নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পাঁচ বছর আগে মৃত্যু হয়েছে মায়ের। তারপর থেকেই মেয়ের উপর যৌন নির্যাতন শুরু করে বাবা। কিন্তু, লোকলজ্জার ভয়ে কাউকে কিছু বলতে পারেনি ষষ্ঠ শ্রেণির ওই ছাত্রী। দীর্ঘ চার বছর ধরে লাগাতার ধর্ষণের অভিযোগ এনে বাবার বিরুদ্ধেই মামলা করল ওই কিশোরী। নির্যাতিতার লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ধর্ষণ ও পকসো আইনে মামলা রুজু করেছে বাঁশদ্রোণী থানার পুলিস। অভিযুক্ত বাবাকে গ্রেপ্তার করেছেন তদন্তকারীরা। বুধবার ধৃতকে আলিপুরের বিশেষ পকসো আদালতে পেশ করা হয়। বিচারক অভিযুক্তকে ২৮ জুলাই পর্যন্ত পুলিস হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।
পুলিস সূত্রে খবর, অভিযুক্ত পেশায় ব্যবসায়ী। তাঁর বিদেশি মদের দোকান রয়েছে। এই ব্যবসায়ীর দু’টি বিয়ে। প্রথমপক্ষের দুই সন্তান রয়েছে। ওই স্ত্রীর সঙ্গে বিবাহ বিচ্ছেদ হয়ে যাওয়ার পর ফের বিয়ে করেন ওই ব্যক্তি। দ্বিতীয়পক্ষেও এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। বছর পাঁচেক আগে অসুস্থতাজনিত কারণে দ্বিতীয় স্ত্রীর মৃত্যু হয়। মায়ের মৃত্যুর পর দ্বিতীয় পক্ষের বড় ছেলে কর্মসূত্রে অন্যত্র থাকতে শুরু করেন। বাঁশদ্রোণীর বাড়িতে বাবার সঙ্গে থাকত ছোট মেয়ে। ১৮ জুলাই থানায় বাবার বিরুদ্ধে ধর্ষণের লিখিত অভিযোগ করে ওই কিশোরী। তার মেডিক্যাল পরীক্ষা করায় পুলিস। তদন্তকারীদের কাছে নির্যাতিতা জানিয়েছে, ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে নিয়মিত তাকে ধর্ষণ করছে বাবা। কিন্তু, বাবার বিরুদ্ধে কারও কাছে মুখ খোলার সাহস পায়নি সে। শেষমেশ কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে ষষ্ঠ শ্রেণির এই ছাত্রী। এরপরেই থানায় অভিযোগ করে সে।
বুধবার অভিযুক্তকে আলিপুরের বিশেষ পকসো আদালতে বিচারক রিম্পা রায়ের এজলাসে তোলা হয়। সেখানে নির্যাতিতার মেডিকো লিগ্যাল পরীক্ষার জন্য আবেদন জানান সরকারি আইনজীবী মাধবী ঘোষ। সেই আর্জি মঞ্জুর করেন বিচারক। পাশাপাশি, অভিযোগকারিণীর গোপন জবানবন্দির আবেদনও মঞ্জুর হয়। অভিযুক্তের আইনজীবী জামিনের আবেদন জানান। তার বিরোধিতা করেন সরকারি আইজনীবী বলেন, ‘অভিযোগ গুরুতর। অভিযুক্ত জামিন পেলে নির্যাতিতার উপর ফের অত্যাচার হতে পারে। একইসঙ্গে এই কেসে জামিন হলে সমাজের কাছে বিরূপ বার্তা যাবে।’ এজলাসের বাইরে তিনি জানান, পুলিস দ্রুত তদন্ত করছে। তদন্ত প্রক্রিয়া শেষ হলেই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেওয়া হবে। আদালত সূত্রে খবর, বিচারকের নির্দেশে নির্যাতিতাকে একটি সরকারি হোমে রাখা হয়েছে।