নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: বেলঘরিয়া এক্সপ্রেসওয়ের ধারে পানশালায় গুলিচালনার ঘটনায় মূল অভিযুক্ত বিট্টু দাস সহ তিন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিস। দমদমের মাঠকলের বাসিন্দা বিট্টুকে রবিবার হুগলি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। আজ, সোমবার তাকে আদালতে তোলা হবে। এই ঘটনায় ধৃত অন্য দু’জন হল সুজিত দে ওরফে বেটা এবং গোপাল বিশ্বাস। রবিবারই তাদের বারাকপুর মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক ৬ দিনের পুলিস হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। এদিকে, বিট্টু গ্রেপ্তার হতেই দমদমের রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। কারণ, খুন, গুলি চালানোর মতো একাধিক ঘটনায় আগে থেকেই অভিযুক্ত বিট্টু। অভিযোগ, প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের ছত্রছায়ায় এলাকায় সিন্ডিকেট ব্যবসার অন্যতম পান্ডা হয়ে উঠেছিল সে। শুক্রবার রাতে দমদমের মাঠকল এলাকায় পানশালায় গুলি চলে। গুলিবিদ্ধ হন ওই পানশালার ম্যানেজার পিন্টু রুদ্র। তাঁর বুকে গুলি লাগে। শারীরিক অবস্থা এখনও সঙ্কটজনক। সেই ঘটনাতেই পুলিস বিট্টু দাস সহ তিন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করল।
কে এই বিট্টু দাস? স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বিট্টু প্রথমে দক্ষিণ দমদমের চার নম্বর ওয়ার্ডে ভাড়ায় থাকত। তবে তার ডেরা ছিল পুরসভার তিন নম্বর ওয়ার্ডের প্রমোদনগরে। ওই এলাকার চানা ওরফে মামা তার অন্যতম ‘মেন্টর’। পরবর্তী সময়ে ওই ওয়ার্ডের পশ্চিম রবীন্দ্রনগর এলাকায় ফ্ল্যাট কেনে বিট্টু। সেখানকার ভোটারও হয় সে। ২০১৮ সালের মার্চ মাসে মধ্যমগ্রামের একটি সেলুনে ‘ঢাকাই গৌতম’ খুন হয়। সেই ঘটনায় জড়িত অভিযোগে পুলিস বিট্টুকে গ্রেপ্তার করেছিল। গত বছর ঈদের দিন বেলঘরিয়া এক্সপ্রেসওয়ের এই বারের সামনেই শূন্যে গুলি চালিয়ে গ্রেপ্তার হয়েছিল সে। পুলিস সূত্রে খবর, তারপর এই পানশালাটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। তারপর কীভাবে সেটি ফের চালু হল, খতিয়ে দেখছে পুলিস। তবে বিট্টুর কীর্তি এখানেই শেষ নয়! ২০২২ সালের পুরসভা ভোটে তার ‘অবদান’ এলাকায় কান পাতলেই শোনা যায়। কাউন্সিলার গোপা পাণ্ডের সঙ্গে তার বহু ছবি ইতিমধ্যে সমাজমাধ্যমে ছড়িয়েছে।
এহেন বিট্টু দক্ষিণ দমদমের তিন নম্বর ওয়ার্ডে অফিস খুলে বিল্ডার্সের ব্যবসা শুরু করেছিল। রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে সে তিন ও চার নম্বর ওয়ার্ডে ইমারতি সামগ্রী বিক্রির সিন্ডিকেটের পান্ডা হয়ে উঠেছিল। সন্ধ্যা হলেই বিট্টু তার দলবল নিয়ে বেলঘরিয়া এক্সপ্রেসওয়ে বা কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ের ধারের বিভিন্ন পানশালায় আসর জমাত। রাতের ফূর্তিতে উড়ে যেত লক্ষ লক্ষ টাকা। এ বিষয়ে তৃণমূল কাউন্সিলার গোপা পান্ডে বলেন, ‘শুনলাম, ধৃত যুবক আমার ওয়ার্ডের ভোটার। ওর সঙ্গে আমার কোনও পরিচয় বা যোগাযোগ নেই। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে আমাদের যেতে হয়। অনেকেই ছবি তোলে। আমি তাদের অনেককে চিনিও না।’
প্রসঙ্গত, শুক্রবার বিট্টু ও তার দলবল বেলঘরিয়া এক্সপ্রেসওয়ের ধারের ওই পানশালায় অনেক রাত পর্যন্ত মদ্যপান করছিল। রাত প্রায় ১টা বেজে যাওয়ায় পানশালার কর্মীরা তাদের মদ ‘সার্ভ’ করতে অস্বীকার করে। তা নিয়েই ঝামেলার সূত্রপাত। তিনজনকে পানশালার বাউন্সাররা সেখান থেকে বের করে দিলে তারা সবাইকে দেখে নেওয়া হুমকি দেয়। তার কিছুক্ষণের মধ্যেই তারা পানশালায় ফিরে এসে গুলি চালায়।