকী, ২০২৩ সালের ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েত নির্বাচনে তাঁর বাড়ি নুনি এলাকা থেকে পঞ্চায়েত সমিতির প্রার্থী হয়েছিলেন তাঁর মা সুচন্দ্র রায়। নিজের গ্রামেও হেরে গিয়েছেন অরিজিতের মা। এই ‘হেরো’ তকমায় বাড়তি অক্সিজেন জোগাচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেসকে। ইতিমধ্যেই অরিজিতদের এই হারের ইতিহাস তৃণমূল প্রচারের হাতিয়ার করছে। অন্যদিকে, বারবার একই পরিবার থেকে প্রার্থী করা নিয়ে বিজেপি কর্মীদের একাংশও ক্ষুব্ধ। দলের ‘হুইপ’ থাকায় প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করতে না চাইলেও রায়দের ‘শিক্ষা’ দিতে অনেকেই প্রস্তুতি নিচ্ছেন। 

Advertisement

স্থানীয়দের অভিযোগ, এই বিধানসভা এলাকায় অবৈধ পাথর খাদান, ক্র্যাশার, অবৈধ কাঠের ব্যবসা, অবৈধ ইটভাটা চালানোর অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি কয়লা কারবারেরও স্বর্গরাজ্য হয়েছে বারাবানি। কিন্তু বিরোধীরা এনিয়ে আওয়াজ তোলে না। শুধু ভোটের সময় ভোট চাইতে আসে। বর্তমান বিজেপি প্রার্থীর বিরুদ্ধে অভিযোগ, ২০২১ সালে ভোটে পরাজিত হওয়ার পর তিনি স্থানীয় বিজেপি কর্মীদের পাশে দাঁড়াননি। ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনের পর রাজনীতি থেকে কার্যত ‘গায়েব’ হয়ে যান। সেই সময়ে বিজেপির অন্য নেতারা সিলিকোসিস সহ নানা অবৈধ কাজ নিয়ে সরব হলেও দেখা যায়নি অরিজিতকে। অনেকেই দাবি করেন, সেই সময়ে নুনি এলাকাতেই জমি ব্যবসায় মন দিয়েছিলেন পরাজিত বিজেপি প্রার্থী।
গত বছর দেবতনু ভট্টাচার্য জেলা সভাপতি হওয়ার পর ফের জেলার সাধারণ সম্পাদক পদ পান অরিজিৎ। কোলিয়ারির অনিয়মের প্রতিবাদে জেলা সভাপতিকে নিয়ে একবার আন্দোলনও করেন। তারপর মাঝপথে সেই আন্দোলন থেমে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে বিস্তর প্রশ্ন উঠে। বিজেপির তিন মণ্ডলস্তরের নেতাকে জেলা পার্টি অফিসে ব্যাপক মারধর করার অভিযোগ ওঠে অরিজিতের বিরুদ্ধে। এহেন প্রার্থী তৃণমূলকে বাড়তি অক্সিজেন দিচ্ছে বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছে। বিষয়গুলি নিয়ে অরিজিৎ বলেন, শেষবার ভোটে দাঁড়িয়ে ৬৫ হাজার ভোট পেয়েছি। এবার তৃণমূলকে পরাজিত করব। বিজেপির জেলা সাধারণ সম্পাদক অপূর্ব হাজরা বলেন, বারবার পরাজিত হওয়ার পর মলয় ঘটকের নামও ‘হেরো’ হয়ে গিয়েছিল। তারপরেও তো তৃণমূল তাঁকেই প্রার্থী করেছিল। 
বারাবনির তৃণমূল ব্লক সভাপতি অসিত সিং বলেন, যারা নিজের গ্রামে জিততে পারে না, তারা বিধানসভায় জিতবে না, সেটা নিজেরাও জানে। বারাবনিতে কেউ প্রার্থী হতে চায় না বলেই ওরা একই পরিবার থেকে বারবার টিকিট পায়।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ